রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমযানুল মুবারাক

ইসলামে সময়ের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। সময় এ সৃষ্টিজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ, যে বিষয়ের উপর নির্ভর করে সৃষ্টিজগতের অনেক কিছুই পরিবৃত্ত হয়। প্রত্যেক সময়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে,

“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা তার কিতাবে যেদিন থেকে তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন বার মাস, তন্মধ্যে সম্মানিত হল চারটি। “( ষুরা তাওবাহ : ৩৬  )

বাহ্যিক দৃষ্টিতে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয় আবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে দিনের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু চলমান এসব দিনসমূহে কোন কোন সময় এমন কিছু ঘটনাপ্রবাহের উদয় হয়; যেগুলো উক্ত সময়, দিন, মাস কিংবা বছরকে বিশেষভাবে সম্মানিত, মহিমান্বিত এবং স্মরণীয় করে তোলে। অর্থাৎ, সময়ের আবর্তে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ আমাদেরকে উক্ত সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত করে। এখন মূখ্য বিষয় হচ্ছে ঘটনার ধরণ। প্রকৃতি কিংবা অবস্থার উপর নির্ভর করে যে, উক্ত ঘটনা কিংবা সময়ের প্রতি আমাদের অনুভূতি কেমন হবে। যদি ঘটনা ইতিবাচক ও স্মরণীয় হয়, তবে আমাদের অনুভূতিও তার প্রতি ইতিবাচক ও শ্রদ্ধাশীল

হবে। পক্ষান্তরে, যদি নেতিবাচক ও ট্র্যাজেডিপূর্ণ হয় তবে সেক্ষেত্রে অনুভূতি হবে তিক্তকর ও বেদনাদায়ক।

হেদায়েতের বসন্তকাল

রমযান মাস সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আয়াতসমূহের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে এ বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ মাসটি মানুষের জন্য হেদায়েতের বসন্তকাল। আল কুরআনের ভাষায়,

“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; যা মানবজাতির জন্য দিশারী এবং এতে পথনির্দেশ ও সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে।( সুরা বাকারা : ১৮৫ )

এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পবিত্র রমযান হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস; আর আল কুরআন হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও দিকনির্দেশনার কিতাব। কাজেই এ মাসটি আমাদের জন্য হেদায়েতের বসন্তকাল হিসেবে গণ্য।

পবিত্র কুরআন শুধু মানুষকে হেদায়েত ও দিকনির্দেশনা দেয় না; বরং এ আসমানি কিতাব মানুষের নিকট সত্য ও মিথ্যাকেও সুস্পষ্ট করে, যাতে কেউ জীবন চলার পথে কোনরূপ বিচ্যুতির শিকার না হয়। কাজেই কুরআন নাযিলের মাস তথা মাহে রমযানে আমাদের ঈমানি দায়িত্ব হচ্ছে সব ধরনের বিচ্যুতি ও বিপথগামিতা হতে নিজেদেরকে মুক্ত করে কুরআনের নির্দেশিত হেদায়েত ও আলোর পথে পরিচালিত হওয়া।

আল্লাহ তায়ালা তার সর্বশেষ আসমানি কিতাবকে পবিত্র রমযান মাসে নাযিল করেছেন; আর এ বিষয়টি মাহে রমযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের অন্যতম কারণ। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে,

“(হে রাসূল!) তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাবকে সত্যতার সাথে অবতীর্ণ করেছেন এবং তা সত্যায়ন করে (কিতাবসমূহের); যা পূর্বে ছিল।( সুরা আলে ইমরান : ৩ )

সুতরাং আল কুরআন হচ্ছে পূর্বে নাযিলকৃত সমস্ত আসমানি কিতাবসমূহের সারাংশ। আর ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে সমস্ত নবী-রাসূলগণের ইতিহাস। কেননা ইসলাম সমস্ত নবী-রাসূলগণের (আ.) ধর্ম। নবী-রাসূলগণ (আ.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে,

“আমরা তাঁর (আল্লাহর) রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। ( সুরা বাকারা : ২৮৫ )

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More