সূরা সাফফের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয়: জাতিসমূহের কঠিন সংকটময় পথযাত্রায় অপরিহার্য বিষয়
আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আলোচ্য আয়াত সূরা সাফ্ফের মূল বক্তব্য ও মর্মবাণীর পক্ষে ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হিসেবে পরিগণিত। আমরা আরও উল্লেখ করেছি যে, সূরা সাফ্ফের মূখ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে- এমন কিছু মুসলমান রয়েছে যারা নিজেদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়াতে কিংবা তাদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব যথাযথভাবে নিরূপণ করতে সক্ষম না হওয়ার কারণে; তারা এমন কিছু দাবি করে (মুখে প্রচার করে বেড়ায়) কিন্তু বাস্তব আমলের ক্ষেত্রে হয় তারা তা সম্পাদনে ব্যর্থ নতুবা তা সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকে। এমন অবস্থা ঐ জাতির জন্য অত্যন্ত ভয়ানক ও বিপর্যয়কর বিষয়; যে জাতি মহান আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে অগ্রসরমান এবং যার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ ও অসমাপ্ত পথ বিদ্যমান। কেননা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে এ জাতিকে অনেক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে এগুতে হবে; আর এ পথযাত্রা ততক্ষণ পর্যন্ত সাফল্যমণ্ডিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের মানুষের সততা এবং কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন না হবে। যেমনভাবে প্রকৃত মু’মিন এবং ঐ সব ন্যায়বান ব্যক্তি যারা নিজেদের সংকটময় পথযাত্রায় কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে; যার বাস্তব নমুনা আমরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে খুঁজে পাই। সৌভাগ্যক্রমে বর্তমান সময়েও এমন উৎকৃষ্ট নমুনা আমাদের নিজেদের সমাজেও পর্যাপ্ত পরিমাণে চোখে পড়ে।
আলোচ্য সূরার মূখ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে- সূরার শুরুতে জিহাদ এবং আল্লাহর পথে চেষ্টা, সাধনা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হয়েছে; আর এ বিষয়বস্তুকে সামনে রেখেই পরবর্তী আয়াতসমূহ বর্ণিত হয়েছে। প্রথমে মু’মিনদের প্রতি সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে, তোমরা যা বল তা কেন সম্পন্ন কর না। পরবর্তীতে এক্ষেত্রে কিছু উপমার প্রতি ইশারা করা হয়েছে; যা থেকে বুঝা যায় যে, এ তিরস্কার তাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যারা মুখে জিহাদের কথা বলা সত্ত্বেও বাস্তবে জিহাদে অংশ নেয় নি। আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পছন্দ করেন যারা তার পথে সারিবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে এবং এ পথে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় অটল ও অনঢ় থাকে। অবশ্য আমরা পূর্বেকার বৈঠকে ইশারা করেছি যে, আয়াতে তিরস্কার তাদেরকে করা হয়েছে যারা ওহুদের যুদ্ধে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছে এবং শত্রুর মোকাবেলা না করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেছিল এবং প্রশংসা তাদের জন্য যারা বদরের যুদ্ধে কাফিরদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছে। এ যুদ্ধে কাফিরদের তুলনায় মু’মিনদের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ হওয়া সত্ত্বেও তারা সম্মিলিতভাবে ও ঈমানি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; তাই আল্লাহ তাদের এ সংগ্রামের প্রশংসা ও তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔