শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন

by Syed Yesin Mehedi

এক দেহ-এক প্রাণ’ চেতনায় বিশ্বাসী পুরো মুসলিম মিল্লাত। ইসলামের অপরিহার্য বিধান উপেক্ষা করার কারণেই মুসলিম মিল্লাত আজ বিভক্ত। পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ, নিন্দাবাদের ঘৃণ্য কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত মানবতা। ফলে মুসলিম বিশ্বে অশান্তির আগুন জ্বলছে। এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করা।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখতেই আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১০ )

একত্মবাদে বিশ্বাসী মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সেই সব লোকদের মতো হইও না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, নামাজ প্রতিষ্ঠা কর এবং কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হইও না। যারা তাদের দ্বীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩১-৩২)

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এক পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০৩)

যারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার কথা এভাবে ওঠে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বেশি ভালোবাসি যারা আল্লাহর রাস্তায় এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, ঠিক যেন শিষাঢালা এক সুদূঢ় প্রাচীর।’ (সুরা সফ : আয়াত ৬১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার তাওফিক দান করুন। জাহেলিয়াতের মৃত্যু থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালে শান্তি লাভের তাওফিক দান করুন।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔