(১০) হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসায়ের দিক নির্দেশনা দিব যা তোমাদের বেদনাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে। (১১) (তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর; এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা তা জান (ও উপলব্ধি কর)! (১২) তিনি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদের এমন উদ্যানসমূহে (বেহেশতসমূহে) প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং পবিত্র গৃহসমূহে চিরস্থায়ী বেহেশতসমূহের মধ্যে। এটাই মহাসাফল্য।
(১৩) এবং আরও একটি বিষয় যা তোমরা পছন্দ কর; (তা হল) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও আসন্ন বিজয়, এবং তুমি মু’মিনদের সুসংবাদ দান কর।
ঈমানি আকিদা হিসেবে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
সূরা সাফ্ফের এ আয়াতেও পূর্বের আয়াতসমূহের ন্যায় মু’মিনদেরকে আল্লাহর পথে জিহাদে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি জিহাদকে একটি ভিত্তিমূল ও মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস হিসেবে মানুষের মন-মানসে প্রবেশ করানো হয়েছে। কেননা এমনটি যথেষ্ট নয় যে, আমরা শুধু আবেগ ও অনুভূতিকে সামনে রেখে জিহাদে অংশগ্রহণ করব; বরং জিহাদকে আমাদের ঈমান ভিত্তিক আকিদা-বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আর এ ঈমানি আকিদা অবশ্যই সুদৃঢ় দর্শন ও অকাট্য দলিল ভিত্তিক হতে হবে এবং আমাদেরকে এমন আকিদার উপর নির্ভর করেই জিহাদের পথে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য সূরাটি পুরোটাই জিহাদ সম্পর্কে বর্ণিত। এমনকি এ সূরার সাথে যদি অন্য কোন নাম সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয় তবে সে নামটি হত ‘সূরাতুল জিহাদ বা সূরা-ই জিহাদ (জিহাদের সূরা)’। অবশ্য ‘সাফ্ফ’ বলতেও এখানে সৈন্যদের সারি বা বিন্যাসকে বুঝান হয়েছে। অন্যভাবে বলা যায় যে, নামকরণের দিক থেকে এ সূরাটি সূরা সাফ্ফের সামর্থক শব্দ হিসেবে ‘সূরা জিহাদ’ও বলা যেতে পারে। সুতরাং এ সূরার শুরু থেকে শেষাবধি জিহাদ সম্পর্কে বিবৃত হয়েছে। কোথাও ভূমিকা, কোথাও উৎসাহ ও উদ্দীপনা আবার কোথাও জিহাদের জন্য আশা, আকাঙ্খা ও চেতনা সৃষ্টি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য আয়াতটিও অন্যান্য আয়াতসমূহের অনুরূপ।