হোসাইন ইবনে আলীর জন্ম অর্থাৎ হিজরী চতুর্থ বৎসর থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর ইন্তেকাল যা তাঁর জন্মের ছয় বৎসর ও কয়েক মাস পরে সংঘটিত হয়-পর্যন্ত জনগণ ইমাম হোসাইনের ব্যাপারে ইসলামের সত্য নবী (সা.)-এর মহব্বত ও স্নেহ-ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ থেকে তৃতীয় ইমামের উচ্চ মর্যাদা ও মহত্বের ব্যাপারে ভালভাবেই ওয়াকিফহাল হয়েছেন।
হযরত সালমান ফারসী বলেন :
“ আমি দেখেছি রাসূল (সা.) হোসাইনকে তাঁর হাঁটুর উপর বসিয়ে চুমু খাচ্ছেন আর তখন তিনি বলছেন :
তুমি মহান ,মহান ব্যক্তির পুত্র এবং মহান ব্যক্তিবর্গের পিতা। তুমি ইমাম ,ইমামের পুত্র এবং ইমামদের পিতা। তুমি আল্লাহর হুজ্জাত (অকাট্য দলিল) ,আল্লাহর হুজ্জাতের পুত্র এবং আল্লাহর নয়জন হুজ্জাতের পিতা। তাদের শেষ জন শেষ যামানায় কিয়াম করবেন (আল্লাহ তাঁর আগমন ত্বরান্বিত করুক)।(মাকতাল আল খাওয়ারেযমী ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪৬। কামালুদ্দীন ,সাদুক ,পৃ. ১৫২।)
হযরত আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করছেন :
“ যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে আপনি আপনার আহলে বাইতের মধ্য থেকে কাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন ?তিনি বলেন : “ হাসান ও হোসাইনকে। (সুনানে তিরমিযী ,৫ম খণ্ড ,পৃ. ৩২৩।)
প্রায়ই প্রিয় নবী (সা.) হাসান ও হোসাইনকে তাঁর বুকে চেপে ধরে তাদের পবিত্র দেহের সুঘ্রাণ নিতেন এবং তাদের চুম্বন করতেন। (যাখায়েরুল উকবা ,পৃ. ১২২।)
আবু হুরাইরা বর্ণনা করেছেন যে : আমি দেখেছি যে রাসূল (সা.) হাসান ও হোসাইনকে তাঁর কাঁধে বসিয়ে আমাদের দিকে আসছেন। যখন তিনি আমাদের কাছে পৌঁছলেন তখন বললেন ,যে আমার এই দু ’ সন্তানকে ভালবাসবে সে আমাকে ভালবাসলো আর যে তাদের সাথে শত্রুতা করবে সে আমার সাথে শত্রুতা করলো। ( আল ইসাবা ,১১তম খণ্ড ,পৃ. ৩৩০।)
হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইমাম হোসাইনের মাঝে আধ্যাত্মিক ও ঐশী সম্পর্কের প্রাণবন্ত বর্ণনা এবং আন্তরিকতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ রাসূল (সা.)-এর নিম্নের এই বাক্যটির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেছেন :
“ হোসাইন আমা থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে। ” (সুনানে তিরমিযী ,৫ম খণ্ড ,পৃ. ৩২৪। এ বিভাগে আহলে সুন্নাতের গ্রন্থাবলী থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করা হলো যেন তাদের জন্যে এগুলো সনদ হিসেবে কাজ করে।)