নবী করীম (সা.) এর দৃষ্টিতে হযরত হোসাইন (আ.) এর মর্যাদা

by Syed Tayeem Hossain

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম হযরত হাসান (আ.) ও হযরত হোসাইন (আ.) কে গভীরভাবে ভালবাসতেন।

হযরত আবু আইউব আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একদিন আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে দেখেন হযরত হাসান (আ.) এবং হযরত হোসাইন (আ.) দু’জন তাঁর পবিত্র বুকের ওপর খেলছেন। তিনি তাঁকে বললেন, ‘‘হে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কী তাঁদেরকে ভালবাসেন?” তিনি জবাব দিলেন, ‘‘আমি কীভাবে তাদের ভাল না বেসে পারি, যেখানে পার্থিব জীবনে তারা আমার রায়হানা তথা জান্নাতের সুগন্ধি!” (আত-তাবারানি)

হযরত ই’য়ালা আল-আ’মিরি (রা.) বলেন, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দেখলেন হযরত হোসাইন (আ.) কিছু ছেলের সাথে খেলছেন। তিনি তাঁকে সাথে নিতে চাইলেন। কিন্তু শিশু হোসাইন একবার এদিকে আরেকবার ওদিকে ছোটাছুটি করতে থাকলেন। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম)ও যে পর্যন্ত তাঁকে কব্জা করতে না পারলেন সে পর্যন্ত তাঁর সাথে ছোটাছুটি করতে থাকলেন। হযরত হাসান (আ.) তাঁর ছোট্ট এক হাত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম এর ঘাড় মোবারকের নিচে রাখলেন। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখের ওপর মুখ রেখে চুমু খেতে বললেন, ‘‘হোসাইন আমার থেকে আর আমি হোসাইন থেকে। যে হোসাইনকে ভালবাসে আল্লাহ্ তাকে ভালবাসেন। সে আমার দৌহিত্রের মধ্যে একজন। যে আমাকে ভালবাসে সে যেন হোসাইনকে ভালবাসে।” (তারিখ বিন আসাকির। ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত। ইয়ালা বিন মুররাহ আত তাকাফি (রা.) এর বরাতে)

প্রিয় দৌহিত্রের প্রতি হযরত রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালবাসা কত গভীর ছিল এ হাদিস শরীফে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি তাঁকে সাথে সাথেই রাখতেন। এমনকি দাওয়াতেও শরীক করতেন। তাঁর শিশুসুলভ চপলতাকে সহাস্যে সহ্য করে যেতেন। স্নেহ মমতায় তাঁকে চুমু খেতেন। তাঁর সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। বলতেন, ‘‘সে ‘সিবতু মিনাল আসবাত’।” অর্থাৎ উত্তম জাতির অংশ। তিনি তাঁর পক্ষে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ জানাতেন। তিনি মুসলিম জাতির প্রতি আহবান জানিয়েছেন তাঁকে ভালবাসতে। এটা এমন এক ভালবাসা যা সহজেই আমাদের মনপ্রাণ ছুঁয়ে যায়।

হযরত উসামা বিন যায়েদ (রা.) বলেন, ‘‘আমি এক বিশেষ প্রয়োজন বশতঃ একবার রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে যাই। তিনি বাইরে আসলেন। তাঁর পবিত্র হাত মোবারকে কিছু একটা ধরা ছিল কিন্তু তা কী আমি বুঝতে পারছিলাম না। প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে আমি জানতে চাইলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম। আপনার বাহুতে কাকে ধারণ করে আছেন? অতঃপর তিনি তা প্রকাশ করলেন। আমি দেখলাম হাসান এবং হোসাইন তাঁর পিঠের ওপর। তিনি বললেন, ‘এরা আমার সন্তান এবং আমার কন্যার সন্তান। হে আল্লাহ্! আপনি জানেন যে, আমি তাদের ভালবাসি। অতএব, আপনিও তাদের ভালবাসুন।’ এবং তিনি এ কথা দু’বার বললেন।” (তারিখ বিন আসাকির, ৪র্থ খন্ড)

হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম হাসান-হোসাইনের জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে বলতেন, ‘‘আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে আমি তোমাদের পানাহ চাই, সমস্ত শয়তান, বিষাক্ত, নীচাশয় জীব ও ঈর্ষাপরায়ণ নজর হতে।” (তিরমীজি)

একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (আ.) এর গৃহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হযরত হোসাইন (আ.)-এর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি হযরত ফাতিমা আয-যাহরা (আ.) কে ডেকে বললেন, ‘‘হে যাহরা! তুমি কি জান না তার কান্না আমাকে পীড়া দেয়?”

হযরত হোসাইন (আ.)ও রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর এ অতুলনীয় ভালবাসাকে যথাযথ মর্যাদা দিতেন। তিনি কখনো তাঁর কাছ ছাড়া হতেন না। এমনকি আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতে মিম্বরে দাঁড়াতেন তখনও তিনি তাঁর কাছে থাকতেন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য ও ভালবাসা পেয়ে তিনি তাঁকে অনেক সময় সম্বোধন করতেন ‘‘হে আমার পিতা” বলে। (সূত্র: ইন্টানেট)###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔