ভ্রাতৃত্বের অধিকার

ভ্রাতৃত্বের অধিকার
ইমাম হাসান আসকারী (আ.) দ্বীনী ভ্রাতৃত্বের অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ এবং তা যথাযথভাবে মেনে চলতে সবাইকে আদেশ দিয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীনী ভাইয়ের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করবে, আল্লাহ তাকে (কিয়ামতের দিন) সত্যবাদিদের কাতারে সামিল করবেন। অতঃপর তিনি দ্বীনী ভাইয়ের সাথে আমিরুল মু’মিনিন আলীর (আ.) সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছেন :
জনৈক মু’মিন ব্যক্তি ও তার পুত্র আমিরুল মু’মিনিন আলীর (আ.) নিকট আসেন। ইমাম (আ.) তাদের উভয়কেই নিজের পাশে বসান। অতঃপর দুপুর হলে ইমাম (আ.) উক্ত মেহমানদের জন্য খাবার আনার আদেশ দেন। ইমামের (আ.) দাস কাম্বার বাড়ীতে যে খাদ্য ছিল তা মেহমানদের জন্য নিয়ে আসে। যেহেতু আহারের পর হাত ধৌত করা মুস্তাহাব, সেহেতু ইমাম (আ.) তাঁর দাসকে এক বদনা পানি, একটি পাত্র ও তোয়ালে আনার আদেশ দেন।
অতঃপর ইমাম আলী (আ.) নিজ স্থান থেকে উঠে কাম্বারের নিকট থেকে পানির বদনা নিয়ে উক্ত মু’মিন মেহমানের হাতে পানি ঢালতে শুরু করেন। মু’মিন ব্যক্তিটি ইমামের (আ.) এমন মাধুর্যপূর্ণ আচরণ দেখে লজ্জাবনত হয়ে বলল: হে আমিরুল মু’মিনিন! আপনি নিজে আমার হাতে পানি ঢালছেন, এটা আল্লাহ দেখলে আমি লজ্জা পাব। ইমাম (আ.) বলেন: আল্লাহ দেখছেন যে, আমি দ্বীনী ভাইদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। এরপর যখন পুত্রের হাত ধৌতের পালা আসে তখন ইমাম (আ.) পানির বদনাটি স্বীয় পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়ার নিকট দিয়ে বলেন: যদি এ মু’মিন ব্যক্তির পুত্র একাকী আসত, তাহলে আমি নিজেই তার হাত ধুইয়ে দিতাম। কিন্তু যেহেতু পিতা ও পুত্রের সম্মান সমান নয়, সেহেতু তুমি পুত্রের হাত ধুইয়ে দাও।
ইমাম হাসান আসকারী (আ.) এ শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনার পর বলেন,
“যে ব্যক্তি এক্ষেত্রে আলীর (আ.) পদাংক অনুসরণ করবে, সেই প্রকৃত শিয়া।”

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More