ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “কোরআনের পাতা থেকে কোরআন তেলাওয়াত করা (অর্থাৎ এটি দেখে তেলাওয়াত করা, স্মৃতি থেকে নয়) মাতা-পিতার শাস্তি হালকা করে, এমনকি যদি তারা উভয়েই কাফের হয়।” (উসুলে কাফী, খঃ ২, পৃঃ ৬১৩)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “কোরআন আল্লাহর (প্রদত্ত) আমানত, তার সৃষ্টির প্রতি; তাই প্রতিটি মুসলিমের জন্য এই আমানতের দিকে নজর দেওয়া এবং প্রতিদিন কোরআনের (কমপক্ষে) ৫০টি আয়াত তেলাওয়াত করা কাম্য।” (উসুলে কাফি, খঃ ২, পৃঃ ৬০৯)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে সে (সকলের) আভাবমুক্ত থাকবে এবং এরপর তার কোন কিছুরই অভাব থাকবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি (যে কোরআন তিলাওয়াত করে না), তাকে কোন কিছুই অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে না (এবং সে সর্বদা অন্যদের অভাবগ্রস্ত থাকবে)।” (সাওয়াবুল আ’মল, পৃঃ ২৩০)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করছে তার জন্য এটি যুক্তিসঙ্গত যে যখন সে কোরআনের এমন একটি আয়াতে পৌঁছায় যেখানে কিছু চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তখন সে আল্লাহর কাছে সেই জিনিসটি প্রার্থনা করবে, অথবা যখন সে কোরআনের এমন একটি আয়াতে পৌঁছায় যেখানে শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন এবং শাস্তি থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করে।” (উসুলে কাফী, খঃ ৩, পৃঃ ১-৩)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “তিনটি জিনিস (কিয়ামতের দিন) মহান আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে: একটি পরিত্যক্ত মসজিদ যেখানে শহরের লোকেরা নামাজ জড়ত না, একজন আলেম যিনি অজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন (কিন্তু লোকেরা তাকে ব্যবহার করত না) এবং কোরআন যা পড়া হয়নি এবং ধুলো জমার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।” (উসুলে কাফী, খঃ ২, পৃঃ ৬১৩)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করে এবং এর সাথে প্রতিশ্রæতি দেয় যে, তা মুখস্থ করার চেষ্টা করবে, যদিও এতে অনেক কষ্ট হতে পারে, আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন।” (সওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ ২২৭)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআনকে রক্ষা করে এবং তার উপর আমল করে, সে কিয়ামতের দিন সম্মানিত, নিবেদিতপ্রাণ ফেরেশতাদের সাথে থাকবে।” (উসুলে কাফী, খঃ ২. পৃঃ ৬০৩)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে এবং একজন ঈমানদার যুবক হয়, কোরআন তার মাংস ও রক্তের সাথে মিখে যায় এবং আল্লাহ মহান তাকে সম্মানিত, নিবেদিতপ্রাণ ফেরেশতাদের সাথে স্থান দেবেন। উপরন্তু কোরআন কিয়ামতের দিন (তার এবং জাহান্নামের মধ্যে) একটি বাধা হিসেবে কাজ করবে।” (সওয়াবুল আ’মল, পৃঃ ২২৬)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই কোরআন তাড়াহুড়ো করে বা খুব দ্রুত পাঠ করা উচিত নয়। বরং এটি ধীরে ধীরে, পরিমাপিত অংশে পাঠ করা উচিত। যখনই আপনি এমন একটি আয়াতে পৌঁছান যা বেহেশত সম্পর্কে কথা বলে, তখন (সেই আয়াতে) থামুন এবং আল্লাহর কাছে (বেহেশতের অনুগ্রহ) প্রার্থনা করুন। এবং যখনই আপনি এমন একটি আয়াতে পৌঁছান যা জাহান্নাম সম্পর্কে কথা বলে, তখন (সেই আয়াতে) থামুন এবং জাহান্নামের আগুন (শাস্তি) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন।” (উসুলে কাফী, খঃ ৩, পৃঃ ৩০১)
ইমাম জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, “আমি প্রতিটি ঘরে একটি কোরআন দেখতে চাই যাতে এর মাধ্যমে আল্লাহ শয়তানকে (সেই ঘর থেকে) বিতাড়িত করতে পারেন।” (ফাযহলুল কোরআন, পৃঃ ৬৬৯) (সূত্র ঃ হাওযা নিউজ এজেন্সি) (সংকলনে: মল্লিক শিহাব ইকবাল)
334
আগের পোস্ট
