শিক্ষকের অধিকার
তোমার শিক্ষকের অধিকার হচ্ছে এই যে, তুমি তাকে শ্রদ্ধা করবে ও তার ক্লাসের মর্যাদা রক্ষা করবে। তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনবে এবং তার প্রতি দৃষ্টি রাখবে। তার সম্মুখে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবে না এবং (ক্লাসের) অন্য কেউ তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার উত্তর তুমি দিবে না যতক্ষণ না তিনি (শিক্ষক) নিজেই উত্তর দেন। তার ক্লাসে কারো সঙ্গে কথা বলবে না। তার সম্মুখে কারো গীবত করবে না। আর যখনই কেউ তোমার উপস্থিতিতে তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলবে তখন তার (শিক্ষকের) পক্ষে কথা বল। তার দোষত্রুটি গোপন কর এবং তার উত্তম গুণাবলি প্রকাশ কর। তার শত্রুর সঙ্গে ওঠাবসা করো না এবং তার বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতাপোষণ করো না। যখন তুমি এমনটি করবে তখন আল্লাহর ফেরেশতারাই সাক্ষ্য দিবে যে, তুমি তার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিয়েছ এবং তাঁর নিকট হতে যে জ্ঞানার্জন করেছ তা আল্লাহর জন্যেই, মানুষের জন্যে নয়।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন:বলুন! যারা জানে এবং যারা জানে না তারা উভয়ে কি সমান? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে যারা বুদ্ধিমান ( সূরা: যুমার, ৯ম আয়াত)
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ্ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন…। (সূরা: মুজাদিলাহ, ১১তম আয়াত)
আল্লাহর রসুল (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে: আলেমদের সাক্ষাত করা আল্লাহর নিকট, সত্তরবার তার ঘরের তাওয়াফ করার চেয়ে প্রিয়তর এবং সত্তরবার হজ্ব ও উমরাহ্ যা (আল্লাহর নিকট) গৃহীত হয়েছে তা অপেক্ষা শ্রেয়তর। আর আল্লাহ্ তায়ালা তার মর্যাদা সত্তর গুণ বাড়িয়ে দেন। নিজের রহমত তার উপর নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা এই সাক্ষ্য দেন যে, বেহেশত তার জন্যে ফরজ।
মহানবী (সা.) বলেন: এমন কোনো মুমিন ব্যক্তি নেই যে এক ঘণ্টা একজন শিক্ষক বা আলেমের নিকট উপবেশন করে কিন্তু আল্লাহ্পাক তাকে বলেন না যে, সে তাঁর বন্ধুর নিকট বসেছে। (আর তিনি বলেন:) আমার সম্মান ও শক্তিমত্তার কসম! তার সঙ্গে তুমি বেহেশতে একত্রে অবস্থান করবে এবং এর সামনে কোনো বাধা নেই।
ইমাম মুহাম্মদ তাকী (আ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি কেউ কোনো বক্তার কথা বা বক্তৃতা শ্রবণ করে তবে প্রকৃতপক্ষে সে তার উপাসনা করল। যদি সেই বক্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় (আল্লাহর কথা বলে) তবে সে আল্লাহর ইবাদত করল; আর যদি বক্তাটি শয়তানের ভাষায় কথা বলে তবে শ্রোতাটি শয়তানের উপাসনা করল।
সূত্র : ( ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর রিসালাতুল হুকুক (অধিকার বিষয়ক সন্দর্ভ )