মাসআলা (১৪): মৃত ব্যক্তির তাকলীদ করা এক দৃষ্টিতে দুই প্রকার হয়ে থাকে;
১. সূচনা তাকলীদ: (অর্থাৎ মৃত মুজতাহিদকে তাঁর জীবদ্দশায় তাকলীদ করেনি। মৃত্যুর পর তাঁকে তাকলীদ শুরু করতে চায়)-এক্ষেত্রে এহতিয়াত ওয়াজিব হলো এরূপ তাকলীদ জায়েয নয়।
২. তাকলীদ বজায় রাখা : (অর্থাৎ মুজতাহিদের জীবদ্দশায় তাঁকেই তাকলীদ করতো। এখন তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁকেই তাকলীদ করে যেতে চায়-এক্ষেত্রে তাকলীদ জায়েয হবে এবং সমস্ত মাসআলা, এমনকি যেসব মাসআলা ইত:পূর্বে সে পালন করেনি, সবক্ষেত্রেই এরূপ তাকলীদ জায়েয হবে।
মাসআলা (১৫): তাকলীদ বজায় রাখার ক্ষেত্রে মৃত মুজতাহিদ আ’লাম (সর্বাধিক জ্ঞানী) থাকুন আর নাই বা থাকুন, কোনো পার্থক্য নেই। উভয়ক্ষেত্রেই এ তাকলীদ জায়েয হবে। তবে মৃত আলাম মুজতাহিদের তাকলীদ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এহতিয়াত তরক করা উচিত হবে না।
মাসআলা (১৬): মৃত মুজতাহিদের থেকে সূচনা তাকলীদ কিংবা তাঁর তাকলীদ বজায় রাখা এবং এর সীমা-পরিধি একজন জীবিত মুজতাহিদের তাকলীদক্রমেই হতে হবে। আর এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে তিনি হবেন আলাম। জ্বি, মৃত মুজতাহিদের তাকলীদ বজায় রাখার বিষয়টি যদি বর্তমান যুগের সকল ফকীহর সর্বসম্মত মত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আলামের নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়।
মাসআলা (১৭): যে সকল ব্যক্তি পূর্ণ-যোগ্যতাসম্পন্ন মুজতাহিদের জীবিত থাকাকালে নাবালক ছিল, কিন্তু সঠিকভাবেই তাঁর তাকলীদ করেছে, তারা উক্ত মুজতাহিদের মৃত্যুর পরও সেভাবেই তাঁর তাকলীদ বজায় রাখতে পারবে।
মাসআলা (১৮): যে ব্যক্তি একজন মুজতাহিদের তাকলীদ করতো, অত:পর তার মৃত্যুর পর কিছু কিছু মাসআলার ব্যাপারে অন্য একজন মুজতাহিদের তাকলীদ করেছে, এখন এ মুজতাহিদও ইন্তেকাল করেছেন। এমতাবস্থায় সে প্রথম মুজতাহিদের যেসব মাসআলা থেকে উদুল করেনি (অর্থাৎ যেসব মাসআলায় পরবর্তী মুজতাহিদের তাকলীদ করেনি), সেসব মাসআলায় প্রথম মুজতাহিদের তাকলীদ বজায় রাখতে পারবে। অনুরূপভাবে যেসব মাসআলায় উদুল করেছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে সে দ্বিতীয় মুজতাহিদের তাকলীদ বজায় রাখতেও পারে, আবার জীবিত মুজতাহিদের প্রতি উদুলও করতে পারে।
