খ্রিষ্টান সম্প্রদায় কর্তৃক হযরত ঈসার (আ.) দিকনির্দেশনা উপেক্ষা
অতঃপর হযরত ঈসার (আ.) সম্প্রদায়ের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে; তারাও হযরত মূসার (আ.) সম্প্রদায়ের অনুরূপ পরিণতির শিকার হয়েছিল। এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হচ্ছে-
(সে সময়কেও স্মরণ কর,) যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা বলেছিল, ‘হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল।’ ( সূরা সাফ্ফ : ৬ ) অতঃপর হযরত ঈসা (আ.) তার সম্প্রদায়ের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“(আমি) তওরাত থেকে যা কিছু আমার পূর্বে ছিল তার সত্যায়নকারী।” হযরত ঈসার (আ.) আগমনের অর্থ এটা নয় যে, তাঁর পূর্বেকার আসমানি কিতাব তথা তওরাত রহিত হয়ে গেছে। তিনি তওরাতে বর্ণিত শরিয়তি বিধি-বিধানকে সামগ্রিকভাবে বাতিল করেন নি। বরং তিনি তওরাতের বিধানাবলির সংস্কার সাধন করেছেন তথা কিছু বিধানকে রহিত করেছেন আবার কিছু বিধান সংযোজন করেছেন। অন্যভাবে বলা যায় যে, ইয়াহুদি ধর্মের শিক্ষা-দীক্ষা ও হযরত মূসার (আ.) শরিয়ত এবং তওরাতের বিধানাবলি হযরত ঈসার (আ.) আনীত ধর্মে বহাল ছিল। এছাড়া খ্রিষ্টধর্মে তওরাত অন্যতম আসমানি কিতাব হিসেবে স্বীকৃত। আজ বাইবেল নামে যে কিতাব প্রকাশিত হয় এবং তা সকলের নাগালেই রয়েছে; বিশ্বের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বিরা সেটিকে আসমানি কিতাব হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তওরাতও এ কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তওরাতও খ্রিষ্টধর্মের আকিদা অনুযায়ী আসমানি ও নির্ভরযোগ্য কিতাব হিসেবে গণ্য।