হুজ্জাতুল ইসলাম মুহাম্মাদ রেজা সাবুহি বলেন, ইসলামধর্মে মানুষকে সম্মানিত করা হয়েছে এবং ইমাম মাহদী মানুষকে তাদের প্রকৃত মর্যাদা দান করবেন।
মানুষের দুই ধরনের মর্যাদা রয়েছে; একটি হচ্ছে তার নিজস্ব মর্যাদা যে মর্যাদা কোন অন্যায়ে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য বজায় থাকবে। আরেকটি মর্যাদা হচ্ছে অর্জিত মর্যাদা।
একদা রাসূল(সা.) বসেছিলেন, একজন ইহুদির লাশ তার সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাসূল(সা.) উঠে দাঁড়িয়ে জানাজার সাথে কয়েক কদম হাঁটলেন। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল(সা.) এলোক তো ইহুদি ছিল। রাসূল(সা.) বললেন: ইহুদি হোক মানুষ তো। কেননা প্রতিটি মানুষের মানুষ হিসাবে একটা মর্যাদা রয়েছে, চাই সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।
আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলীও(আ.) মালেক আশতারকে লেখা চিঠিতে বলেছিলেন: মানুষ দুই ধরণের হয়; সে তোমার দ্বীনি ভাই অথবা তোমার মতই একজন মানুষ। সুতরাং সব মানুষের সাথে ভাল আচরণ কর এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখ।
ইমাম মাহদীর রাষ্ট্রেও মানুষ তা প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান ফিরে পাবে। যাদের মধ্যে তাদের স্বত্ত¡াগত মর্যাদা বিদ্যমান থাকবে তারা ইমাম মাহদীর রাষ্ট্রে সম্মানিত হবে।
ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন: ইমাম, সহধর্মি, সহপাঠি, দয়ালু পিতা, আপন ভাই, সন্তানদের প্রতি মমতাময়ী মাতা এবং কঠিন মুহুর্তে মানুষের আশ্রয়স্থল।
হ্যাঁ তিনি সবার সাথে এত ঘনিষ্ট ও এত বেশী নিকটবর্তী যে, সকলেই তাকে নিজেদের আশ্রয়স্থল মনে করবে।
রাসূল (সা.) ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে বলেছেন: তার উম্মত তার কাছে আশ্রয় নিবে যেভাবে মৌমাছিরা রানী মাছির কাছে আশ্রয় নেয়।
তিনি জননেতার উত্তম দৃষ্টান্ত, তিনি তাদের মধ্যে তাদের মতই জীবনযাপন করবেন। এ কারণেই তিনি তাদের সমস্যাকে সহজেই উপলব্ধি করবেন এবং তার প্রতিকারও তিনি জানেন। তিনি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। এমতাবস্থায় কেনইবা উম্মত তার পাশে নিরাপত্তা ও শান্তি অনুভব করবে না এবং কোন কারণে তাকে ছেড়ে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে?
414
