তওবার প্রভাব ও বরকত

তওবার প্রভাব ও বরকত
তওবা গুনাহগুলোকে মুছে দেয় এবং ধ্বংস করে, যেমন সূরা তাহরীমের আয়াত হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো।
যখন তওবা সত্যিকার অর্থে হয়, এবং হৃদয়ের গভীর থেকে উত্থিত হয় এবং সকল শর্ত পূরণ করে, তখন নিশ্চিতভাবে তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়, এবং এর প্রভাব ও বরকত প্রকাশ পায়। তওবার বরকত ও উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক, যা কুরআনের আয়াত ও হাদীসে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; এর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১. তওবা গুনাহগুলোকে মুছে দেয় এবং ধ্বংস করে, যেমন সূরা তাহরীমের আয়াত ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো’-এর পর বলা হয়েছে: ‘সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের গুনাহগুলো মোচন করবেন’।
২. তওবা শুধু গুনাহকে ঢেকে দেয় এবং মুছে দেয় না, বরং তা নেকিতে পরিণত করে; যেমন সূরা ফুরকানের ৭০ নং আয়াতে বলা হয়েছে: ্রতবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেনগ্ধ।
৩. সত্যিকার তওবাকারী আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ভালোবাসা লাভ করে, এমনকি আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, এবং তাকে ও তার পরিবারকে জান্নাতুল ফিরদাউস ও জান্নাতুল আদনে প্রবেশের জন্য দোয়া করেন।
একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, মহানবী (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তওবাকারীদের (সত্যিকার) তিনটি মর্যাদা দান করেছেন, যার মধ্যে একটি যদি আকাশ ও পৃথিবীর সকল বাসিন্দাকে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের মুক্তির কারণ হবেগ্ধ।
এরপর তিনি এই আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন’, এবং বলেন: ‘যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে তিনি শাস্তি দেন না’।
এরপর তিনি এই আয়াতগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেন: ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে থাকে, তারা তাদের রবের প্রশংসা সহকারে তাসবিহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (এবং বলে) হে আমাদের রব! তোমার রহমত ও জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করেছে; অতএব, যারা তওবা করেছে এবং তোমার পথ অনুসরণ করেছে, তাদের ক্ষমা করো এবং তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করো। হে আমাদের রব! তাদেরকে জান্নাতুল আদনে প্রবেশ করাও, যা তুমি তাদেরকে প্রতিশ্রæতি দিয়েছ, এবং তাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে যারা সৎকর্মশীল, তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর তাদেরকে সকল প্রকার মন্দ থেকে রক্ষা করো, এবং যাকে তুমি মন্দ থেকে রক্ষা করো, তাকে তুমি রহমত করেছ, এবং এটাই হলো মহাসাফল্যগ্ধ

Related posts

ইমাম সাজ্জাদ (আ.): ইবাদত, ধৈর্য ও মানবতার অনন্য আদর্শ

কারবালার মহাবিপ্লব ও ইতিহাসের অমর কণ্ঠস্বর হযরত যয়নাব (আ.)

ইমাম হোসেনের (আ.) শাহাদাতত্তোর ইয়াযিদের আনন্দ প্রকাশ: ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More