প্রশ্ন (১) আমার কন্যা সাবালিকা বা তাকলীফের বয়সে পৌছে গেছে। কিন্ত শারীরিক দূর্বলতার কারণে সে রমজানের রোজা রাখতে পারে না। উপরন্তু, রমজান উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার কাযা আদায় করতে সক্ষম হয় না। এভাবে পরবর্তী রমজান উপস্থিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তার হুকুম কি?
উত্তরঃ কেবলমাত্র শারিরীক দূর্বলতা ও অক্ষমতার কারনে রোজা রাখা বা তার কাযা আদায় করতে অপারগ হলেই তার উপর থেকে কাযা রোজা মওকুফ হয় না। বরং রমজানের যতগুলো রোজা সে আদায় করেনি তার সবগুলোরই কাযা আদায় করা তার জন্যে ওয়াজিব।
প্রশ্ন (২) যে সকল কন্যা অতিসম্প্রতি বালেগ হয়েছে অথচ রোজা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য তাদের হুকুম কি? আর কন্যাদের বালেগ হওয়ার বয়স কি নয় বছর পূর্ণ হওয়া ?
উত্তরঃ কন্যাদের ক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার শরীয়তসম্মত এবং প্রসিদ্ধ বয়স হল নয় বছর পূর্ণ হওয়া (চন্দ্র বছর অনুযায়ী)। তখন তাদের উপর রোজা ওয়াজিব হয়। কতিপয় অজুহাতের কারনে তা ত্যাগ করা জায়েজ নয়। তবে যদি দিনের মধ্যভাগে রোযা তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায় কিম্বা কষ্টের কারণ হয় তাহলে তখন ইফতার করে নেয়া জায়েজ।
প্রশ্ন (৩) আমি ঠিক কবে তাকলীফের বয়সে পৌছেছি তা জানি না। এমতাবস্থায় আপনার কাছে আবেদন আমাকে কতোগুলো নামাজ ও রোযার কাযা আদায় করতে হবে জানাবেন ? আর আমি যেহেতু মাসয়ালা জানতাম না কাজেই আমার রোযার কাফ্ফারাও কি ওয়াজিব হবে নাকি শুধু কাযা আদায় করলেই যথেষ্ট ?
উত্তরঃ এটা নিশ্চত যে, আপনার বালেগ হওয়ার পর থেকে যা কিছু বাদ পড়েছে তার কাযা আদায় করা আপনার উপর ওয়াজিব। আর রোযার ক্ষেত্রে বালেগ হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানার পর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে থাকেন তাহলে কাযা ছাড়াও কাফ্্ফারা আপনার উপরে ওযাজিব।
প্রশ্ন (৪) আমার কন্যার বয়স নয় বছর এবং তার জন্য রোযা ফরজ। তদুপরি সে পানাহার করেছে। কেননা রোযা তার জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। এমতাবস্থায় তার উপর কি কাযা ওয়াজিব হবে?
উত্তরঃ রমযানের যে রোযাগুলো বাদ পড়েছে সেগুলো কাযা করা তার জন্য ওয়াজিব।
প্রশ্ন (৫) ঃ যদি কোনো ব্যক্তি পঞ্চাশ ভাগেরও অধিক সম্ভাবনার বশবর্তী হয়ে এবং জোরালো কোন কারণবশতঃ ধারনা করে যে তার উপরে রোযা ওয়াজিব নয় এবং এই কারণেই সে রোজা রাখেনি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয় যে তার উপর রোযা ওয়াজিব ছিল। এমতাবস্থায় কাযা ও কাফ্ফারা সংক্রান্ত তার হুকুম কি?
উত্তর ঃ যদি কেবল এ ধরনের সম্ভাবনার বশবর্তী হয়ে রমযানের রোযায় পানাহার করে তাহলে উক্ত ক্ষেত্রে তাকে কাযা ছাড়াও কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যদি কোন ক্ষতির ভয়ে পানাহার করে থাকে তাহলে এবং সে ক্ষতি যুক্তিগ্রাহ্য কোন কারণও বর্তমান থাকে তাহলে তার উপরে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না, কেবলমাত্র কাযা ওয়াজিব হবে।
প্রশ্ন (৬) জনৈক ব্যক্তি সামরিক ডিউটি পালনার্থে এবং তার কর্মস্থলে যাতায়াত ও অবস্থান করার কারণে গত বছর রমযানের রোযা পালন করতে পারেনি। এ বছরও রমযান সমাগত কিন্তু এখানে সে তার কর্মস্থলে কর্তব্য পালনে রত এবং সম্ভবত এ বছরও রমযানের রোযা আদায় করতে পারবে না। এমতাবস্থায় সে যদি ডিউটি শেষে এ দু’মাসের রোযা কাযা আদায় করতে চায় তাহলে কি তার উপরে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে?
উত্তরঃ যদি সফরের কারণে রোযা বাদ গিয়ে থাকে এবং পরবর্তী রমযান পর্যন্ত সে কারণ বিদ্যমান থেকে যায় তাহলে তার জন্য শুধু কাযা ওয়াজিব হবে। কাযার সাথে ফিদিয়া ওয়াজিব হবে না।
প্রশ্ন (৭)ঃ যদি রোযাদার ব্যক্তি জানাবাত অবস্থায় পড়ে এবং যোহরের আযান এর আগ পর্যন্ত তা বুঝতে না পারে, অতঃপর গোসলের ইরতেমাছি করে নেয় তাহলে কি তার রোযা বাতিল হবে? আর যদি গোসল সেরে নেয়ার পর সে তার জানাবাত বুঝতে পারে তাহলে তার উপর কি ঐ দিনের কাযা ওয়াজিব?
উত্তরঃ যদি সে রোযা রেখেছে এ বিষয়টা ভুলে গিয়ে কিম্বা উদাসিনতার কারণে গোসলে ইরতেমাছি করে থাকে তাহলে তার গোসল এবং রোযা দুটোই শুদ্ধ। তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে না।
প্রশ্ন (৮) ঃ যদি কেনি ব্যক্তি উদ্দেশ্য করে যে যাওয়াল (যোহর) হওযার পূর্বে সে তার বাতানে (আবাসস্থল) পৌঁছে যাবে। কিন্তু পথে এমন কোন ঘটনার সম্মুখীন হল যা তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্য পৌঁছতে বাধাগ্রস্ত করল। এক্ষেত্রে তার রোযার কোন অসুবিধা আছে কি? তার উপর কি কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে নাকি কেবলমাত্র সেদিনের কাযা করলেই চলবে?
উত্তরঃ সফরের মধ্যে তার এ রোযা শুদ্ধ হবে না। বরং তার উপর উক্ত দিনের কেবলমাত্র কাযা আদায় করতে হবে যেদিন সে তার বসত এলাকায় পৌঁছেতে পারেনি। কোন কাফ্ফারা তার ওপরে ওয়াজিব হবে না।
প্রশ্ন (৯) ঃ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যথেষ্ট উঁচুতে উড্ডয়নরত বিমানের পাইলট কিম্বা বিমানবালার জন্যে যে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা সময়সাপেক্ষ দূরবর্তী কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রয়েছে এবং শারীরিক ভারসাম্যতা বজায় রাখার জন্য যার প্রতি বিশ মিনিট অন্তর পানি পান করার প্রয়োজন তার উপর কি রমযানের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে?
উত্তরঃ যদি রোযা তার জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে পানি পান করা তার জন্য জায়েজ। সে রোযা কাযা আদায় করবে কিন্তু এ অবস্থায় তার জন্য কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।
প্রশ্ন (১০) ঃ মাগরিব আযানের ঘন্টা দুয়েক কিম্বা তার চেয়েও কম সময় পূর্বে যদি কোন মহিলা ঋতুবতী হয়ে পড়ে তাহলে তার রোযা কি বাতিল হয়ে যাবে?
উত্তরঃ তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রশ্ন (১১) ঃ কোন ব্যক্তিবিশেষ পোষাক পরিহিত অবস্থায় (যেমন ডুবুরিদের পোশাক) যদি পানিতে ডুব দেয় এমন ভাবে যে তার শরীর না ভিজে তাহলে তার হুকুম কি?
উত্তরঃ যদি পোষাক তার মস্তকদেশে লেপ্টে থাকে তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। এহ্তিয়াতে ওয়াজিব অনুযায়ী তার কাযা করতে হবে।
প্রশ্ন (১২) ঃ রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করার উদ্দেশ্যে এবং রোজার কষ্ট থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা কি জায়েজ?
উত্তরঃ এতে কোন অসুবিধা নেই। তবে যদি ভ্রমণ করে এমন কি রোযা থেকে পালাবার উদ্দেশ্যেও সেটা হয় তাহলে পানাহার করা তার জন্য ওয়াজিব।
প্রশ্ন(১৩) ঃ কোন ব্যক্তি তার জিম্মায় ওয়াজিব রোজা রেখেছে। সে তা পালন করার জন্যে সংকল্পও করে ফেলেছে। কিন্তু কোন এক বাধা এসে তার সামনে উপস্থিত হল। যেমন ধরুন, সে সূর্যদোয়ের পর ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হল এবং ভ্রমণে বের হয়ে যোহরের পরে প্রত্যাবর্তন করলো ইতিমধ্যে সে কোন পানাহার করেনি। কিন্তু ওয়াজিব নিয়ত এর সময় হাত ছাড়া হয়ে গেছে। আর সেদিনটি ছিল এমন যেদিন রোযা রাখা মুস্তাহাব। এমতাবস্থায় সে কি মুস্তাহাব রোযার নিয়ত করতে পারবে?
উত্তরঃ যদি রমযানের কাযা তার জিম্মায় থেকে থাকে তাহলে মুস্তাহাব রোযার নিয়ত করা তার জন্য শুদ্ধ হবে না। এমনকি যদি ওয়াজিব রোযার নিয়ত করার সময় অতিক্রান্ত হয়েও যায়।
প্রশ্ন (১৪) ঃ আমি ধুমপানে অতিমাত্রায় আসক্ত একজন ব্যক্তি। রমযান মাসে আমি যতই চেষ্টা করি যে মেজাজ উগ্র না হোক কিছুতেই আমি তা পারি না। এতে আমার স্ত্রী-পুত্ররা কষ্ট পায়। আমিও আমার এই উগ্র মেজাজের জন্য দুঃখিত এবং কষ্টক্লিষ্ট। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?
উত্তরঃ আপনার উপর রমযানের রোযা পালন করা ওয়াজিব এবং রোযা অবস্থায় ধুমপান করা জায়েজ নয়। আর কোন বৈধ কারণ ছাড়া কারো সাথে উগ্রতা বা ক্রোধের কোন সম্পর্ক নেই।
সূত্রঃ শারয়ী মাসআলা মাসায়েল ও তার উত্তর। আয়াতুল্লাহ্ আল-উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহুল অলী)-এর ফতোয়া সংকলন থেকে।
