রোযার সংজ্ঞা : আল্লাহর সন্তষ্টি এবং তার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে ফজরের আজান হতে মাগরিবের আজান পর্যন্ত ঐ সকল কাজ থেকে বিরত থাকা যা রোযাকে বাতিল করে দেয় যার বিবরণ পরবর্তী আলোচনায় বিষদভাবে উল্লেখ করা হবে।
নিয়ত
০১। রোযার নিয়ত মনে মনে করা বা মুখে উচ্চারণ করা যেমন আগামীকাল রোযা রাখব বলা জজুরী নয় এবং আল্লাহর আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে ফজরের আজান হতে মাগরিবের আজান পর্যন্ত ঐ সকল কাজ যা রোজাকে বাতিল করে দেয় তা হতে বিরত থাকাই যথেষ্ট কিন্তু পরিপূর্ণ বিশ^াস স্থাপনের জন্য যে নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত রোযা রেখেছে তার উচিৎ হবে ফজরের আযানের কিছুক্ষণ পূর্বে এবং মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত ঐ সকল কর্ম সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকা যা রোজাকে বাতিল করে দেয়।
০২। মানুষ রমজান মাসে প্রতি রাতে পরবর্তী দিনের রোযার নিয়ত করতে পারে কিন্তু উত্তম হলো রমজান মাসের প্রাথম রাতে পুরো মাসের রোযার নিয়ত করে নেয়া।
০৩। রমজান মাসের রোযার নিয়তের জন্য কোন নিদিষ্ট সময় নেই। ফজরের আযানের পূর্বে যে কোন সময় পরবর্তী দিনের রোযার নিয়ত করলেই যথেষ্ট।
০৪। মোস্তাহাব রোজার নিয়তের সময় রাতের প্রথম ভাগ থেকে পরবর্তী দিনের মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যে কোন সময় মোস্তাহাব রোযার নিয়ত করে রোযা রাখলে তা সঠিক বলে গণ্য হবে।
০৫। যে ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত না করে ঘুমিয়ে পড়ে এবং জোহরের পূর্বে জেগে ওঠে এবং রোজার নিয়ত করে নেয় এমতাবস্থায় তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। হোক সে রোযা ওয়াজিব কিংবা মোস্তাহাব। তবে জোহরের পর সে যদি জেগে উঠে সেক্ষেত্রে ওয়াজিব রোজার নিয়ত করতে পারবে না।
০৬। যদি কোন ব্যক্তি রমজানের রোযা ব্যতিত অন্য কোন ওয়াজিব রোযা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে অবশ্যই তাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। যেমন ঃ কাযা রোযা, মান্নতের রোযা ইত্যাদি। কিন্তু রমজান মাসে নিয়ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা জরুরী নয় যে আমি রমজান মাসের রোযা রাখছি বরং তার জানা না থাকে অথবা ভুলে যায় যে রমজান মাস এবং অন্য কোন রোযার নিয়ত করে নেয় তাহলে সে রোযা রমজান মাসের রোযা হিসেবে গণ্য হবে।
০৭। যদি কেউ রমজান মাস জেনেও অন্য কোন রোজার নিয়ত করে রোযা রাখে তাহলে উক্ত রোযা না রমজান মাসের না নিয়তকৃত রোজা হিসাবে গণ্য হবে।
০৮। যদি কোন ব্যক্তি রমজানের প্রথম দিন ভেবে রোজা রেখে নেয় এবং পরবর্তীতে যদি সে জানতে পারে যে উক্ত দিন রমজানের দ্বিতীয় অথবা তৃৃতীয় দিন ছিল এমতাবস্থায় উক্ত রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
০৯। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোযার নিয়ত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং পরদিন যে কোন সময় জ্ঞান ফিরে পায় সেক্ষেত্রে এহতিয়াতে ওয়াজিব হল, তার রোযা পূর্ণ করা। যদি সে রোজা পূর্ণ না করে থাকে তাহলে উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১০। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত করে নেয় এবং পরবর্তীতে যদি সে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে ও পর দিন তার নেশা ভাল হলে এহতিয়াত ওয়াজব হল ঐ দিন রোজ পূর্ণ করা এবং পরবর্তীতে উক্ত রোযার কাজা আদায় করা।
১১। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের আজানের পূর্বে রোজার নিয়ত করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা পবরর্তী দিন মাগরিবের পর জাগ্রত হয় এমতাবস্থায় তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১২। যদি কেউ রমজান মাস সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে অথবা ভুলে যায় এবং জোহরের পূর্বে অবগত হয় এবং উক্ত সময় পর্যন্ত যদি ঐ সকল কাজ যা রোজাকে বাতিল করে দেয় সম্পাদন না করে থাকে তাহলে ঐ সময় রোজার নিয়ত করে নিলে রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি কেউ এমন কাজ সম্পাদন করে থাকে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় অথবা জোহরের পর রমজান মাস সম্পর্কে অবগত হয় এমতবাস্থায় তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবুও মাগরিব পর্যন্ত ঐ সকল কাজ যা রোযাকে বাতিল করে দেয় সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১৩। যদি কোন শিশু ফজরের আজানের পূর্বে প্রাপ্ত বয়ষ্ক বা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হয়ে ওঠে তবে ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব যদি ফজরের আজানের পর প্রাপ্ত বয়ষ্ক বা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হয়ে উঠে এ ক্ষেত্রে তার উপর উক্ত দিনের রোযা রাখা ওয়াজিব নয়।
১৪। যদি কোন ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির রোযা রাখার জন্য আজির হয় (অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে রোযা রাখার দায়িত্বভার গ্রহণ করে) সে যদি মোস্তাহাব রোযা রাখতে চায় তাহলে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ঐ ব্যক্তি যার উপর কাযা বা অন্য কোন ওয়াজিব রোযা থেকে থাকে তাহলে সে ব্যক্তি মোস্তাহাব রোযা রাখতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি ভুলক্রমে মোস্তাহাব রোযা রেখে নেয় এবং জোহরের পূর্বে ভুল ভাঙ্গে তবে তার মোস্তাহাব রোযা শেষ হয়ে যাবে এবং নিজ নিয়ত ওয়াজিব রোযার জন্য পরিবর্তন করতে পারে এবং যদি জোহারের পর অবগত হয় বা ভুল ভাঙ্গে এমতাবস্থায় মোস্তাহাব রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যদি মাগরিবের পর জানতে পারে সে ক্ষেত্রে মোস্তাহব রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। যদিও সন্দেহ থেকে যায়।
১৫। যদি রমজান মাস ব্যতিত অন্য কোন নির্দিষ্ট দিনের রোডা কারো উপর ওয়াজিব থেকে থাকে যেমন : মান্নত করা হলো যে অমুক দিন রোযা রাখবো। সুতরাং ফজরের আজান পর্যন্ত যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ত না করে তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং অজ্ঞানতাবশত ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব যদি সে ভুলে গিয়ে থাকে এবং জোহরের পূর্বে তার স্বরণে আসে তবে এমন কোন কাজ যা রোযাকে বাতিল করে দেয়, না করে থাকে এবং রোজার নিয়ত করে নেয় সে ক্ষেত্রে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। অন্যথায় বাতিল হয়ে যাবে।
১৬। যদি কোন ওয়াজিব অথচ অনিদিষ্ট রোযা যেমন : কাফফারা রোযার নিয়ত যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে জোহর পর্যন্ত না করে থাকে তাতে কোন আপত্তি নেই বরং রোযা রাখাার ইচ্ছা পোষন না করে থাকে অথবা সিন্ধন্ত হীনতায় ভোগে যে ঐ দিন সে রোযা রাখবে কি না সেক্ষেত্রে যদি এমন কোন কাজ সম্পাদন না করে থাকে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং জোহরের পূর্বে রোযার নিয়ত করে নেয় তবে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১৭। যদি রমজান মাসে জোহারের পূর্বে কোন কাফের ব্যক্তি (নাস্তিক) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যািদ সে ফজরের আজান হতে ঐসময় পর্যন্ত এমন কোন কাজ সম্পাদন না করে থাকে যা রোজাকে বাতিল করে তাহলে সে উক্ত দিনে রোযা রাখতে পারবে না এবং ঐ রোযার কাযাও নেই।
১৮। যদি কোন অসুস্থ্য ব্যক্তি রমজান মাসে জোহরের পূর্বে সুস্থ্য হয়ে উঠে এবং ফজরের আজান হতে সুস্থ্য হওয়ার সময় পর্যন্ত এমন কোন কাজ না করে থাকে যা রোজাকে বাতিল করে দেয় সে ক্ষেত্রে তার উচিৎ হবে সে দিনের রোযার নিয়ত করে নেয়া এবং ঐ দিনের রোজা রাখা। যদি সে জোহরের পর সুস্থ্যলাভ করে তাহলে ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব নয়।
১৯। কোন নিদিষ্ট দিন সম্পর্কে যদি কোন ব্যক্তির সন্দেহ হয় যে ঐ দিনটি শাবান মাসের শেষ দিন না-কি রমজান মাসের প্রথম দিন সে ক্ষেত্রে ঐ দিনের রোযা রাখা ওয়াজব নয়। যদি রোযা রাখতে চায় তবে রমজানের রোযার নিয়তে রোযা রাখতে পারবে না। তবে কাযা অথবা অন্য কোন রোযার নিয়ত করে রোযা রেখে দেয় এবং পরে সে জানতে পারে যে ঐ দিনটি ছিল রমজান মাসের সে ক্ষেত্রে ঐ রোযাটি রমজান মাসের রোযা হিসেবে গণ্য হবে।
২০। যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ হয় যে শাবান মাসের শেষ দিন না কি রমজান মাসের প্রথম দিন এবং ঐ দিন যদি কাযা রোযা অথবা মোস্তহাব রোযার নিয়ত করে রোযা রেখে দেয় এবং দিনের যে কোন সময় অবগত হয় যে ঐ দিনটি রমজান মাসের প্রথম দিন তাহলে তাকে রমজান মাসের রোযার নিয়ত করতে হবে।
২১। যদি কোন সুনিদিষ্ট দিনের ওয়াজিব রোযার (যেমন : রমজান মাসের) নিয়ত করা থেকে বিরত থাকে তবে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে যদি কেউ এমন কোন কাজ করার নিয়ত করে যাতে রোযা বাতিল হয়ে যায় যদি সে উক্ত কাজ সম্পাদন না করে থাকে এমতাবস্থায় তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে না।
২২। মোস্তাহাব অথবা ওয়াজিব রোজার যার কোন নিদিষ্ট দিন নির্ধারিত নেই (যেমন কাফফারার রোযা) যদি কেউ এমন কোন কাজ সম্পদন করার ইচ্ছা পোষন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় বা দ্বিধায় পতিত হয় যে এমন কাজ সম্পাদন করবে কি না, সে ক্ষেত্রে ঐ কাজ না করে থাকে এবং জেহরের পূর্বে পুণরায় রোযার নিয়ত করে নেয় তাহলে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
ঐ সকল জিনিস যা রোযাকে বাতিল করে দেয়।
২৩। নয়টি জিনিস রোযাকে বাতিল করে দেয়।
১) পানাহার।
২) সহবাস।
৩) এসতেবরা। (অর্থাৎ এমন কাজ যাতে বীর্য নির্গত হয়)
৪) আল্লাহ, রাসূল (স.) এবং তার প্রকৃত স্থলাভিসিক্তগণদের প্রতি মিথ্যার অপবাদ দেয়।
৫) গাঢ় ধুলিকণা আকষ্ঠ পৌছানো।
৬) সম্পূর্ণ মাথাকে পানিতে নিমজ্জিত করা।
৭) জানাবাত, হাঁয়েজ নিফাসের অবস্থায় ফজরের আজান পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকা।
৮) কোন তরল পদার্থ দ্বারা হুকনা করা (তরল পদার্থ মলদ্বারে প্রবিষ্ট করানো।
৯)। বমি করা।
এই সকল বিষয়গুলি পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
পানহার
২৪। কোন রোযাদার ইচ্ছাকৃত ভাবে যদি কিছু পানাহার করে নেয় তাহলে তার রোজা বাতিল হয়ে যায়। চাই ঐ জিনিসগুলি যা সাধারণতা খাওয়া হয় (যেমন চাউল, রুটি) অথবা খাওয়া হয় না (যেমন মাটি, গাছের রস ইত্যাদি) এবং পরিমানে কম বা বেশী হোক না কেন। এমনকি কোন ব্যক্তি যদি মুখ থেকে মেছওয়াক বের করে পুণরায় তা মুখে প্রবেশ করিয়ে দেয় ও তার জলীয় কণা গিলে ফেলে সে ক্ষেত্রেও রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তবে মেছওয়াকের জলীয় কণা মুখের অভ্যন্তরে এমন ভাবে মিশে যায় যে তাকে আর বাইরের জলীয় কণা বল যায় না সেক্ষেত্রে রোযা বাতিল হবে না।
২৫। খাওয়া অবস্থায় যদি জানা যায় যে সকাল হয়ে গেছে তাহলে উচিৎ ঐ খাবারের লোকমা বের করে নেয়া। ইচ্ছাকৃত ভাবে ঐ খাবার গলার্ধ করণ করলে রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
২৬। যদি রোযাদার অজ্ঞাতাবশতঃ কোন কিছু খেয়ে নেয় তাহলে রোযা বাতিল হবে না।
২৭। এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো এই যে, রোযাদারকে এমন টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা খাবার পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। অথবা এমন টিকা যা ঔষধ হিসেবে অথবা শরীরের কোন অঙ্গকে অবশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় সে ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকাতা নেই।
২৮। দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাদ্য কণা যদি কোন রোযাদার ইচ্ছাকৃত ভাবে গিলে ফেলে তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
২৯। যে ব্যাক্তি রোযা রাখার ইচ্ছাপোষণ করে তার উপর ফজরের আজানের পূর্বে দাঁত খিলাল করা জরুরী নয়। তবে সে যদি অবগত থাকে যে, দাতের মাঝে আটকে থাকা খাদ্য কণা দিনের বেলায় পেটের ভিতর চলে যাবে তা সত্বেও খেলাল না করে এবং কিছু খাদ্য কণা পেটের ভিতর চলে যায় সে ক্ষেত্রে রোযা বাতিল হয়ে যাবে। যদি খাদ্য কণা পেটের ভিতর না যায় তবে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো ঐ দিনের রোযার কাজা আদায় করা।
৩০। টক কিংবা অন্য কোন জিনিসের কল্পনার কারণে মুখের ভিতর থুথু জমা হয় এবং তা গিলে ফেলা হয় সেক্ষেত্রে তা রোযাকে বাতিল করবে না।
৩১। মাথা বা বুক থেকে নিঃসৃত কফ যদি মুখের অগ্রভাগ পর্যন্ত না পৌছায় এবং তা গিলে ফেলা হয় সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা বা ইশকাল নেই। তবে কফ যদি মুখের অগ্রভাগে এসে যায় তা হলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো কফ না গেলা।
৩২। রোযাদার কোন ব্যক্তি যদি পিপাসার্ত হয়ে পড়ে এবং আশাংকা থাকে যে যদি সে পানি পান না করে তাহলে সে মারা যাবে সেক্ষেত্রে ঐ ব্যাক্তি নির্দিষ্ট পরিমান পানি পান করতে পারে যা তাকে মৃত্যু হতে রক্ষা করতে সক্ষম। তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু উক্ত রোযা যদি রমজান মাসের হয় তবে পানি পান করার পর রোযার অবশিষ্ট সময় ঐ সকল জিনিস থেকে বিরত থাকবে হবে যা রোযাকে বাতিল করে দেয়।
৩৩। শিশু বা পাখাীর জন্য খাদ্য চিবানো বা স্বাদ গ্রহণ যা সাধারনত গলার ভিতরে পৌছায় না। যদি হঠাৎ গলার ভিতরে পৌছে যায় তবে রোযা বাতিল হবে না। তবে হ্যা প্রথম থেকে যদি কোন ব্যক্তি অবগত থাকে যে খাদ্য গলা পর্যন্ত পৌছে যাবে এবং ভিতরে পৌছে গেলেও রোযা বাতিল হয়ে যাবে তাহলে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে এমনকি কাফফারাও দেয়াও ওয়াজিব।
৩৪। কোন ব্যক্তি বাধক্য অথবা দুর্বলতার কারণে রোযা ভাঙ্গতে পারবে না। তবে দুর্বলতা যদি এমনই হয় বা সহ্য শক্তির বাইরে সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির রোযা ভাঙ্গার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।
সহবাস
৩৫। সহবাস রোযাকে বাতিল করে দেয় এমনকি কেবল খাৎনাকৃত অংশ ভিতরে প্রবেশ করে এবং বীর্য ও নির্গত না হয়।
৩৬। যদি খাৎনাকৃত অংশের চেয়ে কম ভিতরে প্রবেশ করে এবং বীর্য ও নির্গত না হয় সেক্ষেত্রে রোযা বাতিল হবে না। তবে যার পুরুষাংগ কাটা এবং খাৎনাকৃত অংশের চেয়ে কমও ভিতরে প্রবেশ করে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
৩৭। সন্দেহের কারণে যদি কেউ মনে করে যে পুরুষাংগ কাটা অংশ পরিমান প্রবেশ করেছে কিনা তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক হরে। ঠিক তেমনই যার পুরুষাংগ কাটা সে যদি সন্দেহ করে যে পুরুষাংগটি ভিতরে চলেগেছে কি না সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক হবে।
৩৮। যদি কোন ব্যক্তি ভুলে যায় যে রোযা অবস্থায় আছে এবং সহবাসে মিলিত হয় অথবা তাকে সহবাস করতে বাধ্য করা হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হবে না। কিন্তু সে রোযা আছে এ কথাটি স্মরণে আসলে অথবা সহবাস অবস্থায় তার উপর থেকে বাধ্যবাধকতা উঠে গেলে সেক্ষেত্রে তার উচিৎ হবে সহবাস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়া। যদি নিজেকে সরিয়ে না নেয় তাহলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩৯। যদি রোযাদার ইসতেমনা করে অর্থাৎ এমন কাজ বা দ্বারা বীর্য নির্গত হয় তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
৪০। যদি অনিচ্ছাকৃত বা বিনা কারণে বীর্য বের হয়ে যায় সেক্ষেত্রে রোযা বাতিল হবে না। তবে এমন কাজ যা সম্পাদন করলে বীর্যকে বের হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে না সেক্ষেত্রে রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৪১। রোযাদার যদি মনে করে সে যদি দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পড়ে তাহেলে স্বপ্নদোষ হবে (অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় বীর্য নির্গত হওয়া) তাহলে সে দিনের বেলায় ঘুমাতে পারে। সুতরাং যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং বীর্যও নির্গত হয় তাহলে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৪২। যদি রোযাদার ঐ মুহুর্তে ঘুম থেকে জাগ্রত হয় যে মুহুর্তে তার বীর্য নির্গত হচ্ছিল তবে জাগ্রত হওয়ার পর বীর্যকে নিগর্ত হওংঅ থেকে বাদাদান ওয়াজিব নয়।
৪৩। রোযাদারের স্বপ্নদোষ হওয়ার পর সে প্রসাব করতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী যেন ইসতেব্রা করে। তবে সে যদি জ্ঞাত থাকে যে প্রসাব বা ইসতেব্রা করলে প্রসাবনালিতে আটকে থাকা বীর্য নির্গত হবে সেক্ষেত্রে যদি সে গোসল করে থাকে তাহলে তাকে ইসতেব্রা না করা উচিত।
৪৪। যখন কোন রোযাদারের স্বপ্নদোষ হয় এবং সে জ্ঞাত থাকে যে প্রসাবনালীতে বীর্য অবশিষ্ট রয়ে গেছে এক্ষেত্রে যদি সে গোসলের পূর্বে প্রসাব না করে তাহলে গোসলেন পর বীর্য বেরিয়ে আসবে সেক্ষেত্রে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো গোসলেন পূর্বে প্রসাব করে নেয়া।
৪৫। যদি কেউ বীর্য বের করার নিয়তে কোন কাজ সম্পাদন করে এবং পরে যদি বীর্য বের না হয় এমতাবস্থায় রোজা বাতিল হবে না।
৪৬। যদি রোযাদার বীর্য বের করার উদ্দেশ্যে ব্যতিরেকে কারো সাথে আমোদ প্রমোদ কিংবা হাসি মসকারায় লিপ্ত থাকে এবং এক্ষেত্রে তার বীর্য বের হওয়ার অভ্যাসও যদি না থাকে এমতাবস্থায় তার বীর্য হঠাৎ নির্গত হলেও তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে। তবে যদি সে হাসি ঠাট্টা ঐ সময় পর্যন্ত অব্যাহত রাখে যখন তার বীর্য বের হওয়া অত্যাসন্ন হয়ে পড়ে এবং সে বীর্য বের হওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত না করে এবং বীর্য নির্গত হয়ে গেলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
আল্লাহ ও রাসূল (স.) এর প্রতি মিথ্যার অপবাদ দেয়া
৪৭। যদি কোন রোযাদার কথা লেখা কিংবা ইশারায় অথবা ঐধরণের কোন জিনিসের মাধ্যূমে আল্লাহ কিংবা পয়গম্বার কিংবা নবী (স.) এর প্রকৃত স্থলাভিষিক্তদের উপর মিথ্যা আরোপ করে যদিও বা সাথে সাথে স্বীকার করে নেয় যে, সে মিথ্যা বলেছিল অথবা তওবা করে নেয় তথাপি ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হল এই যে হযরত ফাতেমা (আ.) এবং অবশিষ্ট আম্বিয়া এবং তাদের প্রকৃত স্থলাভিষিক্তদের ক্ষেত্রেও এ আদেশের কোন ব্যতিক্রম হবে না।
৪৮। যদি কোন রোযাদার ব্যক্তি কোন ঘটনা বর্ণনা করতে চায় যার সম্পর্কে নিজে জানে না যে ঘটনাটি সত্য না মিথ্যা এমতাবস্থায় এহতিয়াতে ওয়াজিব হল যে ঐ সংবাদ বা ঘটনা যে ব্যক্তি বর্ণনা করেছে বা যে বইতে লিপিবদ্ধ আছে তার সুত্র উল্লেখ করা। যদি সে সু-প্রবৃত্ত হয়ে ঘটনাটি নিজের পক্ষ থেকে উল্লেখ করে তাহলেও তার রোযা বাতিল হবে না।
৪৯। যদি রোযাদার কোন কথা বা বিষয়কে সত্য জেনে আল্লাহ বা রাসূর (স.) এর সাথে সংযোগ করে বর্ণনা করে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি মিথ্যা ছিল বলে প্রমানিত হয় সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হবে না।
৫০। যদি কেউ অবগত থাকে যে আল্লাহ ও রাসূল (স.) এর প্রতি মিথ্যার সংযোগ দিয়ে রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং অতঃপর কোন বিষয় সম্পর্কে সে ক্ষাত হয় যে বিষয়টি মিথ্যা এবং ঐ মিথ্যাকে আল্লাহ ও রাসূল (স.) এর প্রতি সংযোগ দেয় কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় যে ঐ সংযোগটি সত্য ছিল সেক্ষেত্রে ঐ ব্যাক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৫১। যদি কোন রোযাদার অপরের সৃষ্ঠ কোন বানোয়াট কথাকে আল্লাহ রাসূল (স.) ও তার প্রকৃত স্থলাভিসিক্তদের প্রতি ইচ্ছাকৃত ভাবে সংযোগ দেয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তবে উক্ত মিথ্যা কথা বানোয়াটকারীর সংযোগ দিয়ে বর্ণনা করলে সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই।
৫২। যখন কোন রোযাদার জিজ্ঞাসিত হয় যে রাসূল (স,) এমনটি বলেছেন কি এবং সে হা সুচকের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবে না সুচক উত্তর দেয় এবং না সুচকের উত্তরের ক্ষেত্রে হা সুচক উত্তর দেয় ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫৩। যদি আল্লাহ রাসূল (স.) এর পক্ষ থেকে কোন সত্য কথাব্যক্ত করে কিন্তু পরবর্তীতে সে মিথ্যা বলেছি বলে উল্লেখ করে অথবা রাতের বেলায় তাদের ( আল্লাহ ও রাসূল (স.) এবং তার স্থলাভিষিক্তদের ) প্রতি মিথ্যা সংযোগ দেয় কিন্তু দিনের বেলায় রোযা থাকা অবস্থায় উল্লেখ করে যে, যে কথাটি রাতে বলেছিলাম তা সত্য এমতাবস্থায় উক্ত ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
গাঢ় ধুলিকণা কন্ঠনালী পর্যন্ত পৌছানো।
৫৪। গাঢ় ধুলিকণায় কন্ঠনালী পর্যন্ত পৌছানো রোযাকে বাতিল করে দেয়। চাই ঐ ধুলিকণা এমন জিনিসের হয় যার খাওয়া হালাল যেমন : আটা কিংবা এমন জিনিসের যার খাওয়া হারাম যেমন : মাটি।
৫৫। যদি বাতাসের কারণে ধুলিণার সৃষ্টি হয় এবং রোযাদার তা জানা সত্বেও সৃষ্ট ধুলিকণা থেকে নিজেকে রক্ষা না করে এবং ঐ ধুলিকণা কন্ঠনালী পর্যন্ত পৌছে যায় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫৬। রোযাদারের উচিৎ জলীয় বাষ্পকণা যা মূখহগবরে পানিতে রাপান্তরিত হয়ে যায় ঠিক তদ্রæপ এহতিয়াতে ওয়াজিবের কারনে সিগারেট অথবা তামাকের ধোয়া(হুক্কার ধুয়া) ইত্যাদি কন্ঠনালী পর্যন্ত না পৌছায়।
৫৭। যদি কোন রোযাদার নিজেকে রক্ষা করতে না পারে এবং কন্ঠনালী পর্যন্ত জলীয় বাষ্প অথবা ধোয়া কিংবা গাঢ় ধুলিকণা প্রবেশ করে তথাপি তার যদি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে ঐ সকল জিনিসগুলি কন্ঠনালী পর্যন্ত পৌছাতে পারবে না সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৫৮। কোন ব্যক্তি নিজে রোযাদার হওয়ার বিষয়টি যদি ভুলে যায় এবং নিজেকে রক্ষা অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে ধুলা-বালি ইত্যাদী কন্ঠনালী পর্যন্ত প্রবেশ করে তবে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হবে না এবং যদি সম্ভব হয় ঐ সকল জিনিসগুলি বের করে নেয়া।
মাথাকে পানিতে ডুবানো
৫৯। রোযাদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সম্পূর্ণ মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় অথচ ঐ ব্যক্তির অবশিষ্ট শরীর পানির বাইরে থাকে এমতাবস্থায় এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো ঐ রোযার কাযা আদায় করা।
৬০। যদি মাথার অর্ধাংশ প্রথমে এবং দ্বিতীয় অংশ পরে পানিতে ডুবায় তাহলে রোযা বাতিল হবে না।
৬১। যদি কেঊ সন্দিহাত হয়ে পড়ে যে তার সম্পূূর্ণ মাথা পানিতে ডুবেছে কি – না সেক্ষেত্রে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৬২। যদি সম্পূর্ণ মাথা পানিতে ডুবে যায় অথচ মাথার সামান্য চুল পানির উপরে থেকে গেলে রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬৩। এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যে মাথাকে গোলাকফ জলে না ডুবানো তবে অন্য কোন মিশ্রিত পানি যা তরল পাদার্থে মাথা ডুবানোর ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই।
৬৪। অনিচ্ছাকৃত তবে যদি রোযাদার পানিতে পড়ে যায় এবং সম্পূর্ণ মাথা পানির নিচে চলে যায় অথবা সে নিজের রোযাদার হওয়া সম্পর্কে ভুলে গিয়ে মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় তাহলে উক্ত রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে না।
৬৫। সাধারণত পানিতে ঝাপ দিলে রোযাদারের মাথা পানিতে ডুবে যায় একথা জানা সত্তেও যদি রোযাদার পানিতে ঝাপ দেয় এবং তার মাথা পানিতে ডুবে যায় তাহলে উক্ত রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
৬৬। যে ব্যক্তি রোযা আছে একথাটি ভুলে গিয়ে তার সম্পূর্ণ মাথাকে পানিতে ডুবিয়ে দেয় অথবা কোন ব্যাক্তি জোরপুর্বক রোযাদারের মাথাকে পানিতে ডুবিয়ে দেয় তাহলে প্রথম অবস্থায় রোযা সম্পর্কে তার যখনই স্মরণ হবে অথবা ঐ ব্যাক্ত নিজের হাত রোযাদারের মাথা থেকে সরিয়ে নেয়ার সাথে সাথে পানি থেকে তার মাথা বের করে নেয়া উচিৎ । যদি সে মাথা সাথে সাথে বের করে না নেয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬৭। যদি কেউ নিজে রোযাদার হওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায অতঃপর গোসলের নিয়তে তার সম্পূর্ণ মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় তাহলে তার গোসল ও রোযা উভয়ই সঠিক বলে গণ্য হবে।
৬৮। যদি কোন ব্যক্তি রোযা রেখেছে বলে জ্ঞাত থাকে অতঃপর গোসলের নিয়তে নিজের সম্পূর্ণ মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে তার রোযা যদি নিদিষ্ট হয় যেমন রমজান মাসের রোযা তবে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যে সে যেন পুনরায় গোসল করে এবং উক্ত রোযার কাযা আদায় করে। যদি রোযা মোস্তাহাব অথবা অনিদিষ্ট হয় যেমন কাফফারা জাতীয় রোযা তাহলে তার গোসল সঠিক হবে কিন্তু রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬৯। কোন ডুবান্ত ব্যক্তিকে বাচানোর উদ্দেশ্যে যদি কেউ নিজের সম্পূর্ণ মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় যদিও ডুবন্ত ব্যক্তির প্রাণ বাচানো অত্যাবশ্যক (ওয়াজিব) হলেও ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
জানাবাত হায়েজ ও নিফাসের অবস্থায় ভোরের আজান পর্যন্ত থাকা
৭০। মুজনিব অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ভাবে যদি ফজরের আজান পর্যন্ত গোসল না করে কিংবা তার করণীয় ছিল তায়াম্মুম করা কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তা যদি না করে তবে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৭১। এমন ওয়জিব রোযা যার সময় রমজান মাসের রোযার ন্যায় নির্দিষ্ট ভোরের আজান পর্যন্ত গোসল অথবা তায়াম্মুম না করে যদিও বা ইচ্ছাকৃতভাবে নয় বরং অন্য ব্যক্তি তাকে গোসল কিংবা তায়াম্মুম করতে না দেয় সেক্ষেত্রে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৭২। যে ব্যক্তি জুনুব হয়েছে এবং তাকে ওয়াজিব রোযা যার সময় নির্দিষ্ট যেমন : রমজানের রোযা রাখতে হবে অথচ সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ভ করে এবং গোসলের সময় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে তাহলে সে তায়াম্মুম করে রোযা রাখতে পারে এবং তার রোযা সঠিক বরে গণ্য হবে তবে সে গুনাহগার হবে।
৭৩। মুজনিব যদি রমজান মাসে গোসল করা ভুলে যায় অতঃপর একদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার স্মরণে আসে তাহলে তার উচিৎ ঐ রোযার কাযা আদায় করা। পক্ষান্তরে যদি কয়েক দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার স্মরনে আসে তবে তার উচিত ততদিন রোযার কাযা আদায় করা যত দিন সে দৃঢ় বিশ^াসের কারণে গোসল ছাড়াই রোযা রেখে এসেছে যেমন- যদি সে জানতে পারে যে তিন দিন গোসল ছাড়াই রোযা রেখেছে অথবা চার দিন তাহলে তিন দিনের রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৭৪। রমজান মাসে কোন ব্যক্তি রাতের বেলায় গোসল কিংবা তায়াম্মুম করার সময় না থাকে এবং তার সত্তেও নিজেকে মুজনিব করে নেয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং তার উপর কাযা ও কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। তবে তায়াম্মুমের সময় থাকলে এবং নিজেকে মুজনিব করলে তায়ামুমের সাথে তার রোযা সঠিক হবে তবে সে গুনাহগার হবে।
৭৫। গোসলের সময় ছিল এ ধারনাবশতঃ যদি কেউ নিজেকে মুজনিব করে এবং পরবর্তীতে জানতে পারে যে গোসলের সময় সংকীর্ণ এ অবস্থায় যদি সে তায়াম্মুম করে নেয় সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৭৬। যে ব্যক্তি রমজান মাসের রাত্রে মুজনিব হয়েছে কিন্তু তার বিশ্বাস আছে যে যদি সে এ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে তাহলে ভোরের আজানের পূর্বে সে জেগে উঠতে পারবে না এমতাস্থায় তার না ঘুমানো উচিৎ নয়। তবে সে যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং আজানের পূর্বে জোগে উঠতে না পারে তাহলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। কাযা এবং কাফফারা দুটোই তার আদায় করতে হবে।
৭৭। যদি মুজনিব রমজানের রাতে ঘুমিয়ে পড়ে এবং পুনরায় জাগ্রত হয়ে যদি মনে করে যে দ্বিতীয়বার ঘুমিয়ে পড়লে গোসলের জন্য তার ঘুম ভাংবে তাহলে এ অবস্থায় সে ঘুমাতে পারে।
৭৮। যদি কোন ব্যক্তি রমজান মাসের রাতে মুজনিব হয় অথচ সে জ্ঞাত থাকে বা অনুমান করে যে যদি সে ঘুমিয়ে পড়ে তাহলে ভোরের আজানের পূর্বে জেগে উঠবে। সুতরাং এ বিষয়ে যদি সে সুদৃঢ় ইচ্ছা পোষন করে যে জেগে ওঠার পর সে গোসল করবে এবং ঘুমিয়ে পড়ে এবং ভোরের আজানের পূর্বে তার ঘুম না ভাংগে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৭৯। যদি কেউ রমজান মাসের রাতে মুজনিব হয় এবং সে জ্ঞাত থাকে ও দৃঢ় বিশ্বাস পোষন করে যে যদি সে ঘুমিয়ে পড়ে ফজরের আজানের পূর্বে জেগে উঠবে কিন্তু এ কথাটি ভুলে যায় যে জেগে ওঠারা পর গোসল করা উচিৎ] এ অবস্থায় যদি সে ঘুমিয়ে পড়ে এবং ভোরের আজানের সময় উঠতে না পারে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক।
৮০। যদি কোন ব্যক্তি রমজান মাসে মুজনিব হয় এবং সে জ্ঞাত থাকে ও ধারনা পোষন করে যে ভোরের আজানের পুর্বে জেগে উঠবে এবং জেগে উঠার পর গোসল করার ইচ্ছা পোষন না করে অথবা সিদ্ধান্ত হীনতায় ভোগে যে সে গোসল করবে কিনা অথবা এ ব্যপারে গুরুত্বই না দেয় সুতরাং সে যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং জেগে না ওঠে তাহলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৮১। যদি মুজনিব রমজান মাসে ঘুমিয়ে পড়ে পুনরায় জেগে ওঠে এবং সে জ্ঞাত থাকে অথবা ধারণা পোষণ করে যে যদি দ্বিতীয় বার ঘুমিয়ে পড়লে এবং ভোরের আজানের পূর্বে জেগে উঠবে এবং এটাও ইচ্ছা পোষণ করে যে জেগে ওঠার পর গোসল করবে সুতরাং সে পুনরায় দ্বিতীয় বার ঘুমিয়ে পড়ে এবং ফজরের আজান পর্যন্ত জেগে না ওঠে তবে তাকে উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তদ্রæপ যদি দ্বিতীয় বার ঘুম থেকে জেগে ওঠে পুনরায় তৃতীয় বার ঘুমিয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব নয়।
৮২। সে নিদ্রায় রোযাদারের স্বপ্নদোষ হয় উক্ত নিদ্রাকে সে যেন প্রথম নিদ্রা হিসেবে গণ্য না করে বরং নিদ্রা ভঙ্গ হওয়ার পর দ্বিতীয় বার ঘুমিয়ে যায় তাহরে এই নিদ্রাকে প্রথম নিদ্রা হিসেবে গণ্য করা।
৮৩। রোযাদারের দিনের বেলায় যদি স্বপ্নদোষ হয় সেক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক (সাথে সাথে) গোসল করা ওয়াজিব নয়।
৮৪। রমজান মাসে ভোরের আজানের পর ঘুম ভাঙ্গে এবং নিজেকে আবিষ্কার করে যে তার স্বপ্নদোষ হয়েছে যদি না সে জানে যে স্বপ্নদোষ আজানের পূর্বে হয়েছে তথা পিতার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৮৫। যে ব্যক্তি রমজান মাসের কাযা রোযা আদায় করছে এবং সে যদি ভোরের আজান পর্যন্ত জুনুব অবস্থায় থাকে যদিও ইচ্ছাকৃত ভাবে এরূপ না করলেও ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৮৬। যে ব্যক্তি রমজান মাসের কাযা আদায় করতে চায় যদি জোহরে আজানের পর তার ঘুম ভাঙ্গে এবং নিজেকে স্বপ্নদোষ অবস্থায় আবিস্কার করে এবং এও জানে যে ভোরের আজানের পূর্বে স্বপ্নদোষ রয়েছে এমতাব্যবস্থায় উক্ত কাযা রোযাগুলির আদায়ের সময় যদি সংকীর্ণ হয় যেমন তাকে ৫টি রোযার কাযা আদায় করতে হবে এবং রমজান মাসের চাঁদ উঠতেও মাত্র ৫দিন বাকী সেক্ষেত্রে রমজানের পর ঐ কাযা রোযাগুলি রাখতে হবে। যদি ঐ রোজার সময় সংকীর্ণ না হয় তবে অন্য যে কোন দিনে রোযা রাখতে পারে। দুই-ই অবস্থায় ঐ দিন রোযা রাখা জরুরী নয়।
৮৭। রমজান অথবা তার কাযা রোযা ব্যতিত অন্য কোন ওয়াজিব রোযায় ভোরের আজান পর্যন্ত জানাবাত থাকলে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েও থার রোযা সঠিক উক্ত রোযার সময় নির্দিষ্ট হোক বা না হোক।
৮৮। মহিলা যদি ভোরের আজানের পূর্বে হায়েজ অথবা নিফাস থেকে পাক রক্ত আসা বন্ধ হয়ে যায় এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে গোসল কিম্বা শরিয়াতের দৃষ্টিতে তার তায়ামুম করা করণীয় হয় এবং সে তায়ামুমও না করে তবে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৮৯। যদি মহিলা ভোরের আজানের পূর্বে হায়েজ অথবা নিফাস থেকে পাক হয় এবং গোসল করার সময় অবশিষ্ট না থাকে সুতরাং সে যদি ওয়াজিব রোযা রাখতে চায় যার সময় রমজান মাসের রোযার ন্যায় নির্দিষ্ট তাহলে তায়াম্মুমের সাথে তার রোযা সঠিক হবে এবং ভোরের আজান পর্যন্ত জেগে থাকাও প্রয়োজন নেই। তবে মোস্তাহাব রোযা কিংবা এমন ওয়াজিব রোযা যার সময় নির্দিষ্ট নয় রাখতে চায় (যেমন-কাফফারার রোযা) তাহলে তায়াম্মুম করে রোযা রাখতে পারবে না।
৯০। যদি কোন মহিলা ভোরের আজানের নিকটবর্তী সময় হায়েজ অথবা নিফাস থেকে পাক হয় এবং গোসল অথবা তায়াম্মুম এ দুটোরই সময় অবশিষ্ট না থাকে অথবা কোন মহিলা ভোরের আজানের পর অবগত হয় যে সে ভোরের আজানের পূর্বে পাক হয়েছিল (রক্ত আসা বন্দ হয়েছিল) সেক্ষেত্রে তার রোযা সঠিক হবে। তবে সে যদি পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে রমজানের কাযা রোযা রেখে থাকলে এমতাবস্থায় রোযা সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ আছে।
৯১। যদি কোন মহিলা ভোরের আজানের পর হায়েজ অথবা নিফাস হতে পর হয় অথবা দিনের যে কোন সময় হায়েজ অথবা নিফাসের রক্ত দৃষ্টিগোচর হয় যদিও বা তা মাগরিবের নিকটবর্তী হয় তাহলেও তার রোযা বাতিল।
৯২। যদি কোন মহিলা হায়েজ অথবা নিফাসের গোসল করতে ভুলে যায় এবং এক অথবা কয়েকদিন পর তার স্মরণে আসে সে ক্ষেত্রে সে যে কয়টি রোযা রেখেছিল তা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৯৩। কোন মহিলা যদি ভোরের আজানের পূর্বে হায়েজ অথবা নিফাস হতে পাক হয় অথচ গোসলের ক্ষেত্রে সে অবহেলা প্রদর্শন করে এবং সময় সংকীর্ণতার জন্য আয়াম্মুমও না করে তাহলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে অবহেলা না করে বরং মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট গোসলখানা খুলবার অপেক্ষায় থাকে যদিও এ অবস্থায় সে তিনবার ঘুমিয়ে পড়ে এবং আজান পর্যন্ত গোসল না করে এখন সে যদি তায়াম্মুম করে থাকে তাহলে তার রোযা সঠিক।
৯৪। ইসতেহাজবতী (রক্ত ক্ষরণ) মহিলা যদি ঐ সকল গোসল করে থঅকে যার বিস্তারিত বিবরণ ইসতেহাজার অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে তাহলে তার রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৯৫। যে ব্যক্তি মৃতদেহ স্পর্শ করেছে অর্থাৎ নিজের শরীরের কোন অংশ মৃত ব্যক্তির শরীরের সাথে স্পর্শ করে নেন তাহলে গোসলে যাবে মাইয়অত ব্যতিত রোযা রাখতে পারে। যদি সে রোযা অবস্থায়ও থাকে এবং মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করে তাহলেও ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল হবে না।
হুকনা করা
৯৬। তরল পদার্থ জিনিস দ্বারা হুকনা করা যদিও তা অপরাগতার কারণে (যেমন চিকিৎসা ইত্যাদির কারণে) হলেও তা রোযাকে বাতিল করে দেয়। তবে কোন শুষ্ক জিনিস দ্বারা চিকিৎসার জন্য হুকনা করা রোযার জন্য প্রতিবন্ধকতা নেই। এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো ঐ সকল জিনিসগুলি যা নেশার জন্য ব্যবহার করা হয় মেযন আফিম, মলদ্বার দ্বারা প্রবেশ করানো কিম্বা খাদ্যের জন্য কোন জিনিস মল দ্বারা প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকা অত্যাবশ্যক।
বমি করা
৯৭। যদি রোযাদার ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে এবং সে যদি অসুস্থ্যতার কারণে বমি করতে বাধ্যও হয় তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্যই সে যদি ভুলে গিয়ে বমি করে কিম্বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তার বমি এসে পড়লে কোন ইশকাল বা বাধা নেই।
৯৮। যদি রাতে এমন জিনিস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং যদি সে জানে যে ঐ জিনিসের কারণে দিনের বেলায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হতে পারে তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো এই যে ঐ রোযার কাযা আদায় করা।
৯৯। যদি রোযাদার বম আটকাতে পারে এবঙ তা যদি রোযাদারের জন্য ক্ষতি বা কষ্টের কারণ না হয় তাহলে তার উচিত বমি আটকানো।
১০০। যদি রোযাদারের গলার ভিতর মাছি প্রবেশ করে এবং গলার এত ভিতরে প্রবেশ করে যে তা গিলে ফেললে এ কথা বলা যাবে না যে, সে তা খেয়েছে। এক্ষেত্রে তা (মাছি) বের করা জরুরী নয় এবং এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক। যদি মাছি খুব বেশী ভিতরে প্রবেশ না করে থাকে তাহলে তা বের করা জরুরী। যদিও এর জন্য বমি করতে হয় এবং এর ফলে রোযা বাতিল হয়ে যায় সুতরাং এক্ষেত্রে যদি গিলে ফেলে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো কাফফারা এ জামানা (তিন প্রকার কাফফারা ও মেন আদায় করে)।
১০১। যদি ভুলক্রমে কোন জিনিস গিলে ফেলে এবং তা পাকস্থলিতে পৌছানোর পূর্বোতার মনে পড়ে যে সে রোযা রেখেছে তবে ঐ জিনিস এতদুর পর্যন্ত নিচে নেমে জেরে থাকলে যা পাকস্থলিতে প্রবেশ করায় তাকে খাওয়া বলা যাবে না তাহলে ঐ জিনিস বের করা জরুরী নয় এবং ঐ ব্যক্তির রোযাও সঠিক।
১০২। যদি কোন ব্যক্তি বিশ্বাস পোষণ করে যে ঢেকুর তুললে কোন জিনিস বেরিয়ে আসবে তাহলে তার ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকুর তোলা উচিত নয়। তবে বিশ্বাস পোষণ না করে থাকলে এক্ষেত্রে ঢেকুর তোলার কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।
১০৩। কোন ব্যক্তি ঢেকুর তোলার অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন জিনিস গলা কিংবা মুখে এসে পড়লে ঐ ব্যক্তির উচিত হবে তা বাইরে ফেলে দেওয়া এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিতরে চলে গেলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে না।
যে সকল জিনিস রোযাকে বাতিল করে দেয় তার আহকাম
১০৪। যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ও স্বেচ্ছায় প্রনোদিত হবে এমন কাজ বা রোযাকে বাতিল করে দেয় সম্পাদন করে তবে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
১০৫। রোযাদার যদি ভুলবশতঃ এমন কোন কাজ সম্পাদন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং পরে তার রোযা বাতিল হয়েছে বলে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ সকল কাজের যে কোন একটি কাজ যা রোযাকে বাতিল করে সম্পাদন করে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
১০৬। কোন জিনিস রোযদারের গলায় ভিথর জোরপূর্বক যদি ঢুকিয়ে দেয়া হয় অথবা মাথা পানির নিচে জোরপূর্বক ডুবিয়ে দেয়া হয় তবে তা বাতিল বলে গন্য হবে না। কিন্তু কোন ব্যক্তি কাউকে বাধ্য করে যেন সে নিজেই তার রোযাকে বাতলি করে যেমন তাকে বলে যে এ খাবার খাও নইলে তোমার প্রাণ অথবা সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া থেকে বাচার জন যদি সে উক্ত জিনিস খেয়ে নেয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
১০৭। রোযাদারের এমন কোন জায়গায় যাওয়া উচিত হবে না যার সম্পর্কে সে অবগত থাকে যে সেখানে গেলে তার মুখে জোরপূর্বক কোন জিনিস ঢুকানো হবে কিম্বা তাকে বাধ্য করা হবে তার রোযা বাতিল করতে। যা যদি এমন জায়গায় যেতে সে ইচ্ছা পোষণ করে পরে যদি সে সেখানে না যায় অথবা গেলেও খাবার জন্য তাকে বাধ্য না করা হয় তাহলে তার রোযা সঠিক। তবে হা, বাধ্য হয়ে অথবা অপরাগতার কারণে এমন কাজ যা রোযাকে বাতিল করে দেয় যদি সে সম্পাদন করে, তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যদি তার মুখে জোরপূর্বক কোন জিনিস ঢুকানো হয় এক্ষেত্রে তার রোযা বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিব›দ্বকতা আছে।
যে সকল জিনিস রোযাদারের জন্য মাকরুহ
১০৮। কিছু জিনিস রোযাদারের জন্য মাকরুহ যেমন-চোখে ঔষধ দেওয়া অথবা এমন সুরমা ব্যবহার করা যার স্বাদ ও গন্ধ গলা পর্যন্ত পৌছাতে পারে এমন কাজ করা বা দুর্বলতার কারণ হয় যেমন রক্ত বের করা, গোসলখানায় যাওয়অ নস্যি টানা জায়েজ নয়, এমন সুগন্ধযুক্ত ঘাসের ঘ্রাণ নেয়া, মহিলাদের পানিতে বসা, শুষ্ক জিনিস দ্বারা হুকনা করা, দেহ বসন ভিজানো, দাঁত তোলা এবং ঐ সকল কাজ যার কারণে মুখ দিয়ে রক্ত বের হয় এবং এও মুকরুহ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বীর্য বের হওযার উদ্দেশ্য ব্যতিত চুম্বন করে অথবা এমন কাজ করা যারা দ্বারা কাম ভাব জেগে ওঠে এবং উক্ত কাজ বীর্য নির্গত হওয়ার উদ্দেশ্যে করে থাকে এবং বীর্যও নির্গত হয়ে যায় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ভিজা কাঠ দ্বারা মেছওয়াক করা মাকরুহ।
ঐ সকল অবস্থাসমূহ যেখানে রোযার কাযা ও কাফফারা উভই ওয়াজিব
১০৯। রমজানের রোযার যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে অথবা রাতে মুজনিব হয় এবং ৮০নং মসলা অনুযায়ী তিনবার জেগে ওঠে এবং পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ে এবং ফজরের আজানের পূর্বে পর্যন্ত জেগে না ওঠে তাহলে কেবল ঐ রোযার কাযা আদায় করা অত্যাবশ্যক এবং যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে হুকনা করে অথবা পানির নিচে মাথা ডুবিয়ে দেয় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো রোযার কাফফারাও আদায় করা এবং যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোন কাজ সম্পাদন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় তাহলে ঐ কাযা ও কাফফারা দুটোই আদায় করা ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক।
১১০। মাসআলা না জানার কারণে যদি কেউ এমন কোন কাজ করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় যদি মাসআলা জানার সুযোগ থাকা সত্তে¡ও তা না করে তাহলে এহতিয়অতে ওয়াজিবের দৃষ্টিকোণ থেকে কাফফারা ওয়াজিব এবং যদি মাসআলা জানা তার পক্ষে সম্ভব নয় অথবা মাসআলা সম্পর্কে তার কোন খেয়ালই নেই অথবা বিশ্বাস ছিল যে এ সকল জিনিস রোযাকে বাতিল করে না তাহলে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব নয়।
১১১। যে ব্যক্তির উপর রমজান মাসের রোযার কাফফারা ওয়াজিব তার উচিত হবে ধারাহিকভাবে ২ মাস রোযা রাখা (যার বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তীতে বর্ণনা করা হবে) অথবা ৬০জন ফকিরকে পেট ভরে আহার করানো অথবা প্রত্যেক মিসকিন বা ফকিরকে এক মুদ্দ (৭৫০ গ্রাম) পরিমাণ গম অথবা যব জাতীয় খাদ্য সামগ্রী দান করা। এও যদি সম্ভব না হয় তাহলে ঐ ব্যক্তি যত মুদ্দ খাবার দিতে সক্ষম ফকিরকে দান করা আর তাও যদি না হয় তাহলে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা (এসতেগফার) প্রার্থনা করা উচিত যদিও বা সে মাত্র একবারই আসতাগফেরুল্লাহ উচ্চারণ করে তথাপি এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যখনই সে কাফফারা আদায় করার সামর্থ অর্জন করবে তখন সে যেন কাফফারা আদায় করে দেয়।
১১২। যে ব্যক্তিকে রমজানের কাফফারার রোযা ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখতে হবে এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি যেন বিরতিহীন ১ দিন রোযা রাখে এবং অবশিষ্ট রোযা রাখার ক্ষেত্রে সে যদি ধারাবাহিকতা বজায় না রাখে তাহলে কোন অসুবিধা নেই।
১১৩। কোন ব্যক্তি রমজানের কাফফারার রোযা আদায়ের জন্য ২মাস রোযা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে এক্ষেত্রে তার উচিত হবে এমন সময় রোযা রাখা শুরু করা যেন ৩১ দিনের মধ্যে কোরআনীর ঈদ ইত্যাদি যে দিনগুলিতে রোযা রাখা হারাম সেদিন গুলি যেন না পড়ে।
১১৪। যদি কোন ব্যক্তি ধারাবহিক ভাবে রোযা রাখছে যদি কান কারণে ছাড়া একদিন সে রোযা না রাখে অথবা রোযা রাখা ঐ সময় শুরু করে যে মধ্যবর্তী সময়ে এমন একটি দিন এসে পড়ে যে ঐ দিনে রোযা রাখা তার উপর ওয়াজিব হয় উদাহরণ স্বরূপ সে মান্নত করেছিল যে ঐদিন রোযা রাখবে সুতরাং এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে পুনরায় কাফফারার রোযা প্রথম থেকে রাখতে হবে।
১১৫। যে রোযা যা পর পর বা ধারাবাহিকভাবে রাখতে হয় রোযা চলাকালীন অবস্থায় কোন ওজর বা কারণ সৃষ্টি হয় যেমন-হায়েজ অথবা নিফাসের রক্ত নির্গত শুরু অথবা এমন ভ্রমণ যা সম্পাদন করা ঐ ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক আহলে ঐ সকল ওজর বা কারণ দুর হলে পুনরায় শুরু থেকে রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। বরং অবশিষ্ট রোযা ওজর দূর হওয়ার পর যেন রাখা শুরু করে দেয়।
১১৬। যদি রোযা হারাম জিনিস দ্বারা বাতিল হয় যদিও ঐ জিনিস প্রকৃত হারাম হয় মেযন মদ অথবা ব্যাভিচার (জেনা) অথবা কোন কারণে হারাম হয়ে ছে যেমন ঋতু অবস্থায় নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো তার উপর তিনটি কাফফারাই ওয়াজিব অর্থাৎ একজন কৃতদাস মুক্ত করা, ২ মাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখা এবং ৬০জন মিসকিনকে খাবার দেওয়া অথবা প্রত্যেক মিসকিনকে এক মুদ্দ পরিমাণ গম. যব ইত্যাদি (প্রায় ৭৫০গ্রাম) দেওয়া এই তিনটি কাফফারা নিতেও সে যদি সক্ষম না হয় তাহলে এর মধ্যে যেটা সম্ভব সেটা যেন কাফফারা হিসেবে সে আদায় করে।
১১৭। রোযাদার যদি আল্লাহ ও রাসুল (সা.) এর প্রতি কোন মিথ্যা সন্মদ্ধ দেয় তাহলে সেক্ষেত্রে তহার উপর তিনটি কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
১১৮। রোজাদার যদি রমজানের এক দিবসে একাধিকবার সহবাস করে তবে ঐ ব্যক্তর উপর একটি কাফফারাই ওয়াজিব হবে। তবে সহবাস যদি হারাম হয়ে থাকে তবে তার উপর তিন কাফফারাই ওয়াজিব হবে।
১১৯। যদি রোযাদার রমজানের দিনে কোন কাজ একাধিকবার করে যার দ্বারা রোযা বাতিল হয় সে কাজটি জেনা বা ব্যাভিচারই হোক না কেন ঐ সকল কাজের জন্য একটি কাফফারাই যথেষ্ট।
১২০। যদি রোযাদার হারাম সহবাস করার পর নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয় তাহলে তিন কাফফারা দেয়া যথেষ্ট।
১২১। রোযাদার নিজের রোযাকে যদি হালাল জিনিস দ্বারা বাতিল করে যেমন পানি পান করে নেয় এবং পরে এমন কাজও সম্পাদন করে যা কিনা হারাম এবং রোযাকেও বাতিল করে দেয় যেন হারাম খাদ্য গ্রহণ করে এমতাবস্থায় ২ মাস ধারাবাহিক ভাবে রোযা রাখা অথবা ৬০জন মিসকিনকে আহার করানোই যথেষ্ট।
১২২। রোযা অবস্থঅয় কেউ যদি ঢেকুর তোলে এবং কোন জিনিস মুখে চলে আসে এবং তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা হয় সেক্ষেত্রে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং ঐ রোযার কাজা আদায় করা বাধ্যতামূলক এবং কাফফারাও দোয়া আবশ্যক। তবে যদি ঐ জিনিস খাওয়অ হারাম হয় যেমন ঢেকুরের সাথে রক্ত অথবা এমন কোন জিনিস এসে যায় যা খাদ্য দ্রব্যের বাইরে এবং তা জেনে স্তনে পুনরায় গিলে ফেলে তাহলে তাকে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে এবং সতর্কতার কারণে তার উপর তিনটি কাফফারাই ওয়াজিব।
১২৩। যে ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট দিনের রোযার মানত করেছে এবং ঐ দিন ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত রোযা বাতিল করে নেয় তাহরে ঐ ব্যক্তি যেন এক গোলাম বা কৃতদাস মুক্ত করে অথবা দুই মাস ধারাবাহিক ভাবে রোযা রাখে অথবা ৬০জন মিসকিনকে আহার করায়।
১২৪। কোন ব্যক্তি সময় সম্পর্কে অনুমান করতে পারতো অথচ অন্য কোন ব্যক্তির কথায় মাগরিবের সময় উত্তীর্ণ হয়েছে জেনে ইফতার করে এবং পরে জাতে পারে যে ঐ সময় মাগরিবের ওয়াক্ত হয়েছিল না তাহলে ঐ ব্যক্তির উপরকাযা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব।
১২৫। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা বাতিল করে দিয়েছে যদি জোহরের পর সফর করে অথবা কাফফারা আদায় করা থেকে বাচার জন্য জোহরের পূর্বে সফর করে তাহলে ঐ ব্যক্তি রোযার কাফফারা রহিত হবে না বরং জোহরের পূর্বে হঠাৎ তাকে যদি সফরে যেতে হয় তবুও এহতিয়াত হলো যে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব।
১২৬। কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা বাতিল করে দেয় এবং পরবর্তীতে কোন কারণ এসে যায় যেমন হায়েজ নিফাজ অথবা রোগ ইত্যাদির সম্মুখীন হয় তাহলে কাফফারা ওয়াজিব নয়।
১২৭। যদি কোন ব্যক্তির দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে আজ রমজান মাসের প্রথম দিন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ দিনের রোযা বাতিল করে দেয় এবং পরে জানতে পারে যেঐ দিন শাবান মাসের শেষ দিন ছিল তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর কাফফারা ওয়াজিব নয়।
১২৮। যদি কোন ব্যক্তির সন্দেহ হয় যে রমজানের শেষ দিন নাকি শাওয়ালের প্রথম দিন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা বাতিল করে দেয় এবং পরবর্তীতে জানতে পারে যে ঐ দিন শাওয়ালের প্রথম দিন ছিল তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর কাফফারা ওয়াজিব নয়।
১২৯। যদি কোন রোযাদার নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করে সুতরাং যদি সে নিজের স্ত্রীকে সহবাসে বাধ্য করে থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর তার নিজের এবং স্ত্রীর উভয়েই কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু স্ত্রী যদি নিজেই সহবাসে রাজি ছিল তাহলে প্রত্যেকের উপর নিজ নিজ কাফফারা ওয়াজিব হবে।
১৩০। কোন স্ত্রী যদি তার রোযাদার স্বামীকে সহবাস করতে অথবা এমন কোন কাজ করতে বাধ্য করে যা দ্বারা রোযা বাতিল হয়ে যায় সেক্ষেত্রে স্ত্রীর উপর তার স্বামীর কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হবে না।
১৩১। যদি কোন রোযাদার তার রোযাদার স্ত্রীকে সহবাসে বাধ্য করে কিন্তু স্ত্রী সহবাসরত অবস্থায় সহবাস করতে রাজি হয়ে যায় তাহরে স্বামী দুই কাফফারা এবং স্ত্রী এক কাফফারা আদায় করবে এবং যদি ইচ্ছা ও অধিকার বলে ঐ কাজ সম্পাদন করে যদিও তাকে বাধ্য করা হয়েছে সেক্ষেত্রে স্বামীর উচিত হবে নিজের এবং স্ত্রীর উভয়রই কাফফারা আদায় করা।
১৩২। যদি রোযাদার নিজের ঘুমান্ত স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তাহলে স্বামী উপর এক কাফফারা ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে স্ত্রীর রোযা সঠিক এবং কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
১৩৩। স্বামী যদি স্ত্রীকে সহবাস ব্যাতিত অন্য কোন এন কাজ করতে বাধ্য করে যাহা দ্বারা রোযা বাতিল হয় তাহলে স্বামীর উপর স্ত্রীর কাফফারা ওয়াজিব নয়। বরং স্ত্রীর উপরও কাফফারা ওয়াজিব নয়।
১৩৪। যে ব্যক্তি এমন ভ্রমণ অথবা অসুস্থতাজনিত কারণে রোযা রাখে না সে নিজের স্ত্রীকে সহবাসে বাধ্য করতে পারে না এবং সে যদি নিজের স্ত্রীকে সহবাসে বাধ্য করে তাহলে এহতিয়াত হলো স্ত্রীর কাফফারা দেয়া।
১৩৫। কাফফারা আদায় করার ক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শন করা উচিত নয়। তবে তাৎক্ষনিক আদায় করাও ওয়াজিব নয়।
১৩৬। কোন ব্যক্তির উপর যদি কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যায় এবং কয়েক বছর সে যদি আদায় না করে তাহলে কাফফারার উপর অতিরিক্ত কোন কিছু ওয়াজিব হবে না।
১৩৭। যে ব্যক্তিকে কাফফারার কারণে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করাতে হবে যদি সে ৬০ জন মিসকিন পায় তাহলে প্রত্যেককে এক মুদ্দ এর বেশী খাবার দিতে পারবে না অথবা একজন মিসকিনকে একবারের বেশী আহার করাতে পারবে না। তবে হা ঐ ব্যক্তি যদি পরিতৃপ্ত হয় এই ভেবে যে মিসকিন ঐ খাবার নিজের পরিবার পরিজনকে দেবে অথবা খাওয়অবে তাহলে প্রত্যেক ফকির অথবা মিসকিনের পরিবার পরিজনের জন্য তাতে শিশুও যদি থাকে এক মুদ্দ খাদ্য পৃথকভাবে দিতে পারে।
১৩৮। যে ব্যক্তি রমজান মাসে কাযা রোযা রাখছে যদি সে জোহরের পর ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের রোযা বাতিল করে দেয় তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর ১০ মিসকিনের প্রত্যেককে এক মুদ্দ পরিমাণ খঅদ্য আহার করানো ওয়াজিব। তবে সে দিতে যদি অক্ষম হলে তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো এর পরিবর্তে ঐ ব্যক্তি পর পর তিনদিন রোযা রাখবে।
ঐ সকল অবস্থাসমূহ যেখানে কেবল রোযার কাযা আদায় করা ওয়াজিব
১৩৯। এমন কিছু ক্ষেত্র বিদ্যমান যেখানে মানুষের উপর কেবল রোযা কাযা আদায় করা ওয়াজিব কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব নয় ঃ
(ক) রোযাদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রমজান মাসে বমি করে।
(খ) যদি রোযাদার রমজানের রাত্রে ঐ বর্ণনা অনুযায়ী যা ৮১নং মাসআলায় উল্লেখ করা হয়েছে ফজরের আজান পর্যন্ত তৃতীয় বার ঘুম থেকে জাগ্রত না হয়।
(গ) রোযাদার এমন কাজ সম্পাদন না করলেও যা রোযাকে বাতিল করে দেয় যদি রোযার নিয়ত না করে অথবা লোকদের দেখঅনোর নিয়নে রোযা রাখে অথবা রোযা না রাখার নিয়ত করে।
(ঘ) যদি রমজান মাসে জানাবতের গোসল করা ভুলে গিয়ে এক বা এবাধিক রোযা রাখে।
(ঙ) রমজান মাসে সোবহে সাদেক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বা অনুসন্ধান ব্যতিত এমন কাজ সম্পাদন করতে থাকা যা রোযাকে বাতিল করে দেয় কিন্তু পরে জানা গেল যে সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল এবং অনুসন্ধান করার পর সে ধারণা করে যে সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছে এবং পরে সে এমন কাজ সম্পাদন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং পুনরায় জানতে পারে যে সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল তাহলে ঐ দিনের কাযা আদায় করা ঐ ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। তবে অনুসন্ধানের পর যদি ধারণা হয় অথবা নিশ্চিত হয় যে সোবহে সাদেক হয়নি এবং কোন কিছু খেয়ে নেয় কিন্তু পরে জানা গেল যে সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল তাহলে কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয় বরং অনুসন্ধানের পর যদি সন্দেহ হয় যে সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল তাহলে এমতাবস্থাও কাযা ওয়াজিব নয়।
(চ) কারোর এ কথার উপর আস্থা রেখে যে এখনও সোবহে সাদেক হয়নি রোযা বাতিল করে এমন কাজ করে বসে কিন্তু পরে জানা গেল যে সে সময় সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল।
(ছ) যখন কোন লোক বলে দেয় সে সোবহে সাদেক হয়ে গেছে কিন্তু এ ধারণার তার কথা বিশ্বাস করে নাই যে সে ঠাট্টা করেছে অথবা মিথ্যা বলছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির এমন কাজ সম্পাদন করে বসে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় এবং জানা গেল যে সে সময় সোবহে সাদেক হয়ে গিয়েছিল।
(জ) অন্ধলোক বা এ ধরনের অন্য কোন অপারগ ব্যক্তি কারো কথায় প্রেক্ষিতে ইফতার করে নেয় এবং পরে জানা গেল যে ঐ সময় তখনও মাগরিবের সময় হয়নি।
(ঝ) আকাশ যখন পরিষ্কার থাকে এবং অন্ধকার হওয়ার কারণে কেউ যদি নিশ্চিত হয় যে মাগরিবের সময় হয়ে গেছে এবং ইফতার করে নেয় কিন্তু পরে জানা গেল যে ঐ সময় তখনও মাগরিবের সময় হয়নিই তবে হা যদি মেঘের কারণে আকাশ পরিষ্কার না থাকে এবং মাগরিব হয়েছে বলে অনুমিত হয় এবং সে ইফতার করে নেয় এবং পরে জানতে পারে যে মাগরিবের সময় এখনও হয়েছিল না সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
(ঞ) যে ব্যক্তি শীতলতা বা ঠান্ডা লাত করার জন্য মুখে পানি দেয় (কুলি করে) কিংবা অকারণে কুলি করে আর অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি ভিতরে চলে ায় তাহলে ঐ দিনের রোযার কাযা আদায় করা ওয়অজিব। তবে হা সে যদি রোযাদার হওয়ার কথা ভুলে গিয়ে পানি পান করে অথবা অজুর উদ্দেশ্যে কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি ভিতরে চলে যায় তাহলে ঐ ব্যক্তির কাযা ওয়াজিব নয়।
১৪০। পানি ব্যতিত অন্য জিনিস মুখে রাখলে এবং যদি তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিতরে চলে যায় অথবা নাকে পানি দিলে তা যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভিতরে চলে যায় তাহলে তার কাযা ওয়াজিব নয়।
১৪১। একাধিক বার কুলি করা রোযাদারের জন্য মাকরুহ। কুলি করার পর যদি থুথু গিলতে চায় তাহরে প্রথমে তিনবার থুথু ফেলে নেয়া উত্তম।
১৪২। যদি কোন ব্যক্তি জ্ঞাত থাকে যে কুলি করলে পানি বিনা দ্বিধায় অথবা ভুলে ভিতরে প্রবেশ করবে তাহলে তার কুলি করা উচিত নয়।
১৪৩। রমজান মাসে যদি কেউ অনুসন্ধানের পর সোবহে সাদেক হয়নি এই মর্মে নিশ্চিত হয় এবং রোযা বাতিল হয়ে যায় এমন কাজ সম্পাদন করে এবং পরে জানা যায় যে সোবহে সাদেক হয়েগিয়েছিল তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
১৪৪। কোন ব্যক্তির যদি সন্দেহ হয় যে, মাগরিবের সময হয়েছে কিনা তাহলে সে ইফতার করতে পারবে না। তবে সোবহে সাদেক হয়েছে কিনা এই মর্মে সন্দেহ হলে অনুসন্ধান করার পূর্বে ঐ সকল কাজ সম্পাদন করতে পারে যা রোযাকে বাতিল করে দেয়।
কাযা রোযার আহকাম
১৪৫। যদি পাগল সুস্থ্য হয়ে যায় তাহলে রমজান মাসের ঐ রোযাগুলির কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয় যে দিনগুলিতে সে অসুস্থ্য বা পাগল ছিল।
১৪৬। যদি কাফের মুসলমান হয়ে যায় তাহলে ঐ দিনগুলির কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয় যে দিনগুলিতে সে কাফের ছিল। তবে মুসলমান যদি কাফের হয়ে যায় এবং পুনরায় সে মুসলমান হয় তাহলে ঐ দিনসমূহের কাযা আদায় করা তার উপর ওয়াজিব যে সময় পর্যন্ত সে কাফের ছিল।
১৪৭। নেশার কারণে যে রোযাগুলি নষ্ট হয়েছে তার কাযা আদায় করা ওয়াজিব যদিও নেশা গ্রস্থ করার ঐ জিনিসটা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হোক না কেন বরং সে যদি রোযার নিয়ত করে থাকে এবং পুনরায় মাতাল হয় সেক্ষেত্রে যদি রোযা অবস্থায় তার মাতলামী কেটে যায় তাহলে এহতিয়অতে ওয়াজিব হলো সে রোযা সমাপ্ত করবে এবং কাযাও আদায় করবে এবং যদি মাতাল অবস্থায় রোযা শেষ করে থাকে তাহলে কাযা আদায় করবে।
১৪৮। যদি কেউ কোন কারণ বশতঃ কিছুদিন রোযা না রেখে থাকে এবং পরবর্তীতে ঐ কারণগুলি কবে শেষ হয়েছিল বলে সন্দেহ হয় এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির ধারণা অনুযায়ী কত দিন সে রোযা রাখেনি ঐ দিনগুলির রোযার কাযা আদায় করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ঐ ব্যক্তির রমজানের পূর্বে সফরে বেরিয়ে ছিল অথচ তার মনে নেই যে রমজানের পঞ্চম দিনে ফিরে এসে ছিল যষ্ঠ দিনে এক্ষেত্রে সে কেবল ৫ দিনের রোযার কাযা আদায় করবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি মানতে পারে বা বুঝতে না পারে যে কারণে কোন দিন সৃষ্টি হয়েছিল তাহলে ঐ ব্যক্তি কম পরিমাণ রোযার কাযা আদায় করে। উদাহরণস্বরূপ রমজানের শেষ দিবস গুলিতে সফর করে রমজানের শেষে ফিরে আসে অথচ সে জানে না যে রমজানের ২৫ তারিখে সফর করেছিল নাকি ২৬ তারিখে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে কম পরিমাণ অর্থাৎ ৫ দিনের রোযার কাযা আদায় করে।
১৪৯। যদি কোন ব্যক্তির উপর কয়েক রমজানের কাযা রোযা ওয়াজিব থাকে সে যে কোন রমজানের রোযার কাযা প্রথমে আদায় করতে পারে এতে কোন অসুবিধা নেই। তবে শেষ রমজানের কাযা আদায়ের সময় যদি সংকীর্ণ হয় যেমন শেষ রমজানের ৫দিনের রোযার কাযা আদায় করা তার দায়িত্বে ছিল এবং আগামী রমজান পর্যন্ত কেবল ৫দিন অবশিষ্ট রয়ে গেছে তাহলে ঐ ব্যক্তি শেষ রমজানের কাযা আদায় করবে।
১৫০। যদি কারোর উপর কয়েক রমজানের রোযা কাযা থেকে থাকে আর সে যদি নিয়ত নির্দিষ্ট না করে যে সে কোন রমজানের কাযা আদায় করছে তাহলে ঐ রোযা প্রথম বছরের রমজানের কাযা রোযা হিসেবে পরিগণিত হবে।
১৫১। কাউকে যদি কাযা রোযা রাখতে হয় এবং ঐ রোযার কাযা আদায়ের সময় যদি সংকীর্ণ না থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তি জোহরের পূর্বে রোযা ভাঙ্গতে পারে।
১৫২। যদি নির্দিষ্ট রোযার কাযা আদায় করছে এহতিয়অতে ওয়াজিব হলো জোহরের পর ঐ রোযাকে যেন না ভাঙ্গে।
১৫৩। যদি কোন রুগী অসুস্থ্যতার কারণে অথবা হায়েজ বা নিফাসের কারণে রোযা না রেখে থাকে এবং রমজান শেষ হওয়ার পূর্বে যদি সে মারা যায় এমতাবস্থায় ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
১৫৪। রমজান মাসের রোযা অসুস্থ্যতার কারণে যদি কেউ না থেকে থাকে এবং তার রোগ পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বর্তমান থাকে সেক্ষেত্রে ঐ রোযা সমূহের কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে ঐ ব্যক্তিকে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ খাদ্য ফকিরকে দান করা উচিত। কিন্তু রোযা যদি অন্য কোন কারণবশতঃ যেমন সফরের কারণে রোযা না রেখে থাকে এবং তার এ কারণ পরবর্তী রমজান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে এ রোযা সমূহের কাযা আদায় করা জরুরী এবং এহতিয়াতে মোস্তাহাব হলো প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ খাদ্যও যেন ফকিরকে দেয়।
১৫৫। যদি রোগজনিত কারণে কেউ রোযা না রেখে থাকে এবং রমজানের পর ঐ ব্যক্তি সুস্থ্য হয়ে যায় অথচ এমন সৃষ্টি হয় যার ফলে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত কাযা আদায় না করে থাকে তাহলে উক্ত রোযাসমূহের কাযা আদায় করা উচিত। তদ্রæপ রমজানে যদি রোগ ব্যতিত অন্য কোন কারণ সৃষ্টি হয় এবং রমজানের পর ঐ কারণ দুর্রিভুত হয় এবং পরবর্তী রমজান পর্যন্ত রোগজনিত কারণে রোযা না রাখতে পারে তাহলে সেক্ষেত্রে যে রোযাসমূহ বাদ পড়ে গেছে তার কাযা আদায় করা জরুরী।
১৫৬। যদি উে কোন কারণবশতঃ রমজান মাসে রোযা না রাখতে পারে এবং রমজানের পর সৃষ্টি কারণ (ওজর) শেষ হয়ে যায় কিন্তু ঐ ব্যক্তি পরবর্তী রমজান পর্যন্ত ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় না করে থাকে সেক্ষেত্রে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ খাদ্য (গম অথবা যব) ফকিরকে দিতে হবে।
১৫৭। যদি কেউ কাযা আদায় করতে গড়িমসি করে এমনকি সময়ও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং এই সংকীর্ণ সময়ে যদি কোন কারণ সৃষ্ট হয় তাহলে ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করবে এবং প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ খাদ্য কোন ফকিরকে দান করবে বরং রোযাগুলির কাযা আদায় করতে যদি কোন কারণের (ওজর) সৃষ্টি হয় এবং যখনই কারণ শেষ হয়ে যাবে উক্ত রোযাসমূহের কাযা আদায় করবে। এই মর্মে যদি দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু কাযা আদায়ের প্রাক্কালে সময়ের সংকীর্ণতার মধ্যে কোন কারণের সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করা আবশ্যক এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দান করবে।
১৫৮। যদি কোন ব্যক্তি কয়েক বছর পর্যন্ত অসুস্থ্য থাকে এবং পরে আরোগ্য লাভ করার পর পরবর্তী রমজান পর্যন্ত কাযা আদায় করার সময় যদি অবশিষ্ট থাকে সেক্ষেত্রে মেষ রমজানের কাযা আদায় করা ওয়াজিব এবং বিগত বছরগুলির প্রতিটি কাযা রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য বা আহার ফকিরকে দান করে।
১৫৯। যে ব্যক্তিকে রোযার পরিবর্তে কয়েক মুদ্দ পরিমাণ আহার ফকিরকে দেয়ার থাকে তাহলে সে কয়েকদিনের কাফফারা একজন ফকিরকে দিতে পারে।
১৬০। যদি কোন ব্যক্তি রমজানের কাযা আদায়ে একাধিক বছর বিলম্বিত করে তাহলে ঐ রোযাসমূহের কাযাও আদায় এবং প্রতিদিনের পরিবর্তে এক মুদ্দ পরিমাণ খাবারও দিতে হবে।
১৬১। কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে যদি রোযা না রাখে তাহলে ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করতে হবে। এতদ্ব্যতিত প্রতিটি রোযার পরিবর্তে দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখবে অথবা ৬০জন মিসকিনকে আহার করাবে অথবা একজন কৃতদাসকে মুক্ত করবে যদি সে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত কাযা আদায় না করে তবে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য দেওয়াও জরুরী।
১৬২। যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা না রাখে এবং ঐ দিবসে সে ঐ কাজও সম্পাদন করে যা রোযাকে বাতিল করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ সে যদি একাধিকবার সহবাস করে তাহলে এক কাফফারাই যথেষ্ট।
১৬৩। পিতার মৃত্যুর পর বড় ছেলের উপর ওয়াজিব যে সে তার পিতার কাযা নামায ও রোযা আদায় করবে। তবে মাতার কাযা রোযা ছেলের উপর ওয়াজিব নয়।
১৬৪। যদি পিতার উপর রমজান ব্যতিত অন্য কোন ওয়াজিব রোযা যেমন মান্নতের রোযা থাকে তাহলে উক্ত রোযার কাযাও বড় ছেলে আদায় করবে।
মুসাফিরের রোযা সমূহের আহকাম
১৬৫। যে মুসাফিরকে চার রাকাত সম্বলিত নামাজের কসর আদায় করবে সে ঐ দিনের রোযাও রাখতে পারবে না এবং যে মুসাফির সম্পূর্ণ নামাজ আদায় করবে যেমন উদাহরণস্বরূপ তার সফর কোন পাপের কারণে কিংবা ঐ ব্যক্তির পেশাই হচ্ছে সফর করা সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে সফরে রোযা রাখতে হবে।
১৬৬। রমজান মাসে সফর করার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবনদ্বকতা নেই তবে সে যদি রোযা থেকে বাচার জন্য সফর করে তবে ঐ সফর মাকরূহ বলে গণ্য হবে।
১৬৭। রমজান ব্যতিত অন্য কোন নির্দিষ্ট রোযা যদি কারোর উপর ওয়াজিব থাকে তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের কারণে ঐ দিন সফর করা উচিত নয়। আর যদি সফরে থাকে তাহলে কোন স্থানে দশদিন অবস্থানের নিয়ত করে তবে ঐ নির্দিষ্ট দিনে রোযা রাখার মান্নত করে যে অমুক দিন রোযা রাখবো তাহলে সে সফর করতে পারবে।
১৬৮। কেউ যদি রোযা রাখবে বলে মান্নত করে থাকে অথচ দিন নির্দিষ্ট করেনি তাহলে ঐ রোযাসমূহ সফররত অবস্থায় রাখতে পারবে না। কিন্তু যদি সে মান্নত করে যে অমুক দিনের রোযা সফর কালীন সময় রাখবে তাহলে উচিত হবে ঐ দিন সফরে রোযা রাখা এবং যদি মান্নত করে যে অমুক নির্দিষ্ট দিনে সে সফরে থাকবে কি থাকবে না যদি সে সফরেও থাকে তবুও যেন ঐ দিনে রোযা রাখে।
১৬৯। সফরকারী নিজের মনবাসনা পূরণের জন্য মদিনার তিন দিন মোস্তাহাব রোযা রাখতে পারে।
১৭০। মুসাফিরের রোযা বাতিল এ সম্পর্কে যে ব্যক্তি অবগত নয় এবং সফরে রোযা রেখে নেয় কিন্তু দিনের যে কোন সময় সে জানতে পারে যে ঐ অবস্থায় তার রোযা বাতিল তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যদি সে মাগরিব পর্যন্ত জানতে না পারে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১৭১। কোন ব্যক্তি নিজের মুসাফির হওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায় অথবা এও ভুলে যায় যে মুসাফিরের রোযা বাতিল বলে গণ্য হয় তাহলে সে যদি সফরে রোযা রাখে ঐ রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
১৭২। রোযাদার যদি জোহরের পর সফর শুরু করে তাহলে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করতে হবে এবং যদি জোহরের পূর্বে সফর শুরু করে তাহলে ঐ ব্যক্তি যখন “হদ্দে তায়াখুস” পর্যন্ত পৌছে যাবে অর্থাৎ সে এতখানি দুরে চলে যাবে যে সেখানকার আজান শোনা যাবে না এবং শহরের দেওয়ালগুলো চোখের আড়ালে চলে যাবে। তখন সে রোযা ভাঙ্গবে এবং এর পূর্বে যদি রোযা ভেঙ্গে দেয় তবে এহতিয়াতের কারণে কাফফারা তার উপর ওয়াজিব।
১৭৩। যদি সফরকারী জোহরের পূর্বে নিজরে জন্মভুমি অথবা এমন জায়গায় পৌছে যায় যেখানে সে দশদিন থাকার ইচ্ছা পোষণ করে সেক্ষেত্রে ঐ সময় পর্যন্ত সে এমন কোন কাজ না করে থাকলে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় ঐ ব্যক্তিকে ঐ দিনের রোযা রাখতে হবে এবং রোযা বাতিল করার মত কোন কাজ করে থাকলে ঐ দিনের রোযা রাখা তার উপর ওয়াজিব নয়।
১৭৪। মুসাফির যদি জোহরের পর নিরজের জন্ম ভুমি অথবা এমন জায়গা যেখানে সে দশদিন অবস্থান করার ইচ্ছা রাখে সেখানে সে পৌছে যায় সেক্ষেত্রে ঐ দিনের রোযা তাকে রাখতে হবে না।
১৭৫। মুসাফির এবং ঐ ব্যক্তি যে রোযা রাখতে অক্ষম তার ক্ষেত্রে রমজান মাসের সহবাস করা এবং পেট ভরে পানাহার করা মাকরুহ।
ঐ ব্যক্তিসমূহ যাদের উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়
১৭৬। যে ব্যক্তি বার্ধ্যকের কারণে রোযা রাখতে অক্ষম অথবা রোযা রাখা তার জন্য কষ্টের কারণ হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় (অর্থাৎ রোযা যখন তার জন্য কষ্টের কারণ হয়) প্রতিদিনের রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দিতে হবে।
১৭৭। যে ব্যক্তি বার্ধ্যকের কারণে রোযা রাখতে অক্ষম যদি সে রমজানের পর রোযা রাখতে সক্ষম হয় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যে রোযাগুলি পরিত্যাক্ত হয়েছে তার কাযা আদায় করা।
১৭৮। যদি কোন ব্যক্তি এমন রোগগ্রস্থ হয় যার কারণে সে অধিক পিপাসা অনুভব করে এবং পিপাসা সহ্য করতে না পারে এবং তার জন্য ক্ষতির কারণ হয় এমনাবস্থায় তার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে দ্বিতীয় অবস্থায় (অর্থাৎ পিপাসা যখণ তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়) ঐ ব্যক্তিকে এক মুদ্দ পরিমাণ গম ও যব আহার হিসাবে দান করতে হবে এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান না করা এবং পরে সে যখন রোযা রাখতে সক্ষম হবে তখন এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করবে।
১৭৯। ঐ মহিলা যার প্রসবকালীন সময় নিকটবর্তী এবং রোযা তার গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর সেক্ষেত্রে রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে তাকে প্রতিদিন এক মুদ্দ পরিমাণ গম বা যব দান করতে হবে। পক্ষান্তরে রোযা রাখা স্বয়ং ঐ মহিলার জন্য যদি ক্ষতিকর হয় তবুও উক্ত মহিলার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো প্রতি রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দেয়া এবং উপরোক্ত উভয় ক্ষেত্রেই রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১৮০। যে মহিলা কোন শিশুকে স্তন্য দান করে (দুধ খাওয়ায়) এবং স্তনেও যদি দুধ কম হয়। চাই ঐ মহিলা স্বয়ং শিশুর মা হয় অথবা ধাত্রী মা অথবা কোন কিছুর বিনিময় ব্যতিত দুধ খাওয়ায়, যদি রোযা ঐ শিশুর জন্য (যাকে দুধ খাওয়াচ্ছে) ক্ষতিকর হয় তাহলে ঐ মহিলার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। কিন্তু প্রতিটি রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ যব ও গম ইত্যাদি ফকিরকে দান করতে হবে এবং যদি রোযা স্বয়ং মহিলার জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলেও রোযা রাখা তার উপর ওয়াজিব নয় কিন্তু এহতিয়াতে ওয়াজিবের কারণে প্রতিদিনের জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দিবে এবং এই দুই অবস্থায় উক্ত রোযাসমূহের কাযা পরে আদায় করতে হবে। অবশ্য যদি কোন এমন মহিলা পাওয়া যায় যে বিনা পারিশ্রমিকে শিশুকে দুধ পান করাতে পারে অথবা দুধ খাওয়ানোর পারিশ্রমিক মা বাবা অথবা অন্য কোন অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পেতে পারে তাহলে এহতিয়অতে ওয়াজিব হলো শিশুটিকে অন্য মহিলার নিকট হস্তান্তর করা এবং নিজে রোযা রাখা।
প্রথমার চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার পদ্ধতি
১৮১। প্রথমার চাঁদ ৫টি পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয় :
(ক) ব্যক্তি নিজে স্বয়ং চাঁদ দেখে।
(খ) এমন কিছু ব্যক্তিবর্গ যার কথায় বিশ্বাস জন্মায় যখন তারা বলে যে আমি নিজে চাঁদ দেখেছি। তদ্রæপ এমন বিষয়সমূহ যার কারণে চাঁদ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
(গ) এই জন আদেল পুরুষ যদি স্বাক্ষী দেয় যে সে নিজে চাঁদ দেখেছে কিন্তু তাদের পারস্পরিক বর্ণনা চাঁদ সম্পর্কে বিভিন্ন হয় অথবা তাদের স্বাক্ষী ঘটনার পরিপন্থী হয় অর্থাৎ তারা বলে যে চাঁদের আভ্যন্তরিন বৃত্ত ‘উফুক’ এর দিকে ছিল তাহলে চাঁদের অস্তিত্ব প্রমাণিত হবে না। তবে অন্যান্য বিষয়াদি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যদি দুই জনের মধ্যে মত পার্থক্যের সৃষ্টি হয় অর্থাৎ একজন আদেল ব্যক্তি বলে যে চাঁদ উচুতে অবস্থান করছিল অপরজন বলে যে চাঁদ উচুতে ছিল না। তাহলেও ঐ ব্যক্তিদ্বয়ের বক্তব্যের কারণে চাঁদের প্রথম তারিখ প্রমাণিত হয়ে যাবে।
(ঘ) শাবানের ৩০দিন অতিক্রান্ত হওয়র পর চাঁরে প্রথম তারিখ প্রমাণিত হয়ে যায় এবং তদ্রæপ রমজানের ৩০দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর শাওয়ালের প্রথম তারিখ প্রমানিত হবে।
(ঙ) মুজতাবিদে জাময়ে শারায়েত, (অর্থাৎ এমন মুজতাহিদ যার মধ্যে শরীয়তের সমস্ত শর্তাবলী বিদ্যমান) যদি হুকুম দেন সে আজ চাঁদের প্রথম তারিখ।
১৮২। যখন হাকিম এশারা (মুজতাহিদ) যদি হুকুম দেন যে আজ চাঁদের পহেলা তারিখ তাহলে যে ব্যক্তি ঐ মুজতাহিদের তাকলিদে নেই তাকেও তার হুকুম মানতে হবে তার যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে হাকিম-এ শারা ভুল করেছেন তাহলে সে হাকিম-এ-শারা এর হুকুম অনুসরন করতে পারবে না।
১৮৩। জ্যোতি শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যবাণী অনুযায়ী চাঁদের পহেলা তারিখ প্রমাণিত হয় না। তবে তাদের বক্তব্য যদি কেউ বিশ্বাস করে নেয় তাহলে ঐ বক্তব্য অনুসরণ করতে পারে।
১৮৪। চাঁদের উচুতে অবস্থান করা অথবা দেরীতে অস্ত যাওয়া দলিল নয় যে গত রাতে চাঁদের প্রথম তারিখ ছিল।
১৮৫। চাঁদের প্রথম তারিখ প্রমাণিত না হওয়ার কারণে যদি কোন ব্যক্তি রোযা না রাখে যদি দুই জন আদেল ব্যক্তি বলেন যে গত রাতে তিনি চাঁদ দেখেছিলেন তাহলে ঐ ব্যক্তির উচিত উক্ত রোযার কাযা আদায় করা।
১৮৬। যখন এক শহরে চাঁদের প্রথম তারিখ প্রমানিত হয় তা দ্বিতীয় শহর বাসীদের জন্য কোন মূল্য রাখেনা তবে ঐ শহর দুটি যদি কাছাকাছি হয় অথবা মানুষ অবগত হয় যে ঐ শহর দুটি একই দিগেও অবস্থিত।
১৮৭। টেলিগ্রাফের মাধ্যমে চঁঅদের প্রথম তারিখ প্রমাণিত হয় না তবে এক শহর থেকে অপর শহরে যদি টেলিগ্রাফ আসে এবং ঐ শহরদ্বয় যদি পরস্পর নিকটবর্তী অথবা এই দিগন্তে অবস্থান করে এবং জনগণ এও জানে যে টেলিগ্রাফ মুজতাহিদের নির্দেশমতে অথবা দুই আদিল ব্যক্তির স্বাক্ষীর ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে।
১৮৮। যে দিন সম্পর্কে জ্ঞাত না থাকে যে দিনটি রমজানের শেষ দিন না-কি শাওয়ালের প্রথম দিন এমতাবস্থায় ঐ দিন রোযা রাখা আবশ্যক কিন্তু মাগরিবের পূর্বে জানা যায় যে আজ শাওয়ালের প্রথম দিন সেক্ষেত্রে রোযা বাতিল করে দিতে হবে।
১৮৯। যদি বন্দি (কয়েদী) রমজান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয় তাহলে তাকে অনুমানের উপর ভিত্তি করে আমল করা উচিত এবং বাকি অনুমানও সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে সে ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন মাসে রোযা রাখতে পারে এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো ১১ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় যেন এক মাস রোযা রাখে। তবে হয় পরবর্তীতে রমজান সম্পর্কে ধারণা হয়ে গেলে তার উপর আমল করতে হবে।
হারাম ও মাকরুহ রোযাসমূহ
১৯০। ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-এ-কোরবান এ রোযা রাখা হারাম। তদ্রুপ যদি কেহ যার সম্পর্কে জানা না থাকে যে শাবান মাসের শেষ তারিখ না কিরমজানের প্রথম যদি রমজানের নিয়ত করে রোযা রাখে তাহলে তা হারাম।
১৯১। কোন মহিলার মোস্তাহাব রোযা রাখার কারণে তার স্বামীর অধিকার যদি ক্ষুন্ন হয় তবে ঐ মহিলার রোযা রাখা জায়েজ নয় বরং স্বামীর অধিকার ক্ষুন্ন নাও হয় এবং মোস্তাহাব রোযা রাখতে যদি স্বামী নিষেধ করে তাহলে এহতিয়অতে ওয়াজিবের কারণে রোযা রাখা উচিত নয়।
১৯২। সন্তানের মোস্তাহাব রোযা যদি পিতা মাতা বা পিতামহের পীড়ার কারণ হয় তাহলে সন্তানের জন্য মোস্তাহাব রোযা রাখা উচিত নয় বরং তাদের জন্য উক্ত রোযা যদি পীড়ার কারণ নাও হয় এবং মোস্তাহাব রোযা রাখতে নিষেধ করেন তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো মোস্তাহাব রোযা না রাখা।
১৯৩। সন্তান যদি পিতার অনুমতি ব্যতিত মোস্তাহাব রোযা রাখে এবং পিতা দিনের বেলণায় তাকে রোযা রাখতে নিষেধ করে সেক্ষেত্রে ইফতার করে নেয়া জরুরী।
১৯৪। যদি কেউ অবগত থাকে যে রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর নয় যদিও ডাক্তার রোযা রাখা ক্ষতিকর বলেছে তথাবি ব্যক্তিকে রোযা রাখা উচিত এবং যদি কেউ নিশ্চিত থাকে য রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর অথচ ডাক্তার রোযা রাখা ক্ষতিকর নয় বলেছে এমতাবস্থায় সেপ রোযা রাখতে পারবে না। যদি রেখে নেয় তাহলে সঠিক বলে গণ্য হবে না। তবে সে যদি নৈকট্য লাভের ইচ্ছায় রোযা রাখে এবং পরে জানা যায় যে, রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর ছিল না তাহলে উক্ত রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১৯৫। যদি কারো ধারণা হয় যে রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর এবং এই ধারনা যদি ভীতির সৃষ্টি করে থাকে সুতরাং ঐ ধারণা সাধারণ লোকের দৃষ্টিতে যদি গ্রহণ যোগ্য হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা রাখা উচিত নয় এবং রোযা রাখলে সঠিক বলে গণ্য হবে না তবে রোযা যদি নৈকট্য লাভের ইচ্ছায় (কোরবাতের নিয়তে) রাখে এবং পরে জানা যায় যে রোযা তার জন্য ক্ষতিকর ছিল না সেক্ষেত্রে রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
১৯৬। যখন কারোর আকিদা বা বিশ্বাস জন্মায় যে রোযা তার জন্য ক্ষতিকর নয় এবং রোযা রেখে নেয় কিন্তু মাগরিবের পর সে অবগত হলো যে রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর ছিল তাহলে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১৯৭। আশুরার দিন অথবা ঐ দিন যে দিনের ব্যাপারে কেউ সন্দেহ করে যে ঐ দিনটি আরাফাতের দিন না-কি ঈদ-এ-কোরবানের দিন এমতাবস্থায় রোযা রাখা মাকরুহ।
মুস্তাহাব রোযাসমূহ
১৯৮। সারা বছর কেবল ঐ দিন ব্যতিত যে দিনে রোযা রাখা হারাম অথবা মাকরুহ যার আলোচনা পূর্বাহ্নেই করা হয়েছে রোযা রাখা মোস্তাহাব এছাড়া অন্যান্য কিছু দিন সম্পর্কে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যেগুলি নিম্নে বর্ণিত হলো :
(ক) প্রতি চন্দ্র মাসের প্রথম ও শেষ বৃহস্পতিবার এবং প্রত্যেক মাসের দশ তারিখের পর প্রথম বুধবার যদি কেউ এ রোযাসমূহ না রাখে তবে তার কাযা আদায় করা মোস্তাহাব এবং প্রকৃতপক্ষে যদি রোযা রাখতে না পারে তবে মোস্তাহাব হলো ঐ রোযার কাযা আদায় করা এবং মোস্তাহাব হলো প্রতিদিনের জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে আহার করানো।
(খ) প্রতি মাসের ত্রয়দশ, চতুর্দশ ও পঞ্চদশ দিবসে।
(গ) সম্পূর্ণ রজব ও শাবান এবং এই দুই মাসের মধ্যে কিছু দিন যদিও বা এক দিনও হোক না কেন।
(ঘ) ঈদ-এ-নওরোজের দিন, জিলক্বদ মাসের ২৫ এবং ২৯ তারিখ এবং জিলহজ্জ মাসের প্রথম থেকে নবম তারিখ (অর্থাৎ আরাফাত দিবস পর্যন্ত) কিন্তু রোযার রাখার কারণে দুর্বলতার সৃষ্টি হলে এবং আরাফার দোয়াসমূহ না পড়তে পারে তবে এমতাবস্থায় রোযা রাখা তার জন্য মাকরুহ। ঈদ-এ-গাদীর দিবসে (১৮ই জিলহজ্জ), মহরম মাসের প্রথম ও তৃতীয় দিবসে, ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) (১৭ রবিউল আওয়াল), রাসুল (সা.) এর বেহসাতের দিন (২৭শে রজব) রোযা রাখা মোস্তাহাব। যদি কেউ মোস্তাহাব রোযা রাখে তাহলে রোযা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ কার ওয়াজিব নয় বরং যদি কোন মোমিন ভাই ঐ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকলে সেক্ষেত্রে মোস্তাহাব হলো নিয়ন্ত্রণ কবুল করা এবং ঐ রোযাকে ভেঙ্গে দেয়া।
ঐ সকল কর্মসমূহ হতে নিজেকে রক্ষা করা মোস্তাহাব
যা রোযাকে বাতিল করে দেয়
১৯৯। ছয়জন লোকের জন্য যদি সে রোযাদার নাও হয় মোস্তাহাব হলো ঐ সকল কাজসমূহ হতে নিজেকে রক্ষা করা যা রোযাকে বাতিল করে দেয় :
(ক) ঐ মুসাফির যে সকফর অবস্থায় রোযা বাতিল করে এমন কাজ সম্পাদন করেছে এবং জোহরের পূর্বে নিজ জন্মভূমি অথবা দশদিন অবস্থান করার ইচ্ছা পোষণ করে এমন স্থানে পৌছে যায়।
(খ) ঐ মুসাফির যে জোহরের পর নিজ জন্মভূমি অথবা ঐ স্থানে যেখানে দশদিন থাকতে হবে পৌছে যায়।
(গ) ঐ অসুস্থ্য ব্যক্তি যে জোহরের পূর্বে সুস্থ্য হয়ে ওঠে কিন্তু সে রোযাকে বাতিল করে এমন কাজ সম্পাদন করে থাকে।
(ঘ) ঐ অসুস্থ্য ব্যক্তি যে জোহরের পর আরোগ্য লাভ করে।
(ঙ) ঐ মহিলা য দিবসের যে কোন ভাবে হায়েজ অথবা নিফাস হতে পাক (পবিত্র) হয়।
(চ) ঐ কাফের ব্যক্তি যে রমজানের যে কোন দিন মুসলমান হয়ে যায় (ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে)।
২০০। রোযাদার ব্যক্তির জন্য মোস্তাহাব হলো মাগরিব ও এশার নামাজ ইফতারের পূর্বে আদায় করা কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি তার জন্য অপেক্ষায় থাকে অথবা খাওয়ার জন্য এত অধির হয়ে পড়ে যে নামাজে মনোনিবেশ করতে পারছে না তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য উত্তম হলো প্রথমে ইফতার করে নেয়া কিন্তু উচিত হবে সাধ্যমত নামাজকে ফজিলতের সময় আদায় করা। (সূত্র : রোযার আহকাম ও শবে কদরের আমল )
