লেখকঃ মোঃ সাফিউর রহমান
মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির পর থেকেই ইবলিস শয়তান বা আজাজিল ফেরেশতা এই মানবজাতিকে বিভিন্নভাবে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু আল্লাহ হতে প্রেরিত প্রতিনিধি বা পয়গম্বরদের কঠোর পরিশ্রম ও বিচক্ষণ ধর্মপ্রচার এর জন্য বরাবরই শয়তানের জন্য মানুষকে কলুষিত করার কাজটি হয়েছে কঠিনতর।
আল্লাহপ্রেরিত কোন প্রতিনিধি যখন জমিনে উপস্থিত থাকেন তখন তিনিই হন ইসলামের নীতিনির্ধারক এবং সত্যের মূল উৎস। তাই সে সময় ইসলামকে কলুষিত করা শয়তানের জন্য হয়ে যায় কঠিন।
যেহেতু তখন সে মূল ইসলামকে কলুষিত করতে ব্যর্থ হয়, তাই তৎকালীন সময় সে চেস্টা করে আল্লাহর প্রতিনিধিগণের আশেপাশের লোকজনকে বিভিন্নভাবে আল্লাহর প্রতিনিধির বিরুদ্ধাচারণে প্ররোচিত করতে। কিন্তু যখনই আল্লাহপ্রেরিত কোন প্রতিনিধি দেহত্যাগ করেন তখনই শয়তান ব্যস্ত হয়ে যায় মুল ইসলামকেই কলুষিত করতে, যাতে করে সত্যকামি মানুষ অথবা ন্যায়পরায়ণ মানুষেরাও আর সহজে সত্য খুঁজে না পায়।
তাই তো আমরা দেখতে পাই একদল লোক নিজেদেরকে আল্লাহপ্রেরিত পয়গম্বর হযরত মুসা (আঃ) অথবা হযরত ঈসা (আঃ) এর অনুসারী দাবি করলেও উনাদের নামে প্রচারিত বিভিন্ন মিথ্যাগল্পের ফাঁদে পড়ে আজ তারা মুল ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। একইভাবে আল্লাহপ্রেরিত সর্বোচ্চ সম্মানিত পয়গম্বর রাসুলে পাক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর দেহত্যাগ এর পরে, উনার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা কল্পকথা এবং অন্যায় ও ভুল নিয়ম-নীতির প্রচার প্রচারণা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান।
তবে যারা সত্যিকারের সত্যের অনুসন্ধান করেন, তাদের কাছে সত্য খুঁজে পাওয়ার রাস্তা রয়েছে এবং সেটা হচ্ছে আল্লাহপ্রেরিত সর্বোচ্চ দলিলগ্রন্থ আল কুরআন।
“আল্লাহ নিজেই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং অবশ্যই তিনিই এর সংরক্ষক। (আল কুরআন ১৫:৯)” সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাম ব্যাবহার করে মনগড়া মিথ্যা তথ্যের প্রচার-প্রচারণা করলেও আল কুরআনকে কেউ বিকৃত করতে পারবে না।
সুতরাং ইসলামের নামে বা রাসুলে পাক (সাঃ) এর নামে যখনই কোন তথ্য শুনবো সাথে সাথে আল কুরআন এর কষ্টিপাথরে ঘসে বিবেচনা করলেই তার সত্যতা বের হয়ে আসবে।
তাই তো আল্লাহ তায়ালা ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে করেছেন সকলের জন্য ফরজ এবং চিন্তাশীল ও জ্ঞানবানদের করেছেন অধিকতর সম্মানিত। জ্ঞান অর্জন করা এবং কুরআনের আলোকে সত্যের অনুসন্ধান করা ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। এখানে অন্য কেউ সত্য খুঁজে বের করে আমাকে জানাবে, আর আমি তার সকল কথাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে যাবো, এরকম কোন সুযোগ ইসলামে নেই।
আল্লাহ বলেন,
- “(হে নবী) আপনি বলুন! যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?” (আল কুরআন ৩৯ঃ৯)
- আল্লাহ জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে আরও বলেন ‘হে নবী বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান লোক কি এক হতে পারে? আলো ও অন্ধকার কি এক ও অভিন্ন হতে পারে?’ (আল কুরআন ১৩ঃ১৬)
- “আর আমি ওই দৃষ্টান্তগুলো মানুষের উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশে বর্ণনা করে থাকি। বস্তুত ওইসব দৃষ্টান্ত কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই বোঝে।” (আল কুরআন ২৯ঃ৪৩)
- “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন।” (আল কুরআন ৫৮ঃ১১)
এইভাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বার বার জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং কুরআন অনুযায়ী দেখা যায় যে জ্ঞান অর্জন ঈমানের সাথে সরাসরি জড়িত।ইসলামের মুল শর্তসমুহের কোথাও কুরআন ব্যতিত অন্য কোন গ্রন্থের কোন উল্লেখ নেই, যে কুরআন ব্যতিত অন্য কোন গ্রন্থকে ইসলামের সিদ্ধান্ত গ্রহিতা হিসেবে মানতে হবে।
কেউ যদি দাবি করে যে কুরআন ব্যতিত, অমুক কিতাব বা তমুক কিতাব না মানলে আপনি মুসলিম থাকবেন না অথবা কাফের মুরতাদ হয়ে যাবেন তাহলে ধরে নিবেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে ধর্মকে বিকৃত করতে চাইছেন।
কোন হাদিসের সত্যতার একমাত্র যাচাইস্থল আল কুরআন এবং আল কুরআন ব্যতিত অন্য কোন গ্রন্থই সন্দেহের উর্ধ্বে নয়। আল কুরআন ব্যতিত অন্য যে কোন গ্রন্থকে সন্দেহ করে তাকে কুরআনের ছাঁচে ফেলে যাচাই করলে আল্লাহ তায়ালা সেই বান্দার উপর আরও অধিক খুশি হন এবং জ্ঞানী হিসেবে তাকে আরও অধিক মর্যাদা দান করেন।######
