ফাসেক সম্প্রদায় হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে না
পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে,
“এবং আল্লাহ ফাসেক বা অবাধ্য সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা সাফ্ফ : ৫)” অর্থাৎ যারা ফাসেক তথা অবাধ্য ও ধর্মচ্যুত তারা হেদায়েতের উপযুক্ত নয়। কুরআনের কয়েকটি আয়াতে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, যারা ধর্মচ্যুত ও আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে তারা কখনও আল্লাহর হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে না। আল কুরআনের ভাষায়,
“এজন্য যে, তারা ঈমান আনার পর তা অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের হৃদয়ে মোহর অঙ্কিত করা হয়েছে, সুতরাং তারা উপলব্ধি করে না।”(সূরা মুনাফিকূন : ৩ যখন কেউ ঈমানের পথ থেকে দূরে সরে যায়, যখন কেউ ঈমানের স্বাদ আস্বাদনের পরও ঈমানের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে কুফরি ও নাস্তিক্যবাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে গুনাহ ও আল্লাহর নাফরমানিতে মত্ত হয়ে পড়ে এবং বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়ে যায়; তখন এমন ব্যক্তির হেদায়েতের পথে ফিরে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং আল্লাহও তাকে আর পথ প্রদর্শন করেন না।
আমরা উল্লেখ করেছি যে, ফাসেক বলতে বুঝায় এমন ব্যক্তি যে ধর্মচ্যুত হয়েছে, যে ব্যক্তি ধর্মের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেছে। যদি কোন গুনাহকারীকে বলা হয় ‘ফাসেক’ তবে এর অর্থ হচ্ছে উপর্যপুরি গুনাহ মানুষকে ক্রমান্বয়ে ঈমান ও ধর্মের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সুতরাং এ আয়াতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি কড়া হুশিয়ারী ও সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে; কোন বিষয়ের সতর্কবাণী? হযরত মূসার (আ.) সম্প্রদায়ের করুণ পরিণতির প্রতি সতর্কবাণী- হে মুসলিম জাতি! যদি তোমরা যা বল তা না কর, যদি তোমাদের কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকে এবং যদি তোমরা ঈমানের উপর অটল না থাক; তবে তোমরা মূসা নবীর সম্প্রদায়ের ন্যায় পরিণতির শিকার হবে। আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে অকেজো ও বক্র করে দিয়েছিলেন তথা তাদেরকে স্বীয় হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। বলা হচ্ছে- ‘এবং আল্লাহ ফাসেক বা অবাধ্য সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।’ এখন এ ফাসেক সম্প্রদায় চাই মূসা নবীর হোক, চাই ঈসা নবীর হোক চাই সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদের (সা.) হোক, চাই ইসলামের প্রাথমিক যুগের হোক, চাই ইসলামি বিপ্লবের সময়কার হোক কিংবা তার পরে হোক কোন পার্থক্য নেই। যখন কেউ ধর্মচ্যুত হয় কিংবা ধর্মের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়, পুনরায় হেদায়েত পাওয়া তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজেই আমাদের সজাগ থাকা ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের অন্তরকে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে আমাদের চিন্তা-চেতনা যেন কখনও আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে না যায়। আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সব সময় স্মরণে রাখতে হবে যাতে আমাদের অন্তর বক্রতার শিকার না হয়। আর এটাই হচ্ছে হযরত মূসার (আ.) সম্প্রদায়ের পরিণতি থেকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত।