ক) ওয়াক্তীয়া ও আদাদীয়া মাসিকসম্পন্না মহিলারা তিন প্রকারের
(১) যে স্ত্রীলোকের পর পর দু’মাসে নির্দিষ্ট সময়ে মাসিক হয় আর নির্দ্দিষ্ট সময়ে পাকত হয়ে যায় যেমন উদাহরণস্বরূপ পর পর দু’মাসে তার মাসের প্রথম দিন থেকে বক্তব্যের শুরু হয় আর ৭ম দিনে পাক হয়ে যায় সেক্ষেত্রে উক্ত স্ত্রীলোকের হায়েযের মেয়াদ হবে মাসের প্রথম থেকে ৭ম দিন পর্যন্ত।
(২) যে স্ত্রীলোক রক্ত থেকে পাক হয় না কিন্তু পর পর ২ বার নির্দ্দিষ্ট কয়েকদিন যাবত যেমন উদাহরণস্বরূপ মাসের প্রথম থেকে অষ্টম দিন পর্যন্ত তার তেকে যে রক্তস্রাব হয় তার মধ্যে হায়েযের লক্ষণসমূহ বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ গাঢ়, কাল এবং উষ্ণথাকে এবং সবেগে ও জ্বালা সহকারে বের হয় আর তার অন্যান্য রক্তে ইস্তিহাযার লক্ষণাদি বিদ্যমান থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তার মাসিকের মেয়াদকাল হবে মাসের প্রথম থেকে অষ্টম দিন।
(৩) যে স্ত্রীলোকের পর পর দুই মাস নির্দ্দিষ্ট সময়ে রক্তস্রাব ঘটে অতঃপর ৩ দিন বা তার বেশি সময় ধরে রক্তব্রাব হওয়ার পর একদিন বা তার বেশি সময়ের জন্য পাক হয় এবং তারপর পুনরায় রক্তস্রাব শুরু হয় আর মাঝখানে যে ক’দিন পাক ছিল সে ক’দিন সমেত সর্বমোট দশদিনের বেশি না হয়। আর দু’মাসের উভয় মাসেই যে দিনগুলোতে রক্তস্রাব ঘটেছে ও মাঝখানে পাক থেকেছে মোটামুটি একই পরিমাণ হয় সেক্ষেত্রে তার মাসিকের মেয়াদকাল হবে ঐ রক্তস্রাব ঘটা ও মাঝখানে পাক থাকার সময়ের পরিমাণ। তবে মাঝখানে যে কয়দিন পাক থেকেছে সে দিনগুলো উভয় মাসে একই পরিমাণ হবে এমন কোন জরুরতা নেই। যেমন প্রথম মাসে যদি প্রথমদিন থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত রক্তব্রাব হয় এবং তিনদিন পাক থেকে আবার পুনরায় তিনদিন রক্তব্রাব ঘটে আর দ্বিতীয় মাসে তিনদিন রক্তস্রাব হওয়ার পর তিন দিনের জন্য বা তার কম বা বেশি সময়ে পাক হয় তারপর পুনরায় রক্তস্রাব ঘটে এবং সর্বমোট ৯ দিনের বেশি না হয় তাহলে সবটাই হায়েয। আর উক্ত স্ত্রীলোকের মাসিকের মেয়াদকাল হবে ৯ দিন। (তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৭৯)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
