সূরা সাফফের তাফসীর

আল্লাহর সাহায্য ও তার প্রতি ভক্তি পোষণের প্রকৃত অর্থ
প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে সাহায্য করা বলতে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সাহায্যকে বুঝান হয়েছে| এখানে সাহায্য হচ্ছে এমন সব তত্ত্বজ্ঞান, শিক্ষা-দীক্ষা এবং বাস্তবতা যা আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে মানুষের নিকট তুলে ধরা হয়| কেননা আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত, নবী-রাসূল ব্যতীত এবং ঐশ্বরিক বিধান ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে তার সাহায্যের কোন প্রশ্নই আসে না| আল্লাহর প্রতি মহব্বত বা ভক্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ অবস্থা বিদ্যমান| আল্লাহর প্রতি মহব্বত বা ভক্তি পোষণ বলতে আল্লাহর দ্বীন ও আল্লাহর রাসূলের প্র্রতি ভক্তি নিবেদনকে বুঝান হয়েছে| অবশ্য আল্লাহর প্রতি মহব্বতের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে -এটি একটি আত্মিক ও সত্তাগত বিষয়| আল্লাহর প্রতি মহব্বত এক আধ্যাত্মিক সুউচ্চ মাকামের (মর্যাদার) নাম; মূলত আরেফ (সাধক ও আধ্যাত্মিক ও নিষ্ঠাবান বান্দারা) এ মাকাম লাভ করে থাকেন- আল্লাহর রাসূলের (সা.) প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে| আর তাই তো আল কুরআনে এ বিষয়ের প্রতি ইশারা করে বর্ণিত হয়েছে,
“(হে রাসূল!) বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালাবাস তবে আমার অনুসরণ কর, (তাহলে) আল্লাহও তোমাদের ভালবাসবেন|” অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি মহব্বত পোষণের প্রতিফল হচ্ছে রাসূলের (সা.) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ| অন্যথায় মানুষ যদি শুধু বলে বেড়ায় যে, আমি আল্লাহকে মান্য করি, আল্লাহর প্রতি মহব্বত পোষণ করি, আল্লাহকে সাহায্য করি; কিন্তু তার বাস্তব ও ব্যবহারিক জীবনে যদি সেগুলোর কোন প্রতিফলন ও প্রতিক্রিয়া না থাকে, তবে তাতে কোন সুফল বয়ে আসবে না|
আল কুরআনের সর্বত্র এ বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, যদি আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ি তবে তা যেন অবশ্যই আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর বিধান ও আল্লাহর ˆনকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দৃশ্যত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে| যাতে করে যে কেউ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি তুলতে না পারে| এমনকি রাসূলুল্লাহর (সা.) বিদায়ের পর তাঁর স্থলাভিষিক্তগণের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অবস্থা বহাল থাকবে|

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More