রাহবার আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী’র থেকে নতুন ইস্তিফতাসমূহ
সামর্থ্য সম্পর্কে :
প্রশ্ন-১: কাফেলায় নিযুক্ত সেবক, চিকিৎসকসহ অন্যান্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে মীকাতে উপস্থিত হয়েছে তারা কি সামর্থ্যবান বলে গণ্য হবে এবং তাদেরও কি হজ্জ পালন করতে হবে?
উত্তরঃ যদি হজ্বের আমলসমূহ পালন করতে গেলে তাদের প্রাপ্ত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয় এবং হজ্ব থেকে প্রত্যাবর্তনের পর যদি তার উপযুক্ত জীবন নির্বাহের উপকরণাদি হাতে থাকে তাহলে সে সামর্থ্যবান।
প্রশ্ন-২ : যে সকল ব্যক্তি কোমের হাওয়া ইলমিয়্যাহ’র শাহরিয়া (মাসিক শিক্ষাভাতা) দ্বারা জীবন নির্বাহ করে থাকে তারা কি ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সামর্থ্যবান করতে পারে এবং এই ঋণ সে তার শাহরিয়া থেকে পরিশোধ করবে? এই হজ্ব কি তার ফরজ হজ্বের স্থলে যথেষ্ট হবে?
উত্তর: ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সামর্থ্য অর্জিত হয় না।
প্রশ্ন-৩ঃ যে ব্যক্তি আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামর্থ্যবান ছিল এবং হজ্বের জন্য নাম নিবন্ধন করেছে। কিন্তু চলতি বছরে যখন তাকে হজ্বে পাঠানোর সময় এসেছে, হজ্বের উকিৎসা কর্মকর্তা তাকে রোগী কিম্বা বয়োঃবৃদ্ধ হওয়ার কারণে হজ্বে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে নি।
ক. সে কি এখনো সামর্থ্যবান রয়েছে এবং হজ্ব তার ওপরে ওয়াজিব?
খ. যতক্ষণ সে জীবিত আছে, সে কি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে?
উত্তর: ক. সামর্থ্যবান নয়
খ. প্রতিনিধি নিয়োগ করা ওয়াজিব নয়।
প্রশ্ন-৪: যেসব খাদেম হজ্ব কাফেলার সাথে হজ্বে গমন করে তাদের অধিকাংশই মের্থ্যবান নয় এবং হজ্বের সৌভাগ্য লাভ করে থাকে। এরূপ লোকেরা প্রথম সফরে ফরজ হজ্বের নিয়াত করে থাকে। এসব লোকের এ হজ্ব যা কখনো কখনো একাধিকবার হয়ে থাকে, এটা কি তাদের সামর্থের প্রশ্নে যথেষ্ট হয় নাকি যখনই তারা সামর্থ্যবান হবে পুনরায় তাদের হজ্ব পালন করতে হবে?
উত্তরঃ যদি সামর্থ্যের শর্তাবলীর অধিকারী থাকে, এমনকি যদি মীকাতে পৌছার পরে উত্তর অর্জন করে থাকে তাহলে ফরজ হজ্বের ছলে যথেষ্ট হবে। নতুবা যখন সামর্থ্যবান হবে তখন ফরজ হজ্ব পালন করবে।
*প্রশ্ন-৫ : আমি ১৯৮৫ সালে যেহেতু মক্কায় যাওয়ার সামর্থ্যের অধিকারী ছিলাম, একারণে নাম নিবন্ধন করেছিলাম। কিন্তু লটারিতে নাম না আসায় এ সফর আমার ভাগ্যে হয়নি। বর্তমানে আর্থিক দিক থেকে আমি সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছি এমতাবস্থায়, আমি কি হজ্বের থেকে দায়মুক্ত থাকবো নাকি থাকবো না?
উত্তরঃ যদি পূর্বে যখন হজ্বের যাওয়ার জন্য আর্থিক সক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিন্তু রাস্তা আপনার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। আর বর্তমানে আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তাহলে আপনার ওপরে হজ্বের দায় স্থির হয় নি এবং আপনার ওপরে হজ্ব ওয়াজিব নয়। যদি না আল্লাহ চাহেন তো ভবিষ্যতে হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলীর অধিকারী হোন।
প্রশ্ন-৬ : আমি পাঁচ বছর আগে বিবাহ করেছি এবং আমার বিবাহের দেনমোহর ছিল পনের লক্ষ তুমান (প্রায় ২লক্ষ টাকা) আমার জন্য কি আমার স্বামীর কাছে টাকা। চাওয়া এবং হজ্বে যাওয়া ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয়? আর আমার স্বামীর কাছে যদি টাকা না থাকে তাহলে কি আমার ওপর হজ্ব ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয়, অথব্য যদি আমার স্বামীর কাছে টাকা থাকে কিন্তু আমি আপাতত তা না চাই তাহলে কি আমার
ওপর হজ্ব ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয়?
উত্তর : আপনার স্বামী যদি মোহরানা পরিশোধ করতে সক্ষম থাকে তাহলে আপনার তা চাওয়া উচিত। আর যদি সামর্থ্য অর্জনের অন্যান্য শর্ত বজায় থাকে তাহলে হজ্ব ওয়াজিব।
প্রশ্ন-৭ : আমি বর্তমান অবস্থায় যখন বাড়ি ক্রয় করতে সক্ষম নই, এমতাবস্থায় হজ্ব কি আমার ওপর ওয়াজিব হবে? আর যদি ওয়াজিব হয় তাহলে যে কোনো অবস্থায় হজ্বে যাওয়ার পদক্ষেপ প্রহণ করা কি ওয়াজিব?
উত্তর: যদি আপনার মালিকানাভুক্ত বাড়ির প্রয়োজন থাকে তাহলে আপনি তখনই সামর্থবান হবেন যখন হয় মালিকানাভুক্ত বাড়ির অধিকারী থাকবেন অথবা তদপরিমাণ টাকার অধিকারী থাকবেন।
প্রশ্ন-৮ : আল্লাহর তৌফিকে আমি মুবাল্লিগ হিসেবে হজ্বে যেতে মনস্থ করেছি। আমি আপনার অনুমতিক্রমে হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ)-এর তাকলীদে বহাল থেকেছি। এমতাবস্থায় আমি কি ফরজ হজ্বের শর্তাবলীর মাসআলা যেমন (রুজু ইলাল কেফায়াহ) মাসআলায় আপনার, ফতোয়ায় রুজু করতে পারবো? আর আপনি কি এটাকে শর্ত মনে করেন না?
উত্তর: মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য সে যে মাসআলার ক্ষেত্রেই চায় না কেন, ইমাম খোমেইনী (রহ) এর ফতোয়া থেকে উদুল তথা প্রত্যাবর্তন করতে বাধা নেই। আর যেসব হজ্বে ‘সামর্থ্য’ থাকার শর্ত রয়েছে সেক্ষেত্রে “রুজু ইলাল কেফায়াত” এর শর্ত বিদ্যমান। কিন্তু তুল্লাব বা দীনি ছাত্রবৃন্দের জন্য যারা হাওয়ায়ে ইলমিয়্যাহ থেকে শাহরিয়া পেয়ে থাকেন তাদের জন্য হাওযার শাহরিয়া দ্বারা ‘রুজু ইলাল কেফায়াহ শর্তটি পূরণ হয়ে যায়।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
