হিজাববিরোধী আন্দোলনে পশ্চিমা ঔপনিবেশিকদের নোংরা রাজনৈতিক চাল

by Syed Tayeem Hossain

লেখকঃ মোঃ সাফিউর রহমান

অলিম্পিকে পুরুষ খেলোয়াড়রা অনেক ইভেন্টে টপলেস বা বুক খোলা অবস্থায় অংশগ্রহণ করলেও নারী খেলোয়াড়রা কিন্তু তেমনটি করতে পারেন না। যদিও অলিম্পিক একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন এবং এতে সকল ধর্মের ও সংস্কৃতির মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন, তারপরেও আয়োজকরা এখানে একটি পরিধেয় নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং অংশগ্রহণ করতে হলে এই নীতির মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক।

এটা নিয়ে কিন্তু কখনো কোন পোষাকের স্বাধীনতাকামি সংগঠনকে কথা বলতে দেখা যায় না, যদিওবা অলিম্পিক অনেক বড় একটা ইভেন্ট এবং পারফর্মেন্স অনুযায়ী এতে অংশগ্রহণ করা সকলের অধিকার। কখনো কোন নারী সাতারুকে বলতে শুনি নাই যে, “পুরুষদের মতো বুক খুলে সাতার কাটলে আমরা আরো গতি পেতাম।” অথবা কোন আফ্রিকান বা ওশেনিয়ান অংশগ্রহণকারীকেও বলতে শুনি নাই যে, “উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি আমার সংস্কৃতি অনুসারে বুক খোলা কাপড় পড়বো, এটা আমার অধিকার।”কোন এক অদৃশ্য কারণে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বেঁধে দেয়া পোষাক নীতি বিনাবাক্যে সবাই মেনে নিয়েছে এবং সবার কাছে এটা স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।

ইরান একটা স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র। এর রয়েছে একটি জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। যে সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ করেছে যে, “মহিলারা ঘরের বাইরে, শুধুমাত্র পাবলিক প্লেসে হিজাব পরবেন, যেমনটা সৃষ্টিকর্তা চান।”

“তারা চাইলে মুখ, হাতের কবজি পর্যন্ত এবং পায়ের পাতা খোলা রাখতে পারবেন।” এটা একটা রাষ্ট্রীয় পোশাক নীতি, ঠিক যেমনটা রয়েছে আরও অনেক মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশেই। কিন্তু কেন যেন ইরানের হিজাব নীতি নিয়েই কথা হয় সবচেয়ে বেশি, এর বিরুদ্ধে আন্দোলনও যেন হয় একটু বেশি।

কারণটা অবশ্য সহজেই অনুমেয়। কারণ আর দশটা মধ্যপ্রাচ্যীয় সরকারের মতো ইরান সরকার পশ্চিমা ঔপনিবেশিকদের সমর্থিত সরকার নয়।ইরানের বিপ্লবী সরকার এবং বেশিরভাগ জনগণ নিজেদের আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর পবিত্র পরিবারের সেবক হিসেবে দাবি করে এবং কার্যতঃ এক আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন পার্থিব শক্তির আনুগত্য অস্বীকার করে না। সেজন্য ইরানের বিপ্লবী সরকারের অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিতে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক মনোভাবাপন্ন দেশগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ইরানে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়।

যেহেতু ইরানের বিপ্লবী সরকার একটি আল্লাহভীরু সরকার এবং এর পরিচালনার উপরদিকে রয়েছেন কিছু সত্যিকারের আল্লাহভীরু মানুষ, তাই এই সরকারের কর্মকাণ্ড ভুল ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ কম।তারচেয়ে বরং পোশাক নীতির বিরোধিতা করে কিছুদিন পরপর রাস্তায় নেমে পড়াটা সহজ। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, এশিয়ার কিছু দেশের যুবসমাজের কাছে ইউরোপ-আমেরিকার ভিসা কিন্তু বেশ আকর্ষণীয়।

আর ছোট্ট একটা ঘটনাকে বড় করে, ফলাও করে প্রচারের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে রয়েছে কিছু নিজস্ব গণমাধ্যম। যেগুলো আসলে তাদের ঔপনিবেশিক প্রভাব ধরে রাখার হাতিয়ারগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে এই যে, দিনশেষে মানুষ আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি, যাকে তিনি দিয়েছেন অত্যন্ত গভীর বিশ্লেষনী ক্ষমতা এবং অনুধাবন করার শক্তি। পশ্চিমাদের ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং আমাদের কুক্ষিগত গোলাম বানিয়ে রাখার মনোভাব মনের অভ্যন্তরে সবাই ঠিকই অনুভব করে এবং এইসব ঔপনিবেশিক অত্যাচারিদের মানুষ ঠিকই ঘৃণা করে।###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔