জীবন চলার পথে মহানবী (সাঃ) এবং তার আহলে বাইত (আ.) গণের সুন্নাহ অনুসরণ করাই একমাত্র সফলতার পথ

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী আবেদী

by Syed Yesin Mehedi

জীবন চলার পথে মহানবী (সাঃ) এবং তার আহলে বাইত (আ.)
গণের সুন্নাহ অনুসরণ করাই একমাত্র সফলতার পথ
সৈয়দ মোহাম্মদ আলী আবেদী
আমাদের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের। আর এই স্বল্প সময়ের জীবন নিয়ে দুনিয়াতে আমাদেরকে আল্লাহ পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছেন। এই দুনিয়াকে তাই বলা হয় আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। আর এই শস্যক্ষেত্র থেকে যে ভালো ফসল আমরা লাভ করবো তা আমাদের আখিরাতের জীবনে কাজে লাগবে।
একটু ভিন্নভাবে যদি মানবজীবনের উদাহরণ দেই তাহলে বলা যায়, প্রবাহমান নদী আর আমাদের মানবজীবনের ধরন একই আঙ্গিকে প্রবাহিত। নদীর স্রোত যেমন প্রবাহিত হতে থাকে আমাদের জীবনও কোন সময় স্থির থাকে না। আবার যেমন নদীর পরিসমাপ্তি হয়ে সাগরে এসে মিলিত হয়, তেমন মানবজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। এটাতো গেল জীবন মৃত্যুর একটি ভুমিকা, এখন চলুন আলোচনার বিষয়বস্তু ও এর মূলের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।
মূল আলোচনার বিষয় হলো, জীবন চলার পথে মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বাইতের সুন্নাহ অনুসরণ করাই একমাত্র সফলতার পথ কিনা আসুন তাহলে জেনে নেইঃ আমাদের এই বিষয়ে যে বিষয়বস্তু মূল তা হলো সুন্নাহ। চলুন আমরা দেখি সুন্নাহ বলতে কি বোঝানো হয়েছে।
সুন্নাহ শরয়ী বিধানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ অংশ হিসাবে বিবেচিত।
সুন্নাহ শব্দের অর্থ হলো – ছবি, প্রতিচ্ছবি, প্রকৃতি, জীবন পদ্ধতি, কর্মধারা, রীতি, আদর্শ ইত্যাদি। শরীয়াত এর পরিভাষায় সুন্নত হচ্ছে, নবী (সাঃ) যেসব বিষয়ে আদেশ করেছেন, যেসব বিষয়ে নিষেধ করেছেন, তার কথা ও কর্মের মাধ্যমে যে সকল আহবান করেছেন, সেই সকল কাজ মেনে চলাই নবীর সুন্নাত।
এর মাধ্যমে আমরা সুন্নাতের মৌলিক অর্থ বুঝতে পারলাম।
একজন মুসলিম হিসাবে আমরা মানতে বাধ্য যে বর্তমান হোক আর ভবিষ্যত হোক রাসুল (সাঃ) এর রেখে যাওয়া সুন্নাহ অনুসরণ-ই উভয় কালের জন্য সুফল আনয়ন করে। কারন আমরা এমন একজনকে ফলো করছি যাকে সৃষ্টি না করলে জগতসমূহের কোন কিছুই সৃষ্টি হতো না। যিনি ইসলাম ধর্মে অনুসরনিয় আদর্শ বা মডেল।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে একটি সুরাতে আমাদের প্রিয়নবী (সাঃ) কে উল্লেখ করে বলেনঃ- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর মাঝেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। “ (সুরা আহযাব, আয়াত নং-২১)
উক্ত আয়াত দ্বারা রাসুলে খোদা (সাঃ) এর সুন্নাহ-ই যে উত্তম আদর্শ তা আল্লাহ পাক নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীমে স্পষ্টভাবে রাসুল (সাঃ) কে বলা হয়েছে উসওয়াতুল হাসানা অর্থাৎ উত্তম আদর্শ। এর মাধ্যমে প্রমানিত যে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ পালন করার মাধ্যমে আমরা তার মতো উত্তম আদর্শে আদর্শিত হতে পারবো এবং আমরা সকলে জানি যে উত্তম আদর্শিত জীবনধারাই সকল সফলতার চাবিকাঠি।
আসুন একটু শিরোনামের দিকে যাওয়া যাক। শিরোনামে বলা হয়েছে মহানবী (সাঃ) এবং তার আহলে বাইতের সুন্নাহর কথা, তাইতো? তাহলে উপরের দিকে তো আমরা রাসুলে খোদা (সাঃ)এর সুন্নাহর দিকটা দেখলাম এখন আসুন একটু আহলে বাইত (আ.) গণের সাথে পরিচিত হই। তারা আসলে কারা আর কেনোই বা রাসুল (সাঃ) এর সাথে তাদের সুন্নাহ এর কথা বলা হলো। অনেকের মধ্যেই এই বিষয়ে প্রশ্নগুলো আসতে পারে। তাই চলুন দেখে নেই সংক্ষিপ্তভাবে তাদের সম্পর্কে-
প্রথমেই আমরা একটি হাদীসের দিকে লক্ষ্য করি যে, হাদীসটিতে রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি, একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অন্যটি হলো আমার (রক্তজ) বংশধর, আমার পরিবার (আহলে বাইত)। যদি তোমরা এ দুটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধর তাহলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। ’’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৯২০)
উক্ত হাদীস দ্বারা জানলাম যে রাসুলে খোদা (সাঃ) এর ইন্তেকালের পরে কাদেরকে আঁকড়ে ধরতে বলেছেন। এখন আসুন, জানি এই আহলে বাইত (আ.) গণ কারা? কি তাদের পরিচয়? কেনই বা তারা সম্মানের জায়গাতে আসন পেয়েছেন?
আহলে বাইতগণ রাসুলে খোদা (সাঃ) এর পরিবারের ওই সকল সম্মানিত সদস্য, যাদেরকে বাছাই করা হয়েছে রাসুলে খোদা (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর মুসলিম উম্মাহর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথ প্রদর্শনের জন্য।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে আহলে বাইত (আ.) সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, “হে আহলে বাইত! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখতে এবং তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান পরিপুর্ণ পবিত্রতায়। ’’ (সুরা আহযাব-৩৩)
উক্ত আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয় তখন রাসুলে খোদা (সাঃ) তার স্ত্রী উম্মে সালামাহ এর গৃহে অবস্থান করছিলেন। রাসুল (সাঃ) এর উপরে আয়াতটি অবতীর্ন হবার পর হযরত আলী (আ.), হযরত ফাতিমা (সাঃ আঃ), হযরত হাসান (আ.) ও হযরত হুসাইন (আ.) কে ডাকলেন এবং তার ইয়েমেনি জামাটি তাদের উপরে ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! এরাই আমার আহলে বাইত। ” তখন বিবি উম্মে সালামাহ জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত নই?”
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “তুমি আমার স্ত্রী এবং সঠিক পথে আছো, আর এরা আমার আহলে বাইত। ”
এছাড়াও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “আমার উম্মতের মাঝে আমার আহলে বাইত হচ্ছে নুহের নৌকার মতো। যে তাতে আরোহন করবে, সে পরিত্রাণ লাভ করবে। ’’ (বিহারুল আনোয়ার, খন্ড ২৭, পৃ’ ১১৩)
আমাদের সকলেরই হযরত নুহ (আ.) এর নৌকার ইতিহাস জানা আছে। যারা তার নৌকায় উঠেছিলো, তারা সকলেই প্লাবন থেকে বেঁচে গিয়েছিলো।
কুরআন ও হাদীসে যাদের নাম আহলে বাইত (আ.) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাদের সকলের মধ্যেই রাসুলে খোদা (সাঃ) এর সকল গুন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর এর জন্যেই শিরোনামে মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বাইতের সুন্নাহ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক, জীবন চলার পথে যদি আপনি সফলতা চান, সম্মান এর সাথে জীবনযাপন করতে চান তাহলে নিজেদের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বাইতের সুন্নাহগুলো ফুটিয়ে তুলতে হবে। মহান আল্লাহর দ্বীনকে পরিপুর্ণভাবে মেনে চলতে হলে এটাই একমাত্র দিক যার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে পুর্ণতা দিতে পারবো।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বাইত (আ.) এর সুন্নাহ অনুসরণ ও পালন করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

ফজর

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔