মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে হেদায়েত করার জন্য যুগে যুগে নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন। এই অগণিত নবী ও রাসুলের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে তারতম্য রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে সম্মানিত হলেও আল্লাহ তাআলা তাঁদের মধ্যে কাউকে কাউকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। হযরত আলী (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বাণীর মাধ্যমে নবীগণের এই শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বয়ং বিশ্বনবীর অনন্য মর্যাদার বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
হাদিসের মূল বার্তা ও বিশ্লেষণ
উদ্ধৃত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলী (আ.)-কে ইরশাদ করেছেন:
“হে আলী! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারক ওয়া তাআলা তাঁর প্রেরিত নবীগণকে তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং আমাকে সমগ্র নবী ও রাসুলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।” [উয়ূনু আখবারির রিদা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬২]
এই হাদিসটিতে মূলত দুটি স্তরের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা হয়েছে:
নবীগণের শ্রেষ্ঠত্ব: আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের ইবাদত ও আনুগত্যের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সত্ত্বেও মানবজাতির মধ্য থেকে মনোনীত নবী ও রাসুলগণকে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এর কারণ হলো নবীগণের ঈমান, আল্লাহর পথে সংগ্রাম, পার্থিব মোহের ঊর্ধ্বে থেকে রিসালাতের দায়িত্ব পালন এবং মানুষের হেদায়েতের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ।
বিশ্বনবীর অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব: দ্বিতীয় স্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমস্ত নবী ও রাসুলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব বা ‘খাতামুন্নাবিয়্যীন’ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী করেছেন। তাঁর রিসালাত সর্বজনীন এবং তাঁর মাকাম বা পদমর্যাদা সমগ্র সৃষ্টিজগতের শীর্ষে।
ইসলামে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি
ইসলামে কোনো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব জন্মসূত্রে বা বংশমর্যাদায় নির্ধারিত হয় না, বরং তা নির্ধারিত হয় আল্লাহর নৈকট্য, তাকওয়া, দায়িত্ববোধ এবং সৃষ্টির কল্যাণে অবদানের ওপর। নবী ও রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুওয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছেন। তাঁদের এই অতুলনীয় ত্যাগের কারণেই তাঁরা ফেরেশতাদের মতো নূরানি মাখলুকের ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।
হযরত আলী (আ.)-কে বলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীটি কেবল একটি সাধারণ বক্তব্য নয়, বরং এটি ইসলামি আকিদা ও নবুওয়তের মর্যাদার এক অমূল্য দলিল। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মর্যাদা অতুলনীয়।
25
আগের পোস্ট
