তাক্বলীদ কী?
-
দলীল-প্রমাণ অনুসন্ধান ব্যতীতই কারো কথা মেনে নেওয়ার নামই তাক্বলীদ।
-
যেমন: একজন রোগী তার চিকিৎসকের নিয়ম-কানুন দলীল ছাড়াই মেনে নেয়।
তাক্বলীদের ক্ষেত্র
-
যখন কোনো মানুষ কোনো বিষয়ের অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝতে অক্ষম হয়, তখন সে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির অনুসরণ করে।
-
এ অবস্থাকে বলা হয় তাক্বলীদ।
-
অধিকাংশ তাক্বলীদ শিক্ষা, দীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মুখাপেক্ষী বিষয়গুলোতে হয়ে থাকে।
মুক্বাল্লিদ ও মুজতাহিদ
-
যে ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে বিজ্ঞ ব্যক্তির অনুসরণ করে, তাকে বলে মুক্বাল্লিদ।
-
যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী, তাকে বলে মুজতাহিদ।
-
উদাহরণ:
-
ডাক্তার মানবদেহ ও চিকিৎসায় মুজতাহিদ।
-
নির্মাণ প্রকৌশলী স্থাপত্যবিদ্যায় মুজতাহিদ।
-
দরজী পোশাক সেলাইয়ে মুজতাহিদ।
-
স্বর্ণকার ধাতব দ্রব্য নিরূপণে মুজতাহিদ।
-
ধর্মীয় বিষয়াবলীতে তাক্বলীদ
ধর্মীয় বিষয় দুটি ভাগে বিভক্ত:
-
উসূলী মাসায়েল (মৌলিক বিষয়)
-
তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ)
-
আল্লাহর গুণাবলী (আদল, ইনসাফ ইত্যাদি)
-
নবুয়্যত
-
ইমামত
-
কেয়ামত
-
➝ এসব মৌলিক বিষয়ে তাক্বলীদ করা যায় না। প্রত্যেক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য হলো চিন্তা-ভাবনা ও দলীলের ভিত্তিতে এগুলো বোঝা ও বিশ্বাস স্থাপন করা।
-
-
ফুরুঈ মাসায়েল (শাখা-প্রশাখাগত বিষয়)
-
ইবাদত-বন্দেগী
-
লেনদেন
-
আদান-প্রদান
-
➝ এসব বিষয়ে তাক্বলীদ করা বৈধ, কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে এ সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করা সহজ নয়।
-
উপসংহার
-
প্রতিটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা হলেন মুজতাহিদ।
-
সাধারণ অজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যখন তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য মুজতাহিদের দিকে রুজু করে, তখন তারা মুক্বাল্লিদ হয়।
-
মৌলিক আকীদাগত বিষয়ে তাক্বলীদ নয়, বরং চিন্তা-ভাবনা ও দলীল প্রয়োজন।
-
শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ে তাক্বলীদ জরুরি, কারণ এর জন্য বিশেষ জ্ঞান ও শর্ত প্রয়োজন যা সবার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।
- ফজর/
