পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে তাওয়াফে নিসা

মাওলানা মো. আলী মোর্ত্তজা

শিয়া মাযহাবের আকিদা অনুযায়ী পবিত্র হজ্ব পালন করতে যে সকল আমল করা ওয়াজিব তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে তাওয়াফে নিসা। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে ইরশাদ করছেন:0750

অতঃপর তারা যেন তাদের দৈহিক অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানৎ পূর্ণ করে আর প্রাচীন গৃহের (কা’বা) তাওয়াফ করে। (সূরা হাজ্ব-২৯)। ইমাম রেজা(আ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এই আয়াতে ওয়াজিব তাওয়াফ বলতে তাওয়াফে নিসাকে বোঝানো হয়েছে। (ফুরুয়ে কাফী ৪র্থ খন্ড, পৃ: ৫০২)

অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, পুরুষ যতক্ষণ পর্যন্ত তাওয়াফে নিসা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। অনুরূপভাবে নারী যতক্ষণ পর্যন্ত তাওয়াফে নিসা না করবে স্বামীর সাতে সহবাস করতে পারবে না। অর্থাৎ তাওয়াফে নিসা না করা পর্যন্ত নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই সহবাস করা হারাম। (বিহারুল আনওয়ার ৯৬তম খন্ড, পৃ: ২০৪)

কাজেই হাজী যতক্ষণ পর্যন্ত তাওয়াফে নিসা না করবে এবং তাওয়াফে নিসার দুই রাকাত নামাজ আদায় না করবে সে ইহরাম থেকে বের হতে পারবে না এবং মোহরেম অবস্থায় থেকে যাবে। আর মোহরেম অবস্থায় যে সকল কাজ তার উপর হারাম ছিল সবই তার উপর হারাম থেকে যাবে। (বিহারুল আনওয়ার ৯৬তম খন্ড, পৃ: ২১৩, ফুরুয়ে কাফী ৪র্থ খন্ড, পৃ: ৫০৩)

তাওয়াফে নিসার গুরুত্ব এতটাই বেশী যে, যে ব্যক্তি তাওয়াফে নিসা না করে দেশে ফিরে এসেছিল তার সম্পর্কে ইমাম জাফর সাদিকের (আ.) কাছে প্রশ্ন করলাম, যতক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কেউ তার জন্য তাওয়াফে নিসা পালন না করবে তার স্ত্রী তার জন্য হালাল হবে না। আর তার পক্ষ থেকে তাওয়াফে নিসা পালন না করার পূর্বেই যদি সে মারা যায় তাহলে তার প্রতিনিধি অবশ্যই তার পক্ষ থেকে তাওয়াফে নিসা পালন করবে। (ফুরুয়ে কাফী ৪র্থ খন্ড, পৃ: ৫০৩)

রাবি বলেন, আমি ইমাম মুসা কাজিমের কাছে প্রশ্ন করলাম, সংযমি সাধূ এবং বয়বৃদ্ধদের জন্যও কি তাওয়াফে নিসা ওয়াজিব? ইমাম উত্তরে বললেন: সবার জন্য তাওয়াফে নিসা পালন করা ওয়াজিব। (ফুরুয়ে কাফী ৪র্থ খন্ড, পৃ: ৫০৩)

কিন্তু আহলে সুন্নত তাওয়াফে নিসা পালন করে না এবং এর পরিবর্তে তারা বিদায় তাওয়াফ পালন করে থাকেন। (ফুরুয়ে কাফী ৪র্থ খন্ড, পৃ: ৫০৩)। কিছু ফকীহ যেমন শেইখ সাদুক এবং শেইখ তুসি বলেন, যদি কেউ তাওয়াফে নিসা বাদ দিয়ে থাকে এবং বিদায় তাওয়াফ করে থাকে তাহলে তার এই তাওয়াফ, তাওয়াফে নিসা হিসাবে গ্রহণ করা হবে। (মানলা ইয়াহযারুহুল ফাকিহ ২য় খন্ড, পৃ: ২৪৩)

অন্য একটি হাদিসে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: মহান আল্লাহ যদি তাওয়াফে নিসার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপর দয়া না করতেন তাহলে যারাই হজ্ব থেকে ফিরে আসত তাদের স্ত্রী তাদের উপর হারাম হয়ে যেত। (মানলা ইয়াহযারুহুল ফাকিহ ২য় খন্ড, পৃ: ২৪৩)####

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More