মসজিদুন্নবীতে (সা:) ইমাম মুসা
কাজীমের (আ:) সাথে হারুনুর রশিদের সাক্ষাত
শিয়া মাযহাবের আহকামের দৃষ্টিতে মি’রাসের বিভিন্ন স্তর রয়েছে; এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি স্তর মৃত ব্যক্তির কাছে পর্যায়ক্রমে অপর স্তরের তুলনায় নিকটতম। সন্তানাদি ও পিতামাতা প্রথম স্তরে, ভাইবোন দ্বিতীয় স্তরে, চাচা, ফুফু, মামা, খালা তৃতীয় স্তরে।
কিন্তু সুন্নী মাযহাবে এক্ষেত্রে মূল স্তরের পাশে একটি প্রশাখাও উত্থাপিত হয়েছে। সেটা হচ্ছে মি’রাসের ক্ষেত্রে মাইয়াতের সন্তানের পাশে চাচারও অংশিদারিত্ব আছে। হয়তো কেউ কেউ এ বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি মাযহাবগত পার্থক্য মনে করতে পারে। কিন্তু এখানে একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হল রাসূলের (সা.) চাচা হযরত আব্বাসকে মি’রাসের ক্ষেত্রে নবী নন্দিনী ফাতেমা যাহরার (আ.) সমকক্ষ করা; যাতে তার ও আলী ইবনে আবি তালিবের (আ.) মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হয়।
উমাইয়াদের শাসনকাল শেষে আব্বাসীয়রা এ বিষয়টিকে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করত। তারা মৃত ব্যক্তির মি’রাসের ক্ষেত্রে স্বীয় সন্তানকে চাচার সম পর্যায়ে স্থান দিত। তারা এ পন্থায় মানুষের নিকট এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করত যে, আব্বাসীয়রা রাসূলের (সা.) দিক থেকে খেলাফতের অগ্রাধিকার রাখে। এখন আমরা এখানে এমন একটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি; যা উপরোক্ত বিষয়ের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে, একদা খলিফা হারুনুর রশিদ মদীনায় প্রবেশ করে। তার আগমন উপলক্ষে এক বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে বনি হাশিম, আনসার ও মুহাজিরদের সন্তানাদি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইমাম মুসা কাজীম (আ.) অনিচ্ছা সত্বেও সে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক শেষে হারুন ইমাম মুসা কাজীমকে (আ.) বলে: আসেন, আমরা রাসূলুল্লাহর (সা.) কবর মোবারক জিয়ারত করি। সে ইমামের (আ.) হাত ধরে রাসূলের (সা.) মাজারের নিকট যেয়ে এভাবে সালাম পাঠ করল, অর্থাৎ, সালাম হোক আপনার প্রতি হে আমার চাচার সন্তান! সে এ বাক্যের মাধ্যমে গৌরব প্রকাশ করছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার চাচার সন্তান। এমন সময় ইমাম (আ.) হারুনের হাত থেকে নিজের হাত বের করে নিয়ে রাসূলের (সা.) কবর মোবারকের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, অর্থাৎ, সালাম হোক আপনার প্রতি হে পিতাজান! ইমামের (আ.) এ বাক্য শোনার পর হারুনের চেহারা ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করে। সে নিজের অজান্তেই ইমামের (আ.) মহিমান্বিত ফজিলত অকপটে স্বীকার করে বলল: হ্যাঁ, এটা এক মহান সৌভাগ্য এবং আপনি সে সৌভাগ্যের অধিকারী। (আল ফুসুলুল মুখতারাহ, পৃ.৩৬।)
(মাসুমগণের আ. মুনাযিরা বই থেকে)