স্ত্রীর অধিকার

তোমার স্ত্রীর অধিকার হচ্ছে এই যে, তোমাকে জানতে হবে যে, আল্লাহ্পাক তাকে তোমার জন্যে স্বস্তি, শান্তি ও সখ্যতার কারণ হিসেবে রেখেছেন। সুতরাং তোমার জানা উচিত যে, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্যে এক নেয়ামতস্বরূপ। অতএব, তাকে সম্মান করবে ও তার প্রতি দয়ালু হবে। যদিও তার উপর তোমার অধিকার অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ তাই তারও উচিত তোমার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা। কেননা, সে তোমার অধীনস্থ। তোমার উচিত তার খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা। আর যখনই সে অজ্ঞতাবশত কোনো ভুলকাজ করে তখন তাকে ক্ষমা কর। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: 

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে। ( সূরা: আররূম, ২১তম আয়াত)

 তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটিমাত্র সত্তা থেকে এবং তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া যাতে সে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। ( সূরা আরাফ, ১৮৯তম আয়াত ) 

 আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.) স্বীয় পুত্র মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়াকে বলেন: হে পুত্র। যখনই তুমি সামর্থ্য লাভ করবে তখনই আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে নিজেকে শক্তিশালী কর এবং যখনই তুমি দুর্বলতা অনুভব করবে তখনই আল্লাহর নাফরমানীর ক্ষেত্রে (আরও) দুর্বল হও। আর যদি পার তবে তোমার স্ত্রীর উপর এমন কোনো কিছু চাপিয়ে দিয়ো না যা তার সাধ্যের বাইরে। কেননা, এতে তার সৌন্দর্যকে অধিকতর স্থায়ী করবে এবং তা তার মানসিক প্রশান্তির জন্যে অধিকতর উপযোগী ও তার অবস্থার (দৈহিক সুস্থতার) জন্যে শ্রেয়তর। কারণ নিশ্চয়ই নারী হচ্ছে কোমল ফুল, বীর নয়। অতএব, সর্বাবস্থায় তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর এবং তাকে সহযোগিতা কর যাতে সুন্দর জীবনের অধিকারী হতে পার।. 

 হযরত ইমাম সাদিক (আ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ্পাক রহম করুন সেই বান্দার প্রতি যে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। নিশ্চয় আল্লাহপাক তার স্ত্রীর সব দায়িত্বভার তার উপরই অর্পণ করেছেন এবং তাকে তার স্ত্রীর অভিভাবক বানিয়েছেন। 

সূত্র : ( ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর রিসালাতুল হুকুক (অধিকার বিষয়ক সন্দর্ভ )

ফজর/ইয়াসিন

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More