396
হযরত হোসাইন (আ.) আরো অগ্রসর হলেন। কুফা পৌছতে মাত্র দুই মনযিল বাকি। হঠাৎ ১০০ অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে হোর বিন এযিদ হযরত হোসাইন (আ.)-এর কাছে উপস্থিত হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন-হে হোর! তুমি কি আমাদের সাহায্য করার জন্য এসেছ? নাকি আমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য এসেছ? হোর বলল, আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করতেই এসেছি। হোসাইন (আ.) বললেন-
তখনই দু’ জনের মাঝে কথাবার্তা বিনিময় হয়। পরিশেষে হযরত আবু আবদিল্লাহ হোসাইন (আ.) বললেন-তোমরা যেসব চিঠি পাঠিয়েছ বা তোমাদের দূতেরা যা বলেছে, তোমার এখনকার মত যদি তার বিপরীত হয় তাহলে যেখান থেকে এসেছি, সেখানেই ফিরে যাব। কিন্তু হোর এবং তার সাথীরা হযরত হোসাইন (আ.)-এর প্রত্যাবর্তনে বাধা দিল। হোর বলল, হে রাসূলের সন্তান! এমন কোন পথ বেছে নিন যা কুফায়ও যাবে না মদীনায়ও না। যাতে ইবনে যিয়াদের কাছে কোন কৈফিয়ত দিতে পারি। বলব যে, হোসাইন এমন পথে চলে গেছে যে, তাকে আমি দেখতে পাইনি। হযরত হোসাইন (আ.) বাম দিকের পথটা বেছে নিলেন এবং‘ আজীব হাজানাতে ’ উপনীত হলেন। ঐ সময়ই ইবনে যিয়াদের একটি চিঠি হোরের হাতে এসে পৌছল। ঐ চিঠিতে হোরকে হোসাইনের ব্যাপারে তার গৃহিত ব্যবস্থার কারণে কড়া ভাষায় তিরস্কার করা হয় এবং আরো কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়।
হোর ও তার সাথীরা, হযরত হোসাইন (আ.)-এর পথ রুদ্ধ করে দাড়ায় এবং তাকে যেতে নিষেধ করে। হযরত হোসাইন (আ.)বললেন, তুমি কি বলনি যে, আমি ভিন্ন পথ ধরে চলি, যা মদীনা কিংবা কুফার পথ নয়। বলল-হ্যাঁ, বলেছিলাম। কিন্তু আমীর ইবনে যিয়াদের চিঠি এসে পৌছেছে, ঐ চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আপনার উপর কঠোরতা আরোপ করি। তাছাড়া তার হুকুম অনুসরণ করছি কি না পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমার বিরুদ্ধে গুপ্তচর নিয়োগ করেছে।
একথা শোনার পর হযরত হোসাইন (আ.) আপন সঙ্গী-সাথীদের মাঝে দাড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠানোর পর বললেন- হে জনতা আমাদের সামনে যে পনিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সত্যিই দনিয়া পাল্টে গেছে। মন্দ ও কুৎসিৎ দিকগুলো প্রকাশ করে দিয়েছে। ভাল দিকগুলোকে পশ্চাতে ফেলে দিয়েছে। ক্রমাগত মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সে চলছে। অথচ পার্থিব জগতের কিছু নেই। গ্লাস থেকে পানি ঢেলে ফেলার পর যে দু’ এক ফোটা পানি থেকে যায় দুনিয়ার ততটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে। লবণাক্ত জমির মতই একটি হীন জীবন প্রবাহ এখানে বর্তমান। আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, এখানে সত্যের উপর আমল করা হচ্ছে না এবং বাতিলকে বাধা দেয়া হচ্ছে না। এর ফলশ্রুতি হচ্ছে, মু’মিন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়াকেই অগ্রাধিকার দেয়। সত্যিই আমি মৃত্যুকে সৌভাগ্য এবং জালিমদের সাথে জীবন যাপনকে অন্যায় ছাড়া অন্যকিছু মনে করছি না।
এ বক্তব্য শোনার পর যুহ্ইার ইবনে ক্বীন দাড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান আপনার বক্তব্য শুনেছি। আমাদের কাছে এই অস্থায়ী জগতের কোন মূল্য নেই। দুনিয়ার জীবন যদি স্থায়ী হত এবং তাতে চিরদিন থাকতাম তবুও আপনার পথে নিহত হওয়াকে এই স্থায়ী জীবনের উপর অগ্রাধিকার দিতাম। এরপর হেলাল ইবনে নাফে বাজলী উঠে দাড়ালেন এবং বললেন-খোদার কসম মৃত্যু এবং শাহাদতকে আমরা ভয় পাইনা।আমাদের সেই নিয়ত ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আপনার দুশমনদের সাথে দুশমনি এবং আপনার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব রাখি। এরপর যুবাইর ইবনে খুজাইর উঠে দাড়ালেন এবং বললেন-হে পয়গম্বরের পুত্র আপনাকে দিয়ে আল্লাহ আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। যাতে আপনার সহযোগী হয়ে লড়াই করে আপনার পথে আমাদের দেহগুলো টুকরো টুকরো করি এবং বিনিময়ে কিয়ামেতের ময়দানে আপনার নানাজানের সুপারিশ নছিব হয়।
