সূরা তাগাবুনের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

এখানে কোনো ধরনের ভূমিকার প্রয়োজন হয়নি; বরং সরাসরি ও আকাট্যভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি হচ্ছে তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। এ সূরা তাগাবুনেই বর্ণিত হয়েছে, هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ ‘তিনিই (আল্লাহ) তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।’ ( সূরা তাগাবুন : ২ ) এখানে আল্লাহ এ বর্ণনার কোনো দলিল উপস্থাপন করেননি। তিনি সৃষ্টির বিষয়ের কোনো ব্যাখ্যা-বিবরণ প্রকাশ করেননি। বরং মূল বিষয়কে এক ঐশী বর্ণনা ও অকাট্য ঘোষণার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন; যে হিকমতপূর্ণ বর্ণনা এ সৃষ্টিজগতের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। এ বর্ণনার মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। হয়তো এগুলোর মধ্যে কিছু আয়াত হচ্ছে আল্লাহ সম্পর্কীয়। যদি আমরা এখানে আল্লাহ সম্পর্কীয় বর্ণনাগুলোকে খোদা পরিচিতিমূলক বইগুলোতে যেসব বিবরণ এসেছে সেগুলোর সাথে তুলনা করি, তাহলে দেখতে পাব উভয় বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান; অর্থাৎ বর্ণনার ধরন ও পদ্ধতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। সূরার আয়াতসমূহে মহান আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি অকাট্য ভাষায় এবং স্রষ্টার পক্ষ থেকে সৃষ্টিকুলের প্রতি উপযোগী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ণনার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অনুরূপভাবে কিয়ামত, নবুয়্যত, ইতিহাস সম্পর্কীয় বিষয়াদি; একইভাবে মানব জীবনে অনুসরণীয় ও পালনীয় বিষয়াদি, যেমন: আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) প্রতি আনুগত্য, পরিবার ও সন্তানাদির সাথে আচার-আচরণের ধরনও; কেননা, মানুষ সাধারণত পরিবার ও সন্তানাদির প্রতি দুর্বল হয়ে থাকে। এ বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের স্ত্রীবর্গ ও সন্তানাদি তাদের জন্য কল্যাণকর হয় না; কাজেই মানুষের সজাগ থাকা জরুরি যাতে খোদাপ্রদত্ত দায়-দায়িত্ব পালনে পরিবার ও সন্তানাদির কারণে নিজেদেরকে বিসর্জন না দেয় তথা এক্ষেত্রে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন না করে। অবশ্য পার্থিব বিষয়াদিতে কোনো সমস্যা নেই; অর্থাৎ মানুষ এক্ষেত্রে স্ত্রীবর্গ ও সন্তানাদির জন্য নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখবে। কিন্তু যখন আল্লাহর আদেশাবলির বিষয় থাকবে, তখন কোনো আপোষ নেই এবং বিষয়টি আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত। মানুষ আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধ। সুতরাং এমনটি আদৌ সমীচীন নয় যে, মানুষ পরিবার ও সন্তানাদির কারণে নিজেকে আল্লাহর মোকাবেলায় দাঁড় করাবে। কেননা, এ স্ত্রী-সন্তানরাই আবার কখনও কখনও মানুষের ঘোরতর শত্রুতে পরিণত হয় এ সূরাতে যে বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। দেখুন! এখানে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হিকমতপূর্ণ দিকনির্দেশনা এবং ধন-সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, তাকওয়ার ক্ষেত্রে, পারস্পরিক সম্পর্ক ও ক্ষমার ক্ষেত্রেও অনুরূপ দিকনির্দেশনা দান করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে খোদাপ্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও দায়-দায়িত্ব; যেগুলো সম্পর্কে একজন ঈমানদার মুসলমানের সম্যক জ্ঞান লাভ করা অতীব জরুরি।
এ সূরাটি সামগ্রিকভাবে মানুষের শিক্ষাগ্রহণের স্মারকসম্ভার। যেমন একটি পরিপূর্ণ ও নিখুঁত বক্তব্য; যেখানে যাবতীয় বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এ সূরাতে এমন এক নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা তুলে ধরেছেন, যেখানে মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔