তাওয়াফ
প্রশ্ন-৫৬: মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য মুস্তাহাব গোসল ছাড়া তাওয়াফের জন্য অন্য কোনো মুস্তাহাব গোসল কি রয়েছে? আর যদি এরূপ কোনো মুস্তাহাব গোসল থাকে উভয় গোসলের জন্য একটি নিয়্যত কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: তাওয়াফের জন্যেও বিশেষ মুস্তাহাব গোসলের কথা বলা হয়েছে। তবে উভয় গোসল এক নিয়্যতের মাধ্যমে করতে পারবেন।প্রশ্ন-৫৭: এক ব্যক্তি তাওয়াফের শেষ পাকে এসে তা ছেড়ে দিল এবং ক্ষণিক বিশ্রাম গ্রহণ করে যখন পুনরায় তা পূর্ণ করার জন্য প্রত্যাবর্তন করলো তখন সন্দেহ করে যে পঞ্চম পাক ছিল নাকি ষষ্ঠ পাক। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: তাওয়াফের ৫ ও ৬ পাকের মধ্যে সন্দেহ যে রূপেই হোক না কেন তা বাতিলের কারণ হয়।
প্রশ্ন-৫৮: এক ব্যক্তি তাওয়াফের একটি পাকে ভিড়ের চাপে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় কয়েক ধাপ পথ চলেছে এবং ঐভাবেই অব্যাহত রেখে তাওয়াফকে সম্পূর্ণ করেছে। এখন যখন সে মাসআলা শিখে নিয়েছে কিন্তু সে অংশটুকুর স্থানও তার জানা নেই, তদ্রূপ সে পাকটিও তার জানা নেই। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি তাওয়াফের উদ্দেশ্যে করে থাকে তাহলে অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৫৯: যদি তাওয়াফের মধ্যে না জানে যে কয় পাক সম্পন্ন করেছে তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি তাওয়াফের মধ্যে না জানে যে কয় পাক সম্পন্ন করেছে তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল এবং তাকে পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
প্রশ্ন-৬০ : তাওয়াফের বৃত্ত সীমার পরিমাপ কতটুকু? আর ভিড় থাকা এবং না থাকার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য রয়েছে?
উত্তর: তাওয়াফের বৃত্তসীমার কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। বরং মসজিদুল হারামের যে জায়গাতে তাওয়াফ করলে কাবা ঘরের তাওয়াফ বলে প্রযোজ্য হবে সেটাই যথেষ্ট হবে। তবে হ্যাঁ, মুস্তাহাব হলো যদি ভিড় ও জরুরতা না থাকে তাহলে কাবা ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝ দিয়ে তাওয়াফ করা।
প্রশ্ন-৬১: তাওয়াফ অবস্থায় ছোট বালিকার পোশাক কতটুকু হতে হবে?
উত্তর: অধিকতর এহতিয়াত হলো নারীদের জন্য প্রচলিত পরিমাণে পোশাক হতে। হবে।
প্রশ্ন-৬২: মুস্তাহাব তাওয়াফও কি ঐ সীমানার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে?
উত্তর: তাওয়াফের উক্ত বৃত্তসীমার ক্ষেত্রে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব তাওয়াফের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই
প্রশ্ন-৬৩: ভিড়ের সময় যদি নারীরা ২৬.৫ হাত সীমানার মধ্যে তাওয়াফ সম্পন্ন করতে চায় অথবা মকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায আদায় করতে চায় তাহলে না- মাহরাম পুরুষরা তাদের গায়ে ধাক্কা দেয়। এমতাবস্থায় কর্তব্য কী?
উত্তর: তাওয়াফ যে স্থানেই করুক যদি তা মসজিদুল হারামের মধ্যে কাবা ঘরের তাওয়াফ বলে গণ্য হয় আর তাওয়াফের নামায যে স্থানেই হোক যদি তা মুসজিদুল হারামের মধ্যে মকামের পেছনে নামায আদায় বলে গণ্য হয় তাহলেই যথেষ্ট হবে। এমনকি যদি তা সক্ষম থাকা অবস্থায়ও করে থাকে। যদিও অগ্রাধিকার এবং অধিকতর এহতিয়াত হলো নিকটবর্তী থেকে অধিকতর নিকটবর্তী স্থানকে মেনে চলা।
প্রশ্ন-৬৪ : কোনো কোনো যুদ্ধাহত ব্যক্তির জন্য তাওয়াফের বৃত্তসীমার মধ্যে তাওয়াফ করা কঠিন হয়ে যায়, তারা কি বৃত্তসীমার বাইরে তাওয়াফ করতে পারবে?
উত্তর: সমগ্র মসজিদুল হারামই তাওয়াফের বৃত্তসীমাভুক্ত। মসজিদের যে স্থানেই তাওয়াফ করুক তা সঠিক ও যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-৬৫: যদি তাওয়াফের সময় ছোট কিম্বা বড় নাপাকির কবলে পড়ে তাহলে তার হুকুম কী?
উত্তর: যদি তাওয়াফের মাঝে তার থেকে কোনো অপবিত্রতা ঘটে যায়, তা যদি চতুর্থ পাকের অর্ধেকে পৌঁছানোর আগে ঘটে থাকে তাহলে তাওয়াফ পরিত্যাগ করবে এবং ওযু করার পর তাওয়াফ প্রথম থেকে পুনঃ আদায় করবে। আর যদি চতুর্থ পাকের অর্ধেকের মধ্যে এবং চতুর্থ পাকের শেষাংশে থাকে তাহলে তাওয়াফকে বর্জন করবে। অতঃপর ওযু করে মা ফিয যিম্মাহ (অর্থাৎ স্কন্ধে যে দায় রয়েছে) নিয়্যতে একটি পূর্ণ তাওয়াফ করবে। আর যদি চতুর্থ পাক শেষ করার পরে ঘটে তাহলে তাওয়াফ বর্জন করবে এবং গোসলের পরে যদি চতুর্থ পাকের অর্ধেকের আগে ঘটে থাকে তাহলে তাওয়াফ বাতিল এবং সেটাকে পুরোপুরিভাবে পুনঃআদায় করতে হবে। আর যদি তার পরে ঘটে থাকে তাহলে মা ফিয যিম্মাহ (অর্থাৎ স্কন্ধে যে দায় রয়েছে) নিয়্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ তাওয়াফ সম্পন্ন করবে।
প্রশ্ন-৬৬: যদি তাওয়াফের সময় শরীর কিম্বা পোশাকের অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাসী হয় তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি পবিত্র কাপড় তার হাতের নাগালে থাকে তাহলে ওখানেই কাপড় বদলে নেবে এবং তাওয়াফ অব্যাহত রাখবে। এতে তার তাওয়াফ সঠিক হবে। আর যদি শরীর ও কাপড় ধোয়ার জন্য তাওয়াফ থেকে বের হওয়া ছাড়া উপায় না থাকে তাহলে অবিলম্বে তাওয়াফ বর্জন করবে এবং কাপড় কিম্বা শরীর পবিত্র করার পর যেখান থেকে তাওয়াফ ত্যাগ করেছে সেখান থেকেই পূর্ণ করবে।
প্রশ্ন-৬৭: তাওয়াফের মধ্যে অপবিত্র জিনিস বহন করার হুকুম কী?
উত্তর: অধিকতর এহতিয়াত হলো তাওয়াফ অবস্থায় অপবিত্র জিনিস বহন না করা। যদিও পোশাক ভিন্ন অন্য কিছুর ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে যখন সেটা রক্ত ভিন্ন অন্য কিছু দ্বারা অপবিত্র হয়ে থাকে।
প্রশ্ন-৬৮: যদি হজ্ব কিম্বা ওমরাহ’র আমলসমূহের পর বুঝতে পারে যে, আমলগুলো জানাবাত অবস্থায় সম্পাদন করেছে তাহলে হুকুম কী?
উত্তর : যেসব আমল পবিত্রতার সাথে সম্পন্ন হওয়ার শর্ত রয়েছে অর্থাৎ তাওয়াফ ও নামাযসমূহকে পুন: আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৬৯: এই যে বলা হয়, তাওয়াফ হাজারুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করে সেখানে এসে শেষ করতে হবে- একথার অর্থ কী?
উত্তর: তাওয়াফকে হাজারুল আসওয়াদ-এর সমান্তরাল স্থান থেকে আরম্ভ করে ঐ বরাবর এসে শেষ করতে হবে। হাজারুল আসওয়াদের প্রথম থেকে আরম্ভ করার দরকার নেই। বরং এর যে কোনো স্থান থেকেই তাওয়াফ আরম্ভ করুক যথেষ্ট হবে। তবে হ্যাঁ, যে স্থান থেকে আরম্ভ করবে সেখানেই শেষ করতে হবে। সতর্কতার বশে কিছু পরিমাণে বেশি করা যাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী হয় যে হাজারুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করেছে এবং আরম্ভ করার স্থানে এসে শেষ করেছে- এতে কোনো নিষেধ নেই।
প্রশ্ন-৭০ঃ যদি তাওয়াফের সময় হিজ্বরে ইসমাঈলের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: ওয়াজিব হলো ঐ যে পাকটি হিজ্বরে ইসমাঈলের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছে সেটা প্রথম থেকে অর্থাৎ হাজারুল আসওয়াদের সমান্তরাল স্থান থেকে পুনঃ আদায় করবে। আর যদি সম্পূর্ণ তাওয়াফকে ঐরূপে সম্পন্ন করে থাকে তাহলে তাহলে তাওয়াফ বাতিল এবং তা পুনঃ আদায় করবে।
প্রশ্ন-৭১: নারী যদি তাওয়াফের অবস্থায় চুল কিম্বা শরীরের অন্য অঙ্গাদিকে আবৃত না রাখে তাহলে হুকুম কী?
উত্তর: যদি জ্ঞাতসারে হয়ে থাকে তাহলে হারাম কাজ করেছে। কিন্তু তার তাওয়াফে ত্রুটি ঘটবে না।
প্রশ্ন-৭২: দ্বিতীয় তলায় তাওয়াফ ও দৌড়াবার স্থানের উপর তলায় সাঈ করলে কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: যদি ‘মা’ (সাঈ করার স্থান) দ্বিতীয় তলা যা বর্তমান সাফা ও মারওয়ার মাঝে রয়েছে, সেটা হয় এবং তার চেয়ে ওপরে না হয় তাহলে জায়েজ ও যথেষ্ট হবে। তাওয়াফের বেলায়ও মাটি থেকে কাবাঘরের ছাদ পর্যন্ত মধ্যবর্তী উচ্চতায় তাওয়াফ করলেও জায়েজ এবং যথেষ্ট হওয়া অসম্ভব নয়। যদিও তা সতর্কতার পরিপন্থী।
প্রশ্ন-৭৩: ওয়াজিব কিম্বা মুস্তাহাব তাওয়াফ ছেদ করা জায়েজ নাকি জায়েজ নয়?
উত্তর: জায়েজ। যদিও অধিকতর সতর্কতা হলো ওয়াজিব তাওয়াফে এমনভাবে ছেদ না করা যাতে সাধারণ বিচারে মুওয়ালাত তথা নিরবচ্ছিন্নতা বিনষ্ট হয়ে যায়।
প্রশ্ন-৭৪ : হজ্বকারী নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে যে যদি উদহারণস্বরূপ বেলা এগারটায় তাওয়াফ এবং সাঈ শুরু করে তাহলে তৃতীয় কিম্বা পঞ্চম পাকের সময় নামাজের জামাআত অনুষ্ঠিত হবে। ফলে তাওয়াফ ও সাঈ বন্ধ করতে হবে। এরূপ প্রেক্ষাপটে কি তাওয়াফ ও সাঈ শুরু করতে পারবে?
উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত ক্ষেত্রে সাঈ শুরু করতে পারবে।
প্রশ্ন-৭৫: যদি বাতান (তথা স্বদেশে) প্রত্যাবর্তন করার পর তাওয়াফের মধ্যে ত্রুটি ঘটার ব্যাপারে বুঝতে পারে তাহলে তার হুকুম কী?
উত্তর: ওয়াজিব হলো ঐ তাওয়াফকেই শুদ্ধ করা, এরূপে যে, হয় সে নিজে কিম্বা যদি অপারগ হয় তাহলে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘মা ফিয যিম্মাহ’ নিয়্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ তাওয়াফ সম্পন্ন করবে। আর তারপরে তাওয়াফের নামায পুনঃ আদায় করবে।
প্রশ্ন-৭৬: যে ব্যক্তি একাধিক ওমরাহ পালন করেছে কিম্বা হজ্বের আমলসমূহ পালন করেছে এবং তাওয়াফে নেসার পূর্বে ইহরাম বেঁধেছে, তার জন্য কি একটি তাওয়াফে নেসা যথেষ্ট হবে?
উত্তর: বাহ্যত তার জন্য ওয়াজিব হলো প্রত্যেকটি হজ্ব ও ওমরাহ’র জন্য পৃথকভাবে তাওয়াফে নেসা পালন করা। যদিও একটি তাওয়াফে নেসা দ্বারা হালাল হওয়ার বিষয়টিও অসম্ভব নয়।
প্রশ্ন-৭৭ঃ যাদের জন্য উকুফাইন (তথা দুই স্থানে অবস্থান করা) এর পূর্বে হজ্ব এবং তাওয়াফে নেসা সম্পন্ন করা জায়েজ রয়েছে, তাদের জন্য কি পরবর্তীতে এর শুদ্ধি করা ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয় যখন তাদের ওযর দূর হয়ে যাবে?
উত্তর: যেসব আমল পূর্বে সম্পাদন করা জায়েজ ছিল তা পুনঃ আদায় করার দরকার নেই। যদিও অধিকতর এহতিয়াত হল পুনঃ আদায় করা।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
