৬। প্রত্যেক তিন দিন ধরেই রক্ত আসা অব্যাহত থাকা:
অবশ্যই যেন তিন ধরেই রক্ত আসা অব্যাহত থাকে। কিন্তু এটা জরুরী নয় যে তিনদিনের সারাক্ষণ ধরে রক্ত আসতে হবে এবং যদি জরায়ুতে রক্ত বিদ্যমান থাকে তাহলেই যথেষ্ট। আর যদি তিন দিনের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য রক্ত থেকে মুক্ত হয়ে যায় আর সে সময়টুকু এতই স্বল্প হয়ে থাকে যে বলা যাবে পুরো তিন দিনেই জরায়ুতে রক্ত বিদ্যমান ছিল তাহলেও সেটা হাইস হবে। (উরওয়াতুল উছকা, হায়েয অধ্যায়, মাঃ ৬, তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৪৩)
স্মর্তব্য:
(ক) ক্রমধারায় তিন ধরে রক্ত আসা আর পুরো তিনদিন ধরে রক্ত আসা কথা দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ক্রমধারায় তিন দিন বলতে পর পর তিন দিন বলা হয়েছে। কিন্তু পুরো তিন দিন ধরে অব্যাহত থাকা বলতে বুঝানো হয়েছে যেন এর মধ্যে রক্ত আসা বন্ধ না হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষণিকের জন্যে বন্ধ হলে ক্ষতি নেই।
(খ) পুরো তিন দিন রক্ত আসা অব্যাহত থাকা বলতে এমন কোন জরুরতা নেই যে জরায়ু থেকেও রক্ত বের হয়ে আসতে হবে। বরং যদি কেবল জরায়ু অভ্যন্তরে বিদ্যমান থাকে তাহলেও যথেষ্ট। (উরওয়াতুল উছকা, খঃ ১, পৃঃ ৩১৯)
(গ) দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাতের রক্ত আসা অব্যাহত থাকতে হবে সেটা একারণে নয় যে দিন এর অর্থের মধ্যে রাতও অন্তর্ভূক্ত সেজন্যে। বরং সেটা একারণে যে রক্ত আসা অব্যাহত থাকাটা একটি শর্ত। (তাহরীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৪)
(ঘ) হাইয়ের শুরুতে একটি শর্ত হল রক্ত যেন বের হয়ে আসে। যদিও সেটা সুচাগ্রের ন্যায় সামান্যও হয়ে থাকে। কিন্তু হাইয অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে রক্ত বেরিয়ে আসার কোন জরুরতা নেই। বরং যদি ভিতরের অংশে রক্তাক্ত থাকে তাহলে সেটাই যথেষ্ট। কিন্তু যদি গর্ভাশয় থেকে রক্ত বের হয় অথচ বাইরে সংক্রমিত না হয় তাহলে তখন কি উক্ত স্ত্রীলোক হায়েয হিসেবে গণ্য হবে নাকি হবে না-
এ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তার উচিত একদিকে একজন পাক স্ত্রীলোকের করণীয় আমলসমূহ পালন করবে অপরদিকে একজন হায়েয স্ত্রীলোকের জন্য হারামগুলো মেনে চলবে। (তাহরীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৪)
অবশ্য সে কোন উপায়ে রক্তকে বের করে নিতে পারে এবং হায়েযের হুকুমভূক্ত হতে পারে যদিও রক্তের পরিমাণ যতই সামান্য হোক না কেন। (তাহরীর, খঃ ১, পৃঃ ৪৩)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত