by Syed Yesin Mehedi

কুরআনের অনুসরণ না করায় মুসলমানরা তাগুতিদের কবলে
আজ সেই সব মানুষ ও মুসলিম জাতি যারা কুরআনের অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান শোনে না— যে কিতাব মুসলমানদেরকে বলে: আল্লাহর উপর ভরসা ও নির্ভর কর, আল্লাহর শত্রুদের উপর ভরসা কর না, খোদাদ্রোহী অপশক্তিগুলোর উপর নির্ভর কর না, তাদেরকে ভয় কর না— যখন তারা এই অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান ও এ হৃদয়গ্রাহী সতর্কবাণীর প্রতি কর্ণপাত করবে না, তখন সর্বপ্রথম তাদের উপর কোন্্ শাস্তি নেমে আসবে? অত্যাচারী ও তাগুত শাসকের উপস্থিতি। আপনি কি চান এমন ধরনের কোনো মহামারি আসুক? ভূমিকম্প আসুক? মানুষ ধ্বংস হয়ে মাটির গহ্বরে চলে যাক? বাস্তবে একজন অত্যাচারী ও তাগুতি শাসকের আযাব এগুলোর চেয়েও ভয়াবহ ও জঘন্য। উদাহরণস্বরূপ, জর্ডানের, মিশরের, সুদানের, মরক্কোর জালিম ও স্বৈরশাসকরা হাজারো মহামারির চেয়েও খারাপ, হাজারো ভূমিকম্পের চেয়েও খারাপ, হাজারো আসমানি মহামারির চেয়েও খারাপ; কেন? কারণ, আসমানি মহামারি কিছু মানুষকে ধ্বংস করে; তাও আবার শুধু তাদের শরীর ও দেহসমূহকে; কিন্তু এ অত্যাচারী ও তাগুতরা মানুষের আত্মা, মানুষের নৈতিকতা, মানুষের সম্মান, এমনকি মানুষের পুরো জগৎ ও সর্বস্বকে ধ্বংস করে দেয়। তারা মানুষের উপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেয়, অপমান ও লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেয়, তারা মানুষের উপর শত্রুদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
আজ আপনারা মুসলিম দেশগুলোর দিকে তাকান; দেখুন, আমেরিকা, তার দোসর, সৈন্যবাহিনী, অর্থভোগী, সুবিধাভোগীরা জনগণের সাথে কেমন অহংকারী আচরণ করছে; এ দেশগুলোর উপর মার্কিনীরা শোষণ করছে, তাদের অর্থ-সম্পদ লুট করছে, তাদের তেল নিয়ে যাচ্ছে, তাদের অধিকার হরণ করছে। সেখানে একজন মার্কিনীর সম্মান—সামাজিক মর্যাদা—সেই দেশের একশ জন সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি। যদি তারা কোনো মার্কিন নাগরিকের দিকে বাঁকা চোখেও তাকায় তাহলে তাদের উপর চরম অবমাননা নেমে আসবে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান কিংবা কুরআন তিলাওয়াতকারীও হোক না কেন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা এক সময় আমাদের দেশেও বিদ্যমান ছিল। আমাদের দেশে তখন মার্কিন উপদেষ্টারা বসবাস করত, আমাদের অর্থ-সম্পদ ভোগ করত, আমাদের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করত, আমাদের দেশেই থাকত, আমাদের জলবায়ু ব্যবহার করত, কিন্তু তারপরও তাদের একজন সাধারণ সৈন্যও আমাদের দেশের পদস্থ সামরিক কর্নেলের চেয়েও অনেক বেশি সম্মানিত ছিল! আমাদের একজন পদস্থ সামরিক কর্নেলের সাহসও ছিল না যে, সে একজন আমেরিকান অফিসারকে বলবে, ‘আপনি কেন এমন আচরণ করছেন?’ তাহলে প্রতি উত্তরে সে তাচ্ছিল্য করে বলত, ‘এতে তোমার কী?’ এর চেয়ে অপমান কি আর কিছু হতে পারে? অবশ্য এদেরকে কে আমাদের দেশে এনেছে? কে এমন অবস্থা তৈরি করেছিল? তাগুত ও অত্যাচারী শাসক। আল্লাহর শুকরিয়া যে, জনগণ সে তাগুত ও জালিম শাসককে পিষ্ট করেছে, চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে, ধ্বংস করেছে। তাগুত ও স্বৈরশাসকের দেহ, শরীর ও অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে এবং তাদের ক্ষমতা ও দর্প মাটির সাথে মিশে গেছে।
যাইহোক, আমাদের জাতি যখন কুরআনের অনুপ্রেরণামূলক আহ্বানে সাড়া দেয়নি, তখন তাদের উপর এক মহা বিপর্যয় নেমে এসেছিল; আর সে বিপর্যয় ছিল অত্যাচারীর বিপর্যয়, মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ন্যায় তাগুত শাসকের বিপর্যয়। কেননা, সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে তাগুত ও জালিম শাসকের দুঃশাসন। আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা তাদের কৃতকর্মের সাজা আস্বাদন করেছিল।’ এখানে কোন্্ কর্মের কথা বলা হয়েছে? তা হচ্ছে কুফর বা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস, কুরআনের সত্যের প্রতি অবজ্ঞা, ইসলাম ও কুরআনের সতর্কীকরণের প্রতি অবজ্ঞা, নিজেদের প্রতি অর্পিত দায়িত্বাবলি পালন করা থেকে বিরত থাকা। অতীতে আমরাও অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ রহমতে আমাদের জাতি জাগ্রত হয়েছে, কুরআনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। যদি আমরা কুরআনের আদেশ মান্য না করি, তাহলে আমাদের জন্যও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। এটা ভাববেন না যে, আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যেখানে আমাদের আর ফিরে আসার সুযোগ নেই; না ভাই, কুরআনে এমন কয়েক ডজন আয়াত রয়েছে যেখানে মানুষকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে এবং মানুষ যে সর্বদা বিপদের সম্মুখীন, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই প্রত্যেককে সর্বদা আত্মসংবরণ করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔