মহান আল্লাহর সর্বজনীন রহমতের আওতায় যারা রয়েছেন তারা বন্ধু এবং শত্রু, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, ভালো ও মন্দ সবাই রয়েছেন। আল্লাহর রহমতের বৃষ্টির ধারা যেমন সর্বত্র বিরাজমান তেমনি তাঁর বিশেষ রহমত বা দয়া তা থেকে ভিন্ন।
আদম (আ.)-এর সৃষ্টির বর্ণনা দিতে গিয়ে ইসলামের নবী (সা)’র উত্ত্বরাধিকারী এবং আহলে বাইত (আ)’র প্রথম ইমাম আলী (আ) বলেছেন: সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার জন্য তাওবার দরজা খুলে দিয়েছেন এবং তাকে রহমতের বাণী শিক্ষা দিয়েছেন।
রহমতের গুরুত্ব ও অবস্থান এত বিস্তৃত যে কুরআনের সূরাগুলোর শুরুতে আল্লাহ এই গুণের সঙ্গে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এই নিবন্ধে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে আল্লাহর রহমত কি এবং কোন উপায়ে আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর থেকে তাঁর করুণা তুলে নিতে পারেন সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
সর্বপ্রথম আল্লাহর রহমতের পরিধি সম্পর্কে জানা উচি ত যে রহমতের মাঝে আধ্যাত্মিক দিক থাকে এবং কখনও তা দুনিয়া ও আখেরাতের বস্তুগত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। কোরানে রহমতের অনেক অর্থ রয়েছে। কখনও এটি নির্দেশিত বিষয় উল্লেখ করা হয়, কখনও শত্রুর খপ্পর থেকে পরিত্রাণ, কখনও বরকতময় বৃষ্টি, কখনও কখনও অন্যান্য দয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে বেহেশত এবং কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান দিবসে আল্লাহ দয়া।
আল্লাহর রহমতের প্রকারভেদ
আল্লাহর রহমত দুই প্রকারঃ
আল্লাহর সাধারন বা সর্বজনীন রহমত:
আল্লাহর এই রহমতের আওতায় বন্ধু এবং শত্রু, বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী, ভাল এবং মন্দ নির্বিশেষে সব ধরনের স্বভাবের মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাঁর অতুলনীয় রহমতের বৃষ্টির ধারা এত ব্যাপক যে তা সবার কাছে পৌঁছে যায় এবং সর্বত্র তাঁর রিযিক বিস্তৃত হয় এবং তিনি মুমিন বা অবিশ্বাসী নির্বিশেষে অসুস্থদের আরোগ্য করেন।
আল্লাহর বিশেষ রহমত:
আল্লাহর আরেকটি রহমত হল তার বিশেষ রহমত। এই ধরনের করুণা বা দয়া তাঁর ধার্মিক ও বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কারণ তাদের বিশ্বাস ও সৎকর্মের কারণে তারা আল্লাহর করুণা ও ক্ষমা এবং বিশেষ দয়া পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে যেগুলো নানা অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা বা বাপে কলুষিত আত্মা উপভোগ করতে পারে না।
ইমাম জাফর সাদেক সাদেক (আ) একটি বর্ণনায় বলেছেন: আল্লাহ হলেন সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, সমস্ত সৃষ্টির প্রতি পরম করুণাময়, বিশ্বাসীদের জন্য পরম করুণাময়। অর্থাৎ, আল্লাহ হলেন সমস্ত কিছুর প্রভু, তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রতি করুণাময় এবং বিশেষ করে বিশ্বাসীদের প্রতি তিনি অতি দয়ালু।