কঠিন সময়ে অবিচল থাকাই হলো প্রকৃত বীরত্ব। মানুষের জীবনে সুখ এবং দুঃখ—উভয়ই আসে পরীক্ষার জন্য। কিন্তু বিপদে পড়লে আমরা অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, ধৈর্য বা ‘সবর’ কেবল একটি গুণ নয়, বরং এটি ঈমানের অর্ধেক।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে ধৈর্যশীলদের জন্য বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
বিপদ যখন আমাদের ঘিরে ধরে, তখন আমরা একা নই; যদি আমরা ধৈর্য ধরি, তবে স্বয়ং সৃষ্টি কর্তা আমাদের সাথী হন। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?
আহলে বাইত (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা
ধৈর্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন আহলে বাইত (আ.)। কারবালার সেই কঠিন প্রান্তরে যখন ইমাম হোসাইন (আ.) তাঁর সব হারালেন, তখনও তাঁর মুখে ছিল আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি।
ইমাম আলী (আ.) ধৈর্যের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন:
“ঈমানের ক্ষেত্রে ধৈর্যের স্থান ঠিক তেমনি, শরীরের ক্ষেত্রে মাথার স্থান যেমন। যার ধৈর্য নেই, তার ঈমান নেই।” (সূত্র: নাহজুল বালাগা)
অর্থাৎ, মাথা ছাড়া শরীর যেমন অকেজো, ধৈর্য ছাড়া ঈমানও তেমনি প্রাণহীন। বিপদে অস্থির হওয়া মানে হলো আল্লাহর ফয়সালার ওপর অসন্তুষ্ট হওয়া, যা একজন মুমিনকে মানায় না।
ধৈর্য কীভাবে ধারণ করবেন?
১. দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন: মনে রাখুন, এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়। এখানকার কষ্টও চিরস্থায়ী নয়। ২. অতীতের কথা ভাবুন: আপনার জীবনে এর চেয়েও বড় বিপদ হয়তো আগে এসেছিল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে উদ্ধার করেছেন। এবারও করবেন। ৩. ইমামদের জীবনী পড়া: বিবি যয়নব (সা.আ.) কারবালার সব হারিয়েও বলেছিলেন, “আমি সুন্দর (আল্লাহর ইচ্ছা) ছাড়া আর কিছুই দেখছি না।” এই চেতনা আমাদের শক্তি যোগাবে।
ধৈর্য মানে পরাজয় নয়, ধৈর্য মানে হলো যুদ্ধের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা। জীবনের প্রতিটি ভোরে যখন নতুন সূর্য ওঠে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্ধকার যতই গভীর হোক, আলো আসবেই। আপনার বর্তমান কঠিন সময়টি আসলে আপনার আত্মাকে শক্তিশালী করার একটি প্রশিক্ষণ মাত্র।
সংকলন: ইয়াসিন