সহীহ সিত্তার আলোকে আহলে বাইত (আ.)

by Shihab Iqbal

. আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, মহানবী (সা.) আলীকে বলেছেন: আমিই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবো, [এরপর] হাসান (.), হোসাইন (.) ফাতিমা (.) জান্নাতে প্রবেশ করবে…. (সুনানে তিরমিযি)
. বারাআ ইবনে আজিব বলেন: আলী (.), ফাতিমা (.), হাসান (.) হোসাইন (.) একদিন মহানবী (সা.)-এর দরজায় আসলেন। এরপর মহানবী (সা.) তাঁর চাদরসহ উঠে দাঁড়ালেন এবং তা দিয়ে তাদেরকে ঢেকে দিলেন; এরপর বললেন: হে আল্লাহ, এরাই আমার আহলে বাইত। (শাওয়াহিদুত তানযিল)
. রাসুল (সা.) বলেন: আল্লাহ যাকে আহলে বাইতের মারিফত [পরিচিতি] ভালবাসা দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, মহান আল্লাহ তার জন্য কল্যাণের সবটুকুই একত্র করেছেন। (বাশারাতুল মুস্তাফা)
. রাসুল (সা.) বলেন: তোমাদের মাঝে আমার আহলে বাইতের উদাহরণ হলো নূহের (.) নৌকার মতোএতে যে আরোহন করলো সে রক্ষা পেলো, আর যে থেকে পেছনে পড়ে থাকলো সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হলো। (উয়ুনে আখবার আর রিযা)
. রাসুল (সা.) বলেন: তোমাদের মাঝে আমার আহলে বাইতের উদাহরণ হলো ইসরাইলের সন্তানদের মাঝেবাবে হিত্তাহ্’-[ক্ষমার দরজার] মতো। যে এটি দিয়ে প্রবেশ করবে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। (সাওয়ায়িক্ব আল মুহরিক্বাহ্)
. ইমাম আলী (.) বলেন: আমরাই হলামবাবে হিত্তাহ্আর তা হলোবাবে সালাম’ [নিরাপত্তার দরজা] – যে এটি দিয়ে প্রবেশ করবে সে রক্ষা পাবে এবং যে এটি দিয়ে পাশ কাটাবে সে ধ্বংস হবে। (গুরারুল হিকাম)
. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: আমার আহলে বাইতের অবস্থানকে দেহের সাথে মাথা এবং মাথার সাথে দুটো চোখের মতো গণ্য কর; কারণ দেহ পথ পাবে না মাথা ছাড়া এবং মাথা পথপ্রাপ্ত হবে না দুটো চোখ ছাড়া। (কাশফুল গুম্মাহ)
. রাসুল (সা.) বলেন: যে ইমামকে [জানা] ছাড়া মারা যায়, সে মারা যায় জাহিলিয়্যাতের [ইসলামপূর্ব অজ্ঞতার যুগে] মৃত্যুর মতো।
. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: হাউজে কাউসারে যারা প্রথম আমার সাথে যোগ দিবে তারা হলো আমার আহলে বাইত এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা আমাকে ভালবাসে। (কানযুল উম্মাল)
১০. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: জান্নাতের কেন্দ্র হবে আমার জন্য আমার আহলে বাইতের জন্য। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)
১১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: আমি নবীদের প্রধান এবং আলী ইবনে আবি তালিব হলো উত্তরসূরীদের [ওয়াসীদের] প্রধান। আমার পর আমার উত্তরসূরীদের সংখ্যা বারোযাদের প্রথম জন আলী ইবনে আবি তালিব (.) এবং তাদের শেষ জনআল কায়েম’ (.) (ফারাইদুস সিমতাইন)
১২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: আমার পরে ইমাম হবে বারো জন, এদের মধ্যে নয় জন হবে হোসাইনের (.) বংশ [ওরশ] থেকে এবং তাদের নবম জন হলোক্বায়েম’ [ইমাম মাহদী (.)] সুসংবাদ তাদের জন্য যারা তাদেরকে ভালবাসবে এবং দূর্ভোগ তাদের যারা তাদের সাথে শত্রæতা করবে। (কিফায়াতুল আসার)
১৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: শুধু অপবিত্র [অবৈধ] জন্মের সন্তানরাই আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (আল ফাক্বিহ্)
১৪. ইমাম আলী (.) বলেন: আমাদের সাথে শত্রæতা পোষণকারীদের জন্য আছে আল্লাহর প্রবল ক্রোধ। (তুহাফাতুল উকুল )
১৫. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: জেনে রাখো, যে ব্যাক্তি আলে মুহাম্মাদের (সা.) প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, কিয়ামতের দিন তাকে অবস্থায় উঠানো হবে যে তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে: আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। (মিয়াতে মানাক্বাবাহ্)
১৬. আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত: নিশ্চয়ই আমরা মুনাফিক্বদের চিনতামআমরা [মদীনার] আনসার গোষ্ঠি তা চিহ্নিত করতাম আলী ইবনে আবি তালিব (.)-এর প্রতি ঘৃণা থেকে। (সুনানে তিরমিযি)
১৭. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যদি কারো মাঝে তিনটি জিনিস থাকে তাহলে সে আমার থেকে না, আর না আমি তার থেকে: আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা, আমার আহলে বাইতের প্রতি অসন্তুষ্টি এবং ঈমান শুধু মুখ দিয়ে বলা। (তারিখে দামিশক্ব) (সূত্র: ইন্টারনেট)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔