হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর মাজার ও জিয়ারত সম্পর্কিত

হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর মাজার ও জিয়ারত সম্পর্কিত
আয়াতুল্লাহ মার’আশি নাজাফীর একটি সত্য স্বপ্ন
আয়াতুল্লাহ-আল-উযমা সাইয়্যেদ মার’আশি নাজাফী (রহ.) বলেছেন: আমার পিতা মরহুম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মাহমুদ মার’আশি, যিনি পবিত্র নাজাফ নগরীতে বসবাস করতেন, তিনি হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর পবিত্র মাজার মোবারক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আর তিনি এই কাজটি সম্পাদনের জন্য খতমে মুজাররাবের (অজানা কিছু জানার একটি দুয়া ও আমল) আয়োজন করেন এবং একটানা চল্লিশটি রাতে উক্ত আমলটি করতে থাকেন।
চল্লিশতম রাতে অনেক তাওয়াসসুল ও আমল করার পর তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
স্বপ্নে তিনি ইমাম বাকির (অথবা ইমাম সাদিক) (আ.) এর শরণাপন্ন হলেন।
ইমাম (আ.) তাকে বললেন:
অর্থ: কারিমায়ে-আহলে-বাইতের নিকট যাও।
তিনি মনে করেছিলেন এখানে কারিমায়ে-আহলে-বাইত বলতে হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর কথা বলা হয়েছে।
তিনি বললেন: আপনার উপর আমার জীবন উৎসর্গিত হোক! আমি তো হযরত যাহরা (সা.আ.) এর কবর মোবারক খুঁজতে আর তার যিয়ারত করতেই এই আমলটি করেছিলাম।
ইমাম (আ.) বললেন: আমি এখানে হযরত মাসুমা (সা.আ.) এর কবর মোবারকের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছি, যেটা ইরানের কোম শহরে অবস্থিত।
অতঃপর বললেন: মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোনো এক মাসলেহাতের (কল্যাণ) কারণে হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর কবরকে চিরকাল গোপন রাখার ইরাদা করেছেন। আর এজন্যই তিনি হযরত যাহরা (সা.আ.) এর মাজারের পরিবর্তে হযরত মাসুমা (সা.) এর মাজারকে প্রকাশ্য ও স্পষ্ট রেখেছেন। হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর মাজার মোবারক প্রকাশ্য থাকলে তা ঠিক যতোটা মর্যাদার অধিকারী থাকতো, হযরত মাসুমা (সা.আ.) এর পবিত্র মাজার মোবারকও ঠিক ততোটাই মর্যাদার অধিকারী।
আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মাহমুদ মার’আশি নাজাফীর ঘুম ভাঙলেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, হযরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.) এর মাজার যিয়ারতের উদ্দেশে কোম শহরে হিজরত করবেন।
এরপর তিনি অতিদ্রুতই স্ব-পরিবারে ইরাকের নাজাফ থেকে ইরানের কোমের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং কোমে পৌছে হযরত মাসুমা (সা.আ.) এর মাজার যিয়ারত করেন।
এরপর তিনি নাজাফে প্রত্যাবর্তন করেন।
পরবর্তীতে তার সুযোগ্য সন্তান আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ শাহাবুদ্দিন মার’আশি কোমে আসেন এবং হযরত মাসুমা (সা.) এর মাজারের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করা শুরু করেন।
এরপর তিনি প্রায় ৬৬ বছর ইসলামী জ্ঞানার্জন ও ইসলামের খেদমত করার পর ৯৬ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।
তিনি প্রতিদিন ফজরের আযানের পূর্বে হযরত মাসুমা (সা.) এর মাজার যিয়ারতের জন্য যেতেন। এমনকি মাঝে মধ্যে হারামের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দরজা খোলার অপেক্ষা করতেন।
আয়াতুল্লাহ মার’আশি নাজাফী (রহ.) নিজের সম্পর্কে বলেছেন: আমি দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ বিবি মাসুমা (সা.) এর প্রথমে জিয়ারত করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। ভাষান্তর: মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More