রোজার সংজ্ঞা এবং নিয়ত

by Syed Tayeem Hossain

রোযার সংজ্ঞাঃ আল্লাহর সন্তষ্টি এবং তার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে ফজরের আজান হতে মাগরিবের আজান পর্যন্ত ঐ সকল কাজ থেকে বিরত থাকা যা রোযাকে বাতিল করে দেয় যার বিবরণ পরবর্তী আলোচনায় বিষদভাবে উল্লেখ করা হবে।

নিয়ত
০১। রোযার নিয়ত মনে মনে করা বা মুখে উচ্চারণ করা যেমন আগামীকাল রোযা রাখব বলা জজুরী নয় এবং আল্লাহর আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে ফজরের আজান হতে মাগরিবের আজান পর্যন্ত ঐ সকল কাজ যা রোজাকে বাতিল করে দেয় তা হতে বিরত থাকাই যথেষ্ট কিন্তু পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের জন্য যে নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত রোযা রেখেছে তার উচিৎ হবে ফজরের আযানের কিছুক্ষণ পূর্বে এবং মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত ঐ সকল কর্ম সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকা যা রোজাকে বাতিল করে দেয়।
০২। মানুষ রমজান মাসে প্রতি রাতে পরবর্তী দিনের রোযার নিয়ত করতে পারে কিন্তু উত্তম হলো রমজান মাসের প্রাথম রাতে পুরো মাসের রোযার নিয়ত করে নেয়া।
০৩। রমজান মাসের রোযার নিয়তের জন্য কোন নিদিষ্ট সময় নেই। ফজরের আযানের পূর্বে যে কোন সময় পরবর্তী দিনের রোযার নিয়ত করলেই যথেষ্ট।
০৪। মোস্তাহাব রোজার নিয়তের সময় রাতের প্রথম ভাগ থেকে পরবর্তী দিনের মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যে কোন সময় মোস্তাহাব রোযার নিয়ত করে রোযা রাখলে তা সঠিক বলে গণ্য হবে।
০৫। যে ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত না করে ঘুমিয়ে পড়ে এবং জোহরের পূর্বে জেগে ওঠে এবং রোজার নিয়ত করে নেয় এমতাবস্থায় তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। হোক সে রোযা ওয়াজিব কিংবা মোস্তাহাব। তবে জোহরের পর সে যদি জেগে উঠে সেক্ষেত্রে ওয়াজিব রোজার নিয়ত করতে পারবে না।
০৬। যদি কোন ব্যক্তি রমজানের রোযা ব্যতিত অন্য কোন ওয়াজিব রোযা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে অবশ্যই তাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। যেমনঃ কাযা রোযা, মান্নতের রোযা ইত্যাদি। কিন্তু রমজান মাসে নিয়ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা জরুরী নয় যে আমি রমজান মাসের রোযা রাখছি বরং তার জানা না থাকে অথবা ভুলে যায় যে রমজান মাস এবং অন্য কোন রোযার নিয়ত করে নেয় তাহলে সে রোযা রমজান মাসের রোযা হিসেবে গণ্য হবে।
০৭। যদি কেউ রমজান মাস জেনেও অন্য কোন রোজার নিয়ত করে রোযা রাখে তাহলে উক্ত রোযা না রমজান মাসের না নিয়তকৃত রোজা হিসাবে গণ্য হবে।
০৮। যদি কোন ব্যক্তি রমজানের প্রথম দিন ভেবে রোজা রেখে নেয় এবং পরবর্তীতে যদি সে জানতে পারে যে উক্ত দিন রমজানের দ্বিতীয় অথবা তৃৃতীয় দিন ছিল এমতাবস্থায় উক্ত রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
০৯। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোযার নিয়ত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং পরদিন যে কোন সময় জ্ঞান ফিরে পায় সেক্ষেত্রে এহতিয়াতে ওয়াজিব হল, তার রোযা পূর্ণ করা। যদি সে রোজা পূর্ণ না করে থাকে তাহলে উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১০। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত করে নেয় এবং পরবর্তীতে যদি সে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে ও পর দিন তার নেশা ভাল হলে এহতিয়াত ওয়াজব হল ঐ দিন রোজ পূর্ণ করা এবং পরবর্তীতে উক্ত রোযার কাজা আদায় করা।
১১। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা পবরর্তী দিন মাগরিবের পর জাগ্রত হয় এমতাবস্থায় তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১২। যদি কেউ রমজান মাস সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে অথবা ভুলে যায় এবং জোহরের পূর্বে অবগত হয় এবং উক্ত সময় পর্যন্ত যদি ঐ সকল কাজ যা রোজাকে বাতিল করে দেয় সম্পাদন না করে থাকে তাহলে ঐ সময় রোজার নিয়ত করে নিলে রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি কেউ এমন কাজ সম্পাদন করে থাকে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় অথবা জোহরের পর রমজান মাস সম্পর্কে অবগত হয় এমতবাস্থায় তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবুও মাগরিব পর্যন্ত ঐ সকল কাজ যা রোযাকে বাতিল করে দেয় সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১৩। যদি কোন শিশু ফজরের আজানের পূর্বে প্রাপ্ত বয়ষ্ক বা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হয়ে ওঠে তবে ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব যদি ফজরের আজানের পর প্রাপ্ত বয়ষ্ক বা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হয়ে উঠে এ ক্ষেত্রে তার উপর উক্ত দিনের রোযা রাখা ওয়াজিব নয়।
১৪। যদি কোন ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির রোযা রাখার জন্য আজির হয় (অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে রোযা রাখার দায়িত্বভার গ্রহণ করে) সে যদি মোস্তাহাব রোযা রাখতে চায় তাহলে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ঐ ব্যক্তি যার উপর কাযা বা অন্য কোন ওয়াজিব রোযা থেকে থাকে তাহলে সে ব্যক্তি মোস্তাহাব রোযা রাখতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি ভুলক্রমে মোস্তাহাব রোযা রেখে নেয় এবং জোহরের পূর্বে ভুল ভাঙ্গে তবে তার মোস্তাহাব রোযা শেষ হয়ে যাবে এবং নিজ নিয়ত ওয়াজিব রোযার জন্য পরিবর্তন করতে পারে এবং যদি জোহারের পর অবগত হয় বা ভুল ভাঙ্গে এমতাবস্থায় মোস্তাহাব রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যদি মাগরিবের পর জানতে পারে সে ক্ষেত্রে মোস্তাহব রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। যদিও সন্দেহ থেকে যায়।
১৫। যদি রমজান মাস ব্যতিত অন্য কোন নির্দিষ্ট দিনের রোডা কারো উপর ওয়াজিব থেকে থাকে যেমনঃ মান্নত করা হলো যে অমুক দিন রোযা রাখবো। সুতরাং ফজরের আজান পর্যন্ত যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ত না করে তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং অজ্ঞানতাবশত ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব যদি সে ভুলে গিয়ে থাকে এবং জোহরের পূর্বে তার স্বরণে আসে তবে এমন কোন কাজ যা রোযাকে বাতিল করে দেয়, না করে থাকে এবং রোজার নিয়ত করে নেয় সে ক্ষেত্রে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। অন্যথায় বাতিল হয়ে যাবে।
১৬। যদি কোন ওয়াজিব অথচ অনিদিষ্ট রোযা যেমনঃ কাফফারা রোযার নিয়ত যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে জোহর পর্যন্ত না করে থাকে তাতে কোন আপত্তি নেই বরং রোযা রাখাার ইচ্ছা পোষন না করে থাকে অথবা সিন্ধন্ত হীনতায় ভোগে যে ঐ দিন সে রোযা রাখবে কি না সেক্ষেত্রে যদি এমন কোন কাজ সম্পাদন না করে থাকে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং জোহরের পূর্বে রোযার নিয়ত করে নেয় তবে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১৭। যদি রমজান মাসে জোহারের পূর্বে কোন কাফের ব্যক্তি (নাস্তিক) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যািদ সে ফজরের আজান হতে ঐসময় পর্যন্ত এমন কোন কাজ সম্পাদন না করে থাকে যা রোজাকে বাতিল করে তাহলে সে উক্ত দিনে রোযা রাখতে পারবে না এবং ঐ রোযার কাযাও নেই।
১৮। যদি কোন অসুস্থ্য ব্যক্তি রমজান মাসে জোহরের পূর্বে সুস্থ্য হয়ে উঠে এবং ফজরের আজান হতে সুস্থ্য হওয়ার সময় পর্যন্ত এমন কোন কাজ না করে থাকে যা রোজাকে বাতিল করে দেয় সে ক্ষেত্রে তার উচিৎ হবে সে দিনের রোযার নিয়ত করে নেয়া এবং ঐ দিনের রোজা রাখা। যদি সে জোহরের পর সুস্থ্যলাভ করে তাহলে ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব নয়।
১৯। কোন নিদিষ্ট দিন সম্পর্কে যদি কোন ব্যক্তির সন্দেহ হয় যে ঐ দিনটি শাবান মাসের শেষ দিন না-কি রমজান মাসের প্রথম দিন সে ক্ষেত্রে ঐ দিনের রোযা রাখা ওয়াজব নয়। যদি রোযা রাখতে চায় তবে রমজানের রোযার নিয়তে রোযা রাখতে পারবে না। তবে কাযা অথবা অন্য কোন রোযার নিয়ত করে রোযা রেখে দেয় এবং পরে সে জানতে পারে যে ঐ দিনটি ছিল রমজান মাসের সে ক্ষেত্রে ঐ রোযাটি রমজান মাসের রোযা হিসেবে গণ্য হবে।
২০। যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ হয় যে শাবান মাসের শেষ দিন না কি রমজান মাসের প্রথম দিন এবং ঐ দিন যদি কাযা রোযা অথবা মোস্তহাব রোযার নিয়ত করে রোযা রেখে দেয় এবং দিনের যে কোন সময় অবগত হয় যে ঐ দিনটি রমজান মাসের প্রথম দিন তাহলে তাকে রমজান মাসের রোযার নিয়ত করতে হবে।
২১। যদি কোন সুনিদিষ্ট দিনের ওয়াজিব রোযার (যেমনঃ রমজান মাসের) নিয়ত করা থেকে বিরত থাকে তবে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে যদি কেউ এমন কোন কাজ করার নিয়ত করে যাতে রোযা বাতিল হয়ে যায় যদি সে উক্ত কাজ সম্পাদন না করে থাকে এমতাবস্থায় তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে না।
২২। মোস্তাহাব অথবা ওয়াজিব রোজার যার কোন নিদিষ্ট দিন নির্ধারিত নেই (যেমন কাফফারার রোযা) যদি কেউ এমন কোন কাজ সম্পদন করার ইচ্ছা পোষন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় বা দ্বিধায় পতিত হয় যে এমন কাজ সম্পাদন করবে কি না, সে ক্ষেত্রে ঐ কাজ না করে থাকে এবং জেহরের পূর্বে পুণরায় রোযার নিয়ত করে নেয় তাহলে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔