সূরা মায়িদায় অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ততা ও চুক্তির স্থায়িত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে

by Syed Yesin Mehedi

সূরা মায়িদায় অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ততা ও
চুক্তির স্থায়িত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে
এই সূরার মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, প্রতিশ্রুতিতে অবিচল থাকা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে সতর্ক করা। ইসলামের নবীর (সা.) অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকারের বিষয়টি এই সূরা’য় উত্থাপিত হয়েছে।
সূরা মায়েদাহ্ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর ১২০টি আয়াত রয়েছে। এই সূরাটি কুরআনের দীর্ঘ সূরাগুলোর শেষ সূরা যা আল্লাহর রসুলের (সা.) জীবনের শেষ দিকে অবতীর্ণ হয়েছে।
সূরার বিষয়বস্তু: এই সূরাটি ইসলামী শিক্ষা ও আকাইদ তথা বিশ্বাসের একটি সিরিজ এবং ধর্মীয় আহকাম ও কর্তব্যের একটি সিরিজের বিষয়বস্তু। সূরার প্রথম অংশে, নবীর পরে বেলায়েত বা নেতৃত্ব, আল্লাহর বরকত এবং খ্রিষ্টানদের ত্রিত্বের ইস্যু ও কিয়ামত এবং নবীদের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কিত বিষয়গুলি আলোচিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে, চুক্তি পালনের বিষয়, সামাজিক ন্যায়বিচার, ন্যায়বিচারের সাক্ষ্যদান এবং আত্মহত্যার নিষেধাজ্ঞা (অনুরূপভাবে আদম সন্তানের গল্প এবং কাবিল দ্বারা হাবিল হত্যা), পাশাপাশি হালালের কিছু অংশের ব্যাখ্যা, হারাম খাবার এবং অযু ও তায়াম্মুমের নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এর নাম সূরা: মায়েদাহ্। কারণ এই সূরার ১১৪ নম্বর আয়াতে হযরত ঈসার (আ.) সাহাবীদের কাছে মায়েদাহ্ অর্থাৎ খাবারে দস্তরখান অবতরণ করার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
সূরার উদ্দেশ্য: আমরা যদি এই সূরার প্রথম, শেষ এবং মধ্যবর্তী আয়াতগুলোর দিকে মনোযোগ দেই তাহলে দেখতে পাব যে, এই সূরার সামগ্রিক উদ্দেশ্য হল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া ও সতর্ক করা। প্রকৃতপক্ষে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ হচ্ছেন করুণাময়। আর তিনি ধার্মিক, খোদাভীরু ও পরোপকারী বান্দাদের জন্যে কাজকে সহজ করে দেন। যে তার ইমামের সঙ্গে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, বিবাদ ও আগ্রাসন শুরু করে এবং ধর্মে প্রণীত সীমানা ও চুক্তি ভঙ্গ করে তার প্রতিও আল্লাহ সর্বদা কঠোর।
এ কারণে এ সূরায় ঈসার (আ.) যুগে মায়েদা’র ঘটনা, আদমের (আ.) দুই পুত্রের কাহিনী, বনী ইসরাঈলের অত্যাচার ও তাদের চুক্তি ভঙ্গের অনেক ফরমান, সীমাবদ্ধতা ও প্রতিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এই সূরার আয়াতগুলিতে বলা হয়েছে, খোদার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে, তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করা হয়েছে, ভালো জিনিসগুলিকে হালাল এবং খারাপগুলিকে হারাম করা হয়েছে।
সূরার ফজিলত: সূরা মায়িদায় ইসলামের নবীর (সা.) বেলায়েত ও উত্তরাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং কাফেররা ইসলাম ধর্ম থেকে নিরাশ হয়ে পড়েছে। তাই যে কেউ এই সূরা পড়বে ও অনুসরণ করবে, আলীর (আ) অভিভাবকত্ব মেনে নেবে এবং এর বিধান অনুসারে কাফেরদের হতাশ করবে সে তাদের সংখ্যা অনুসারে পুরস্কৃত হবে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔