কুরআন ও হাদীসের আলোকে জিহ্বার হেফাজত

by Syed Yesin Mehedi

ইসলামী নৈতিকতা (আখলাক) মুমিনকে কেবল সৎকর্ম করতে উৎসাহিত করে না, বরং তাকে সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে থাকতেও নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে একটি হলো গীবত  বা পরনিন্দা, যা ইসলামী সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত এবং মারাত্মক আত্মিক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। গীবত হলো এমন একটি কাজ যা ইবাদত নষ্ট করে, মানুষের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করে এবং সামাজিক সম্পর্ককে ছিন্ন করে। এটি সেই কাজ, যা একজন মানুষ তার অনুপস্থিতিতে অন্য কারো সম্পর্কে বলে, যা শুনলে সে কষ্ট পাবে।

এই কারণে, কুরআন এবং রাসূল (সাঃ)-এর হাদীসে জিহ্বার (জিভ) হেফাজত বা নিয়ন্ত্রণ করার ওপর চরম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কুরআনে গীবতের চরম নিন্দা

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে গীবতকে এমন এক জঘন্য কাজের সাথে তুলনা করেছেন যা মুমিনের হৃদয়ে তীব্র ঘৃণা তৈরি করে:

“আর তোমাদের কেউ যেন কারও গীবত না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে।”

— সূরা হুজরাত (৪৯:১২)

এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, গীবত করা কেবল একটি খারাপ কাজ নয়, বরং এটি একটি ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কাজ। আল্লাহ এই উপমার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যার গীবত করা হয়, তার অনুপস্থিতিতে তার সম্মান নষ্ট করা মৃত মানুষের মাংস খাওয়ার মতোই জঘন্য।

রাসূল (সাঃ)-এর হাদীসে জিহ্বার হেফাজত

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিহ্বার হেফাজতকে ঈমানের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, একজন মুমিনকে অবশ্যই তার কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।”

এই হাদীসটি একটি সহজ জীবননীতি দেয়: যদি আপনার কথা কল্যাণকর না হয়, তবে নীরব থাকাই শ্রেয়। কারণ নীরবতা মানুষকে অনেক পাপ থেকে রক্ষা করে।

আহলে বাইত (আঃ)-এর শিক্ষায় নীরবতার ফজিলত

আহলে বাইত (আঃ)-এর ইমামগণ গীবত থেকে বাঁচার জন্য মৌনতা বা নীরবতার (Silence) গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ইমামগণ শিখিয়েছেন যে, জিহ্বাই হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক অঙ্গ, যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে।

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ) বলেছেন:

“জিহ্বা এমন এক পশু, যদি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সে কামড়ে খাবে।”

— [উৎস: নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাবাণী: ৬২ (ভাবানুবাদ)]

এই বাণীটি আমাদের সতর্ক করে যে, জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ না করলে তা নিজের এবং অন্যের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে। গীবত থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায় হলো নিজের কথা বলার প্রবণতা কমানো এবং কেবল জরুরি ও উপকারী কথা বলা।

গীবত একটি মারাত্মক পাপ, যা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতা সৃষ্টি করে। মুমিনের কর্তব্য হলো, কুরআন ও আহলে বাইত (আঃ)-এর শিক্ষা অনুসরণ করে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা যদি মানুষের অনুপস্থিতিতে তাদের দোষচর্চা না করে তাদের জন্য দোয়া করি, তবেই আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব এবং প্রকৃত আধ্যাত্মিক পবিত্রতা লাভ করব।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔