নামায পরিত্যাগের পরিণতি কি?

নামায পরিত্যাগকারী সব সময় উদ্বিগ্ন ও অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। কারণ নামায মানুষের মাঝে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। যদি কেউ নিয়মিত নামায পরিত্যাগ করে তাহলে সে ধীরে ধীরে মানসিক রোগগ্রস্থ হয়ে পড়বে।

হয়তো আমাদের চারিপাশে এমন অনেককে দেখা যাবে যারা কখনও নামায আদায় করে না। এ অবস্থা দেখে হয়তো কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, নামায পরিত্যাগ করলে দুনিয়া ও পরকালে মানুষের পরিণতি কি হয়?

ইরানের নামায কায়েম পরিষদের গবেষক সাইয়েদ হাসান মুসাভীর আলোচনার সারাংশ আমরা তুলে ধরছি-

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, যে ব্যক্তি আমাকে ভুলে যাবে; কিয়ামতের দিন সে অন্ধ অবস্থাতে উত্থিত হবে। সূরা তোহার ১২৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে,

« وَ مَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْري فَإِنَّ لَهُ مَعيشَةً ضَنْكاً وَ نَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيامَةِ أَعْمى‏»

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর স্বরণ থেকে দূরে সরে আসবে, সে বিপদাপদের শিকার হবে এবং কিয়ামতের দিন অন্ধ হিসেবে উত্থিত হবে।

নামায পরিত্যাগকারী আল্লাহর স্বরণ থেকে বঞ্চিত। একজন নামাযি প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত নামাযে সূরা ফাতেহা পাঠকালে -«اياك نعبد و اياك نستعين» অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ আমরা তোমার ইবাদত-বন্দেগী করি এবং তোমার নিকটই সাহায্য কামনা করি’ এ আয়াতটি বারংবার পাঠ করে। আর এ আয়াতের মাধ্যমে একজন নামাযি ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা প্রকাশের সুযোগ পায়।

আল্লাহ তায়াল সূরা রাদে’র ২৮ নং আয়াতে বলেছেন যে,

« أَلا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ» অর্থাৎ আল্লাহর স্বরণ অন্তরে প্রশান্তি আনয়ন করে’। নামায আল্লাহর স্বরণের সর্বোত্তম মাধ্যম। কিন্তু যারা নামায পরিত্যাগ করে তারা এ প্রশান্তির সুযোগ পায় না।

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More