কারবালায় ইমাম হোসাইন (আ.) এর প্রথম ভাষণ
কারবালার ময়দানে তৃষ্ণার্ত ইমাম বাহিনী এক দিকে-অপর দিকে ওমর বিন সা’ দের বিশাল বাহিনী। এ অবস্থায় শত্রু সৈন্যদের উদ্দেশ্যে ইমাম তার তরবারীর উপর ভর দিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রথম যে ভাষণ প্রদান করেন তা নিম্নরূপ।)
খোদার কসম দিয়ে বলছি, তোমরা আমাকে চেন? তারা বললঃ হ্যাঁ, আপনি আওলাদে রাসূল এবং তারই নাতি। খোদার শপথ করে বলছি, তোমারা কি জানো আমার নানা ছিলেন রাসূলে খোদা (সা.)। তারা জবাব দেয়, হ্যাঁ খোদার কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি। তোমরা কি জানো আমার পিতা আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)। তারা বলল জ্বি, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ। আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তোমরা কি জানো আমার মা জননী ফাতেমা যাহরা (আ.) ছিলেন মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এর কন্যা। সবাই বলল- খোদার কসম করেই বলছি তাই ঠিক। আল্লাহর শপথ করে বলছি তোমরা কি জানো আমার নানী ছিলেন খাদিজা বিনতে খোওয়াইলিদ (রা.) যিনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম মহিলা। তারা জবাবে বলল-হ্যাঁ খোদার শপথ তাই ঠিক। ইমাম হোসাইন (আ.) বললেন আল্লাহর শপথ করে বলো-তোমরা কি জানো সাইয়্যেদুশ শোহাদা হামজা (রা.) ছিলেন আমার পিতার চাচা? তারা বললঃ হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ। হযরত বললেন-আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি তোমরা কি জান জাফর তাইয়ার (রা.) ছিলেন আমার চাচা? তারা বললঃ জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহর কসম আমরা জানি। ইমাম বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি-তোমরা কি জানো রাসূল (সা.) এর তরবারী মোবারক আমার হাতে রয়েছে তারা জবাবে বলল-হ্যাঁ আমরা জানি। হযরত (আ.) আবারো আল্লাহর শপথ করে বললেন-তোমরা কি জান আমার মাথার এ পাগড়ীটি মহানবী (সা.) এর পাগড়ী? তারা বলল, জ্বি হ্যাঁ, আমরা তা জানি। ইমাম (আ.)আবার আল্লাহর শপথ নিয়ে বললেন-তোমাদের কি জানা আছে আলী (আ.) প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং জ্ঞান ও ধৈর্যের ক্ষেত্রে অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন-তিনি ছিলেন নারী-পুরুষ সকলের মওলা(অভিভাবক)। তারা বললঃ জ্বি হ্যাঁ আমার জানি। ইমাম বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আল্লাহর শপথ-
তাহলে আমার রক্ত কি করে তোমরা হালাল মনে করছ? অথচ আমার পিতা হাউজে কাউসারের পানি পান করাবেন। কিয়ামত দিবসে লিওয়াউল হামদ (হামদের পতাকা) তার হাতেই থাকবে। তারা জবাব দিল-তুমি যা কিছু বলেছ আমরা সবই জানি কিন্তু-
“ পিপাসায় প্রাণ ওষ্ঠগত হওয়া পর্যন্ত আমরা তোমাকে ছাড়বনা।”
হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এর ভাষণ সমাপ্ত হচ্ছিল।তার কন্যাগণ ও বোন হযরত জয়নাব (আ.) ভাষণ শুনছিলেন আর বুকে হাত মেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলেন। তাদের কান্না ছির হৃদয় বিদারক। ইমাম (আ.) তার ভাই আব্বাস এবং ছেলে আলীকে তাদের কাছে পাঠিয়ে বললেন-মহিলাদেরকে সান্তনা দাও কেননা আমার জীবনের শপথ করে বলছি- এরপর ইবনে যিয়াদই কাদবে।
বর্ণনাকারী বলেন, ওমর বিন সা’ দের নামে লেখা আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদের পত্র পৌছে গেল। ঐ পত্রে তাকে উস্কানি দিয়ে বলা হয় দ্রæত যেন যুদ্ধ শুরু করা হয়। এ কাজে বিলম্ব না হয়। এ পত্র পাওয়া মাত্রই অশ্বারোহী সেনাদল ইমাম হোসাইন (আ.) এর তাবুর দিকে অগ্রসর হয়।
আব্বাস (রা.) নিরাপদঃ
শিমার তাবুর কাছে এসে চিৎকার দিয়ে বলে উঠেاین بنو اختی কোথায় আমার ভাগ্নেরা? কোথায় আমার ভাগ্নে আবদুল্লাহ, জাফর, আব্বাস ও উসমান? হোসাইন (আ.) বললেনঃ শিমার ফাসেক হলেও তোমরা তার কথার জবাব দাও যেহেতু সে তোমাদের মামা। আব্বাস ও তার ভাই জবাব দিলেন-কি বলতে চাও? শিমার বললঃ হে আমার ভাগ্নেরা তোমরা নিরাপদ। তোমাদের ভাই হোসাইনের সাথে নিজেদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিওনা। আমীরুল মো ’ মেনীন ইয়াজিদের আনুগত্য কর।
আব্বাস (আ.) বললেন-তোমর ধ্বংস হোক, আল্লাহর দুশমন। আমাদের জন্য কি মন্দ ও লজ্জাকর নিরাপত্তার কথা বলছ?
আমাদেরকে ফাতেমা (আ.) এর সন্তান হোসাইন (আ.) এর সহযোগিতা ছেড়ে অভিশপ্তের সন্তান অভিশপ্তের আনুগত্য করতে বলছ?
এ জবাব শুনে শিমার তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে তার সেনাবাহিনীর কাছে পিরে যায়।
ইবনে যিয়াদের বাহিনীর পক্ষ হতে অতি দ্রæত যুদ্ধ শুরুর তোড়জোড় এবং ইমামের ভাষণে তাদের মধ্যে কোনরূপ প্রতিক্রিয়া না হওয়ায়-হযরত আব্বাস (রা.) কে ইমাম (আ.) বললেন-যদি পারো আজকে তাদেরকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখ। আজ রাতে নামাযের মধ্যেই কাটাবো। আল্লাহই ভাল জানেন আমি নামায পড়া ও কুরআন তিলাওয়াতকে কতই না ভাণবাসি। আব্বাস (রা.) এসে তাদেরকে যুদ্ধ না করার অনুরোধ জানালো। ওমর বিন সা’ দ চুপ তাকল। মনে হচ্ছিল সে যুদ্ধ বিলম্বিত করতে আগ্রহী ছিল না।
আমর বিন হাজ্জাজ যুবাইদী বলল, খোদার কসম আমাদের প্রতিপক্ষ যদি তুর্কী বা দায়লমী হতো আর তারা এ দরখাস্ত করলে আমরা অবশ্যই গ্রহণ করতাম। অথচ এরা হচ্ছে আল্লাহর রাসূল (সা.) এর আওলাদ। কি করে তদের প্রস্তাব নাকচ করতে পারি? অবশেষে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়ে যুদ্ধ বিলম্বিত হয়।
ইমাম হোসাইন (আ.)মাটিতে বসে পড়েন হটাৎ তার ঘুম এসে যায়। কিছুক্ষণ পরই ঘুম থেকে জেগে উঠেন। হযরত যয়নব (রা.) কে লক্ষ করে বলেন-প্রিয় বোনটি আমার! নানা রাসূলে খোদা (সা.), পিতা আলী (আ.), মা ফাতেমা (সা.আ.) ও ভাই হাসান (আ.) কে স্বপ্নে দেখেছি। আমাকে বলেছেনঃ‘ হে হোসাইন! অতিশীঘ্রই আমাদের সাতে মিলিত হবে। ’ কোন কোন বর্ণনা মতে তারা বলেছিল-‘ হে হোসাইন। (আ.) আগামীকালই আমাদের সাথে মিলিত হবে। ” যয়নব (আ.) এ কথা শুনে মাথায় হাত চাপড়াতে চাপড়াতে চিৎকার দিয়ে কেদে উঠলেন। হোসাইন (আ.) বললেন, চিৎকার দিওনা, এমন কাজ করো না যাতে জনগণ আমার দুর্নাম করে।
রাত এসে গেল। জীবনের সর্বশেষ রাত্রিতে হোসাইন (আ.) তার সাথী-সঙ্গীদের সমবেত করে মহান আল্লাহর প্রশংসার পর বললেনঃ আমি আমার সাথী-সঙ্গীদের চেয়ে কোন সাথীকে অধিক নেককার এবং আমার আহলে বাইতের (আ.) চেয়ে কোন পরিবারকে অধিক উত্তম মনে করি না। মহান আল্লাহ তোমাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এখন রাত, অন্ধকার সবকিছু ছেয়ে ফেলেছে। তোমরা এ রাতের অন্ধকারকে পথিকের উটের মতো মূল্য দাও। তোমরা সবাই আমার আহলে বাইতের এক একজনকে নিয়ে রাতের আধারে পালিয়ে যাও। আমাকে শত্রু সেনাদের সামনে থাকতে দাও, কেননা তারা একমাত্র আমাকেই চায়।
নাসেখুত তাওয়ারিখ গ্রন্থে ইমাম হোসাইন (আ.) এর বক্তব্যের বর্ণনা নিম্নরূপ।
ইমাম হোসাইন (আ.) তার বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন-“ আমি তোমাদের নিকট হতে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) তুলে নিলাম। তোমার নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও। ” এরপর আহলে বাইত (আ.) এর উদ্দেশ্যে বলেন-“ তোমাদেরকেও যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি। এ বিশাল বাহিনীর মোকাবিলায় যুদ্ধ করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। কেনন্ প্রতিপক্ষ সংখ্যা ও সাজসরঞ্জামের দিক থেকে তোমাদের তুলনায় অনেক বেশী। তদের এ সেনাপরিচালনাও আমাকে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা আমাকে এ সেনাবাহিনীর সামনে আবস্থান নিতে দাও। আল্লাহই সর্বাবস্থায় আমায় সাহায্য করবেন। তার রহমতের দৃষ্টি আমার উপর থেকে উঠিয়ে নেবেন না। যেমন আমার পূত পবিত্র পূর্ব পুরুষগণ থেকে তার দৃষ্টি তুলে নেননি। এ ভাষণের পর ইমাম বাহিনীর অনেকেই চলে যান। তবে তার আত্মীয়-স্বজনরা তার সাথেই থেকে যান। এক মনীষী এ প্রসঙ্গে কবিতার ভাষায় বলেন-
মুরুজুজ্জাহাব গ্রন্থের মতেঃ এ ভাষণের পর হোসাইন (আ.) এর বাহিনীর ১১শ লোকের মধ্যে তার পরিবারের ৭২ জন ছাড়া সবাই রাতের অন্ধকারে ইমামকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। হোসাইন (আ.) এর ভাই, সন্তান ও আবদুল্লাহ জাফরের সন্তানরা বলে উঠে-
কেন আপনাকে ছেড়ে চলে যাব এটা কি আমাদের বেচে থাকার জন্য? মহান আল্লাহ আমাদের জন্য কখনও এমন দিন যেন না দেন।
এ বক্তব্য প্রথমে উপস্থাপন করেন আব্বাস বিন আলী (আ.)এরপর আহলে বাইতের (আ.) সবাই তার কথায় সমর্থন দেন।
এপর হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) মুসলিম বিন আকিলের সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলেন-মুসলিমের শাহাদত তোমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। আমি তোমাদের চলে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি।
অন্য বর্ণনা মতে ইমামের ভাষণ শুনার পর আহলে বাইত সমস্বরে বলতে লাগল-
হে আওলাদে রাসূল, মানুষ আমাদের কি বলবে? আর আমরা জনগণকে জবাবই বা কি দেব? আমরা কি বলব আমাদের নেতা আমাদের বুযুর্গ এবং মহানবীর সন্তান (আ.)কে একা ফেরে এসেছি? তার সাহায্যার্থে দুশমনের দিকে একটি তীরও নিক্ষেপ করিনি।বর্শা কাজে লাগাইনি, তরবারী চালাইনি? খোদার কসম আপনাকে ছেড়ে যাব না। নিজের জীবন দিয়ে হলেও আপনার প্রতিরক্ষা করব, প্রয়োজনে আল্লাহর রাস্তায় আপনার সাথে শাহাদতের শরবত পান করব। আপনার শাহাদতের পর আমাদের বেছে থাকাকে আল্লাহ অকল্যাণজনক করুক।
এরপর মুসলিম বিন আজুসা দাঁড়ায়ে বললঃ হে আল্লাহর নবীর আওরাদ! দুশমনের এ বিশাল বেষ্টনীর মধ্যে আপনাকে ফেলে রেখে আমরা চলে যাব? খোদার কসম এ কাজ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহ আপনার পর আমাদের জীবন নছীব না করুন।আমরা যুদ্ধ করব আপনার দুশমননের বুকে বর্শা ভেঙ্গে যাওয়া পর্যন্ত তরবারী চালাবো তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়বো। যদি কোন অস্ত্র না থাকে পাথর নিয়ে তাদের প্রতিহত করব। প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দেব।তবুও আপনাকে ছেড়ে যাব না।
সাইদ বিন আব্দুল্লাহ হানাফী বললোঃ হে মহানবীর আওলাদ (আ.)! খোদার শপথ করে বলছি আপনাকে একা রেখে আমরা যাব না। আমরা আল্লাহর দরবারে প্রমাণ করব আপনার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর অসিয়ত রক্ষা করেছি। আপনার পথে যদি নিহত হই এরপর জীবিত হই এরপর জীবন্ত দগ্ধ হই আর তা যদি সত্তরবারও হয় আপনাকে ছেড়ে যাব না। আপনার মৃত্যুর আগেই নিজের মৃত্যুকে দেখতে চাই। আপনার পথে জীবন না বিলিয়ে কিভাবে থাকতে পারি? অথচ মৃত্যু তো জীবনে একবারই আসে। এ মৃত্যুর পরই চিরন্তন সম্মান ও সৌভাগ্য লাভ করবো।
এরপর যুহাইর বিন কেইন দাড়িয়ে বলল খোদার শপথ। হে মহানবীর আওলাদ (আ.) আপনি আপনার পরিবার পরিজনকে আল্লাহ জীবন্ত রাখার পরিবর্তে প্রয়োজনে হাজারবার নিহত হওয়া আবার জীবন্ত হওয়াকে আমি অধিক পছন্দ করি। ইমাম (আ.) এর সহযোগী একদল সমস্বরে বলে উঠে-
আমাদের জীবন আপনার জন্য উৎসর্গিত। আমার আমাদের জীবনের সবকিছুর বিনিময়ে আপনার প্রতিরক্ষা করব, এ পথে জীবন দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করব।
ঐ রাতেই মুহাম্মদ বিন বশির হাজরামীর কাছে এ সংবাদ পৌছে যে, তার ছেলে সেই সীমান্তে বন্দী হয়েছে। মুহাম্মদ বিন বশির বললেন-তার ব্যাপার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমার জীবনের শপথ আমার ছেলে বন্দী থাকুক এবং তারপরও আমি জীবিত থাকি এটা আমি মোটেই পচন্দ করি না। ইমাম হোসাইন (আ.) তার কথা শুনছিলেন। বললেন-“ আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। আমি তোমার উপর থেকে আমার বাইয়াত তুলে নিচ্ছি। তুমি তোমার সন্তানের মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নাও। ” জবাবে মুহাম্মদ বললঃ আপনাকে ছেড়ে গেলে হিংস্রপ্রাণী আমাকে জীবিত অবস্থায় টুকরা টুকরা করে খেয়ে ফেলুক। ইমাম (আ.) বললেন- এ ইয়ামেনী জামাগুলো তোমার ছেলেকে দাও যাতে তার ভাইয়ের মুক্তির জন্য কাজে লাগাতে পারে। এরপর এক হাজার দিনার মূল্যের পাঁচটি জামা তাকে দান করলেন।
বর্ণনাকারী বলেছেন-
ঐ রাতটি ইমাম (আ.) ও তার সঙ্গীদের মুনাজাত ও আহাজারীতে কাটে। একদল রুকু অপর দল সিজদা বা অন্যান্য ইবাদতে গোটা রাত কাটিয়ে দেয়। ঐ রাতে ওমর বিন সাদের বাহিনীর বত্রিশ জন ইমাম হোসাইন (আ.) এর সৈন্যদলে যোগ দেয়। অধিক নামায আদায় ও পূর্ণতার বিভিন্ন গুণে হযরত হোসাইন (আ.) এর চরিত্রই ছিল অনন্য। ইবনে আবদুল বার রচিত ইকদুল ফরিদ গ্রন্থের ৪র্থ খন্ডের বর্ণনামতে, আলী বিন হোসাইন (আ.)কে জিজ্ঞেস করা হয়“ আপনার পিতার সন্তান এত কম কেন? তিনি বলেন-একটি সন্তানও বিস্ময়কর ব্যাপার। কেননা রাত দিনে তিনি হাজার রাকাআত নামায আদায় করতেন। এতে করে তার স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর ফুরসত ছিল না।
আশুরার দিন ভোরে ইমাম হোসাইন (আ.) তাবিুর ভিতরের অংশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দিলেন। আতর গোলাব ছিটালেন। বর্ণিত হয়েছে যে, বারির বিন খোজাইর হামাদানী এবং আবদুর রহমান বিন আবদে রাব্বিহী ইমাম হোসাইন (আ.) তাবু থেকে বের হবার পর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য তাবুর পশ্চাতে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বারির আব্দুর রহমানের সাথে হাসি ঠাট্টা শুরু করে।আব্দুর রহমান বলল,হে বারির তুমি হাসছো অথচ এখন হাসার বা হাস্যকর কথা বলার সময় নয়।
বারির বললঃ আমার সম্প্রদায়ের সবাই জানে আমি যৌবনে ও বার্ধক্যে কখনও অনর্থক কথা বলা পছন্দ করিনি। তবে শহীদ হতে যাচ্ছি এ আনন্দে আজকে এ হাস্যকর কথা বলছি। খোদার শপথ এ বাহিনীর মোকাবিলায় তরবারী চালানো এবং কিছুসময় তাদের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই বাকী নেই।
329
আগের পোস্ট
