হজ্ব

রাহবার আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী'র থেকে নতুন ইস্তিফতাসমূহ

by Syed Yesin Mehedi

ইহরাম অবস্থায় হারামসমূহঃ

প্রশ্ন-৩৪: ইহরাম বাঁধা পুরুষের জন্য সেলাইকৃত স্যান্ডেল পরার হুকুম কী?

উত্তর: ইহরামকারীর জন্য সেলাইকৃত পোশাক পরিধান করা জায়েজ নয়। আর যদি পোশাক বলে গণ্য না হয় তাহলে অসুবিধা নেই। তবে শর্ত হলো পায়ের উপরিভাগের সম্পূর্ণটা আবৃত করে না ফেলে।

প্রশ্ন-৩৫: যে হাত ঘড়ির বেল্ট সেলাই করা তা হাতে পরার হুকুম কী?

উত্তর : যেমনটা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জিনিস পোশাক বলে গণ্য নয় তা সেলাইকৃত হলেও পরতে অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন-৩৬: নারীদের ইহরামের পোশাকের শর্ত কী কী?

উত্তর: নারীরা তাদের নিজেদের পোশাকেই ইহরাম বাঁধতে পারবে। তাদের ইহরামের পোশাকের বিশেষ কোনো শর্ত নেই।

প্রশ্ন-৩৭: ইহরামকারী ব্যক্তি কি রাতের বেলায় পথ চলার সময় ছাদের নিচে যেতে পারে, যেমন মীকাত থেকে মক্কা পর্যন্ত পথকে ছাদবিশিষ্ট গাড়িতে চড়ে গেল?

উত্তর: রাতের বেলায় ছায়ায় যেতে আপত্তি নেই। তবে যদি ঠা-া কিম্বা বৃষ্টি থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে অধিকতর এহতিয়াত হলে তা পরিহার করা।

প্রশ্ন-৩৮: ছায়ায় যাওয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি কি কেবল চলার সময়ের জন্য নির্দিষ্ট নাকি যেখানে অবস্থান (মঞ্জিল) গ্রহণ করেছে এবং বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার জন্য অবতরণ করেছে ইত্যাদির বেলায়ও ছায়ায় যাওয়া যাবে না?

উত্তর: মঞ্জিলে (অবস্থানস্থলে) ছায়ায় যেতে নিষেধ নেই যদিও পথিমধ্যে বিশ্রাম খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি কারণে হয়।

প্রশ্ন-৩৯ : হজ্বকারী মক্কায় অবস্থান গ্রহণ করার পর হেরেমে যাওয়ার সময় কিম্বা অন্যত্র কি ছায়ায় যেতে পারবে নাকি পারবে না?

উত্তর: মক্কায় প্রবেশ করার পর ছায়ায় যেতে নিষেধ নেই। যতই মসজিদুল হারাম কিম্বা মক্কা শহরের ভেতরে কোনো জায়গায় যেতে চায়।

প্রশ্ন-৪০ : ইহরামকারী যে দিনগুলোতে মিনায় থাকে এবং এখনো হালক (মাথা মুণ্ডন) করেনি, সে কি মসজিদে খীফ-এ যাওয়ার সময় এবং কঙ্কর নিচ্ছেদ (সাथा ক্ষুরবানীর স্থানে যাওয়ার জন্য পথিমধ্যে ছায়ায় যেতে পারবে না কি পারবে না?

উত্তর: অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন-৪১ : হজ্বকারী মীকাতে ইহরাম বাঁধার পর বর্তমান মক্কানগরীর (সম্প্রসারিত নগর) মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই কি ছায়ায় যাওয়ার বাধা দূর হয়ে যাবে নাকি তার অবস্থানস্থলে প্রবেশ করতে হবে এবং তারপর থেকে ছায়ায় যেতে অসুবিধা থাকবে না?

উত্তর : মক্কানগরীতে প্রবেশ করার পর আর বাধা থাকবে না। সেটা সম্প্রসারিত নতুন অংশ হোক না কেন।

প্রশ্ন-৪২: যে সব ব্যক্তি মক্কার উপকণ্ঠে অবস্থিত মসজিদে তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধে তারা কি দিনের বেলায় হেরেমে যাওয়ার জন্য ছাদবিশিষ্ট গাড়িতে যেতে পারবে?

উত্তর: মসজিদে তানঈম মক্কার ভেতরে অবস্থিত এবং ছাদবিশিষ্ট গাড়িতে যেতে

পারবে যদি না মক্কা থেকে বের হয়ে যায়।

প্রশ্ন-৪৩: শীত বেশি হওয়ার কারণে কি ইহরামকারী ব্যক্তিরা অন্য কোনো পোশাক যেমন কম্বল কিম্বা অন্য কোনো কাপড় ব্যবহার করতে পারবে?

উত্তর: যদি সেলাইকৃত কিম্বা সেলাইকৃতের সদৃশ না হয় তাহলে অসুবিধা নেই। তবে পুরুষরা তাদের মাথা এবং নারীরা তাদের মুখমণ্ডল আবৃত করতে পারবে না।

প্রশ্ন-৪৪: আপনি ইতঃপূর্বে তামাত্তু ওমরাহ কিম্বা হজ্বের জন্যে রাত্রিকালে মক্কায় যেতে ছাদবিশিষ্ট গাড়িতে আরোহণ করা জায়েজ গণ্য করেছিলেন এবং বলেছিলেন এহতিয়াত হলো তা পরিহার করা। এই এহতিয়াত কি ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব?

উত্তর: মুস্তাহাব।

প্রশ্ন-৪৫: হাজীরা মুযদালিফা থেকে মিনার দিকে যাওয়ার সময় গাড়ির ছাদের ছায়া এড়াবার উদ্দেশ্যে গাড়ির ছাদে আরোহণ করে থাকে। মিনার সীমানায় পৌছা মাত্র কি গাড়ির ছাদের ছায়ায় যাওয়া জায়েজ হয় নাকি ঐ অবস্থাতেই (উকুফ) অবস্থানস্থল পর্যন্ত যাওয়া আবশ্যক?

উত্তর: মিনায় পৌঁছাবার সাথে সাথে গাড়ির ছাদের ছায়াতলে যাওয়া বা অনুরূপ কাজ জায়েজ হয়। যদিও তাঁবুতে পৌঁছা পর্যন্ত ছায়াতলে যাওয়া থেকে দূরে থাকা অধিকতর এহতিয়াতের কাজ।

প্রশ্ন-৪৬ : আমি পা কাটার কারণে কৃত্রিম পা ব্যবহার করি। উক্ত কৃত্রিম পা – ব্যবহারের জন্য আমাকে ৫/৬ টি মোজা এবং একটি পুরু কাপড় পরতে হয় যা সেলাই করা। এ অবস্থায় আমাকে কি ইহরাম করার জন্য সেলাইকৃত কাপড় থেকে বিরত

থাকতে হবে? সেক্ষেত্রে লাঠিতে ভর করে আমলসমূহ সম্পন্ন করা আমার জন্যে দুরূহ থাকা আর যদি নিরূপায় হয়ে তা পরিধান করি তবে কি কাফফারা প্রদান করতে হবে?

উত্তর : যদি নিরূপায় হয়ে পরিধান করেন তাহলে হারাম নয়। তবে কাফফারা প্রদান করতে হবে। আর এর কাফফারার পরিমাণ সম্পর্কে রেসালা গ্রন্থসমূহে হজ্বের মাসআলায় বর্ণিত রয়েছে।

প্রশ্ন-৪৭ঃ ইহরাম অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কিম্বা ভুলবশত অথবা অজ্ঞতাবশত হস্তমৈথুন করার কাফ্ফারা কী অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন।

উত্তর : যদি ভুলবশত কিম্বা হুকুম না জানার কারণে হয় তাহলে কাফফারা নেই এবং তাকে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আর যদি জ্ঞাতসারে এবং ইচ্ছাকৃত হয় তাহলে এর কাফফারা হলো একটি উট। আর যদি উট না দিতে পারে তাহলে দুম্বা কুরবানী করলে যথেষ্ট হবে। এছাড়াও যদি হস্তমৈথুন এমন কাজের মাধ্যমে হয় যা সে নিজে নিজে করে এবং মুযদালিফার পূর্বে ঘটে তাহলে ওয়াজিব হলো হজ্বকে পূর্ণ করবে এবং পরবর্তী বছরে তা পুনরায় পালন করবে। আর যদি হস্তমৈথুন তার স্ত্রীর মাধ্যমে ঘটায় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো এ নিয়মেই আমল করবে।

প্রশ্ন-৪৮ : ইহরাম অবস্থায় তেল মাখার হুকুম কী? এর কী কাফফারা রয়েছে? এর কাফফারা কী?

উত্তর: ইহরাম অবস্থায় সৌন্দর্যের জন্য কিম্বা শরীরের অঙ্গের কোমলতা ইত্যাদির জন্যে শরীর ও মাথায় চুলে তেলমাখা জায়েজ নয়। তবে এতে কাফফারা নেই। যদি না তা সুগন্ধী করে থাকে যেমন সুগন্ধী ক্রিমসমূহ ইত্যাদি। সেক্ষেত্রে এহতিয়াত হলো একটি দুম্বা জবেহ করতে হবে। যদিও এক্ষেত্রেও ওয়াজিব না হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব নয়।

প্রশ্ন-৪৯: ইহরাম অবস্থায় সৌন্দর্য চর্চা করার হুকুম কি? আর এর কাফফারা কী?

উত্তর: নারীদের অলঙ্কার পরিধান করা এবং নারী ও পুরুষের জন্য সৌন্দর্য চর্চা হিসেবে সুরমা লাগানো, আংটি পরা ও মেহেদী লাগানো হারাম। তবে কাফফারা নেই। আর এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যদি সৌন্দর্য বলে গণ্য হয় তাহলে এমনকি সৌন্দর্য চর্চার ইচ্ছে ছাড়াও তা থেকে দূরে থাকা উচিত। আর এটাও অসম্ভব নয় যে, যা কিছুই সৌন্দর্য বলে পরিগণিত হয় এবং বিশেষ করে যদি তা দ্বারা সৌন্দর্য চর্চার উদ্দেশ্যও থাকে তাহলে ইহরাম অবস্থায় তা থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব। সুতরাং এ ব্যাপারে এহতিয়াত বা সতর্কতা বর্জন করা যাবে না। উপরোক্ত বক্তব্য থেকে কেবল ব্যতিক্রম হয় মুস্তাহাব নিয়্যতে আঙ্গুলে আংটি পরা এবং নারীর জন্য সেই অলঙ্কার পরিধান করা যা সে নিজের বাড়িতে পরতো। তবে শর্ত হলো সেটা যেন এমনকি তার স্বামীকেও প্রদর্শন না করে।

প্রশ্ন-৫০ : ইহরামকারী নারীদের জন্য মুখমন্ডল আবৃত করা কি জায়েজ? আর জায়েজ না হলে এর কাফফারা কী?

উত্তর : ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য মুখমণ্ডল আবৃত করা জায়েজ নয়। তবে কাফফারা নেই।

প্রশ্ন-৫১ : শরীর থেকে রক্ত বের করার কাফফারা কি?

উত্তর : কাফফারা নেই, যদিও একটি দুম্বা কুরবানী করা হলো এহতিয়াতের সাপেক্ষে।

প্রশ্ন-৫২: ইহরামকারী কি মিনা ও মক্কার মধ্যবর্তী পথ অতিক্রম করার সময় সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে চলতে পাররে যখন বিকল্প পথও রয়েছে যা একটু দূরে হয়?

উত্তর: আপত্তি নেই।

প্রশ্ন-৫৩: পায়ের উপরিভাগ আবৃত করার কাফফারা কী?

উত্তর: কাফফারা নেই। আর জুতো, মোজা ইত্যাদি দিয়ে ছাড়া সার্বিকভাবে পায়ের উপরিভাগ আবৃত করা হারাম হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

প্রশ্ন-৫৪: কখনো কখনো মক্কা শহরে পঙ্গপালের পরিমাণ এত বেশি যে, চলার সময় সে গুলোর ওপর পা রাখতে হয়। এহেন সময়ে কি সতর্কতার দরকার আছে? যদি দরকার থাকে আর সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং কোনো পঙ্গপাল মারা যায় তাহলে এর কাফফারা কী?

উত্তর: যদি পঙ্গপাল পদদলিত করা কেউ থেকে বিরত থাকতে না পারে তাহলে তার কোনো দায় নেই।

প্রশ্ন-৫৫: শরীর কিম্বা সিরিঞ্জ থেকে রক্ত নেয়া কি হারাম রক্ত নিঃসরণের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ইহরাম অবস্থায় তা থেকে বিরত থাকা কি আবশ্যক নাকি

আবশ্যক নয়?

উত্তর: ইহরামকারীর জন্য যে কোনো উপায়ে শরীর থেকে রক্ত বের করা হারাম। যদি না কোনো জরুরতা থাকে।

(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔