বঙ্গানুবাদ-
(১৪) হে মু’মিনগণ! আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন মারইয়াম-তনয় ঈসা তার সহচরগণকে (হাওয়ারীদের) বলেছিল, ‘আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে?’ সহচরগণ বলেছিল, ‘আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী’| অতঃপর বনি ইসরাইলের এক দল ঈমান এনেছিল এবং অপর দল কুফরি করেছিল (ঈমান আনে নি)| ফলে যারা ঈমান এনেছিল তাদের আমরা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করলাম; সুতরাং তারা বিজয়ী হল|
আল্লাহর পথে জিহাদ ও সাহায্য নবীগণের (আ.) অনুসারীদের ঈমানি দায়িত্ব
এটি সূরা সাফ&ফের সর্বশেষ আয়াত (ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, বিষয়বস্তুর দিক থেকে এ সূরাটি ‘সূরা-ই জিহাদ’ নামেও নামকরণ করা যেতে পারে)| এ আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা এক ভিন্ন বাচনভঙ্গিতে মানব জাতিকে, মু’মিনদেরকে এবং কুরআনের আয়াত শ্রবণকারীদেরকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছেন যাতে তারা আল্লাহর পথে জিহাদে আত্ম নিবেদন এবং ইসলাম ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার্থে সাহায্য করে| পাশাপাশি মু’মিনদেরকে ও ইসলামের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্যকারীদের মধ্যে বিদ্যমান হযরত ঈসার (আ.) সময়কার আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনয়নকারী ও দ্বীনের সাহায্যকারীদের তুলনা করেছেন| একই সাথে সে যুগের ঈমানদারদের ভবিষ্যত অবস্থাও হযরত ঈসার (আ.) প্রতি ঈমান পোষণকারীদের অনুরূপ হওয়ারও পূর্বাভাস তুলে ধরেছেন| এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকে এক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন বিধান কার্যকর রয়েছে এবং ঈমানদারদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশনার কোন ব্যত্যয় ঘটে না| নবী, রাসূল ও খোদায়ী বার্তাবাহীরা যুগের পর যুগ এক ও অভিন্ন বাণী, নির্দেশনা ও বিধান মানুষের নিকট তুলে ধরেছেন; তা হচ্ছে সত্যের অনুসরণ করা এবং বাতিলের বিরুদ্ধে হক প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে চেষ্টা ও সাধনা অব্যাহত রাখা| ঐ নির্দেশনার বাহক হলেন আল্লাহ প্রেরিত নবীগণ এবং যে হক প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে চেষ্টা ও সাধনার আদেশ দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে খাঁটি সহজাত প্রকৃতি ও সত্তাগত বিষয় যা আল্লাহর প্রতি ঈমান, কিয়ামতের প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে মানবীয় উৎকর্ষ সাধনের বিষয়াবলির সাথে সম্পৃক্ত| যেহেতু এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় নবুয়্যত সংক্রান্ত নয়, সেহেতু এখানে নবী-রাসূলগণের নবুয়্যত ও রেসালতের উদ্দেশ্যাবলি নিয়ে কোন আলোচনা করব না| কিন্তু এ বিষয়টি এখানে উল্লেখ্য যে, হযরত ঈসার (আ.) উম্মত , সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদের (সা.) উম্মত, সকল নবীর উম্মতসমূহ এবং সকল মু’মিনকে অবশ্যই আল্লাহ ও আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করতে হবে| আর তাদের জানা জরুরী যে, যদি তারা আল্লাহকে সাহায্য করে, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে শত্রুদের মোকাবেলায় বিজয়ী করবেন| অর্থাৎ আল্লাহও তাদেরকে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করবেন| আর এ বিষয়টি হচ্ছে সূরা সাফফের ১৪নং আয়াতের মূখ্য আলোচ্য বিষয়|
এ আয়াতকে আমরা প্রচলিত অর্থে সূরা সাফফের সারাংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারি| এ সূরার বর্ণনায় জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রেয়ণা দেয়ার পাশাপাশি জিহাদকারীদের চূড়ান্ত বিজয়ের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে| বিশেষত এ আয়াতে কাফির ও তাগুত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মোকাবেলা এবং তাদের অপচেষ্টাসমূহ, বাতিলপন্থী ও হকের বিরুদ্ধে তাদের অপচেষ্টাসমূহ এবং তাদের উক্ত সে সব অপচেষ্টা যা কখনও সফলতার মুখ দেখবে না সে বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে| এছাড়া এ আয়াতে অতীতকাল ও হযরত ঈসার (আ.) উম্মতের উপমাও তুলে ধরা হয়েছে| এখন আমরা এ আয়াতের বিভিন্ন অংশের বঙ্গানুবাদ এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরব-
আল্লাহর প্রতি ঈমানকে সুদৃঢ়করণের গুরুত্ব
আয়াতের শুরু এভাবে হয়েছে, ‘হে মু’মিনগণ!’ এখানে ঈমানদারদের প্রতি সম্বোধন করে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে থাক|’ এখানে বলা হয় নি যে, তোমরা শুধু সাহায্যকারী হও; কেননা সহজাতভাবে মু’মিনরা আল্লাহর সাহায্যকারী| কারণ তারা ঈমান আনয়নের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত| বরং এখানে বলা হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও এবং সে সাহায্যের পথে বহাল থাক| যেমনভাবে তোমরা এখন সাহায্যকারী হিসেবে আছো, তেমনভাবে আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্যকে অব্যাহত রাখ এবং দিন দিন সে সাহায্যের পরিধি ও ভিত্তিকে অধিকতর মজবুত কর|