২১শে রমজান হযরত আলী (আ.)’র পবিত্র শাহাদাত উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট আয়োজিত এক শোক মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।
১৯শে রমজানে কুফায় মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ইবনে মুলজিমের তরবারির আঘাতে আহত হন এবং ২১শে রমজানে শাহাদাতবরণ করেন। ১৯ শে রমজান হতে ২১ শে রমজান পর্যন্ত কাসরে হোসাইনী ইমামবারগাহ’য় শাহাদাতের স্মরণে শোক মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী এবং সমাপনী রাতে হযরত আলী (আ.) এর পবিত্র শাহাদাত স্মরণে শোক মিছিল নগরীর আলতাপোল লেনস্থ কাসরে হোসাইনী ইমামবারগাহ হতে বের হয়। শোক মিছিলপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। তিনি বলেন, আল্লাহ যাঁকে এতো সম্মানে ভূষিত করলেন, তিনি যে সবসময় সত্যের ওপরই অটল থাকবেন, তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কালের ঘোলাজলে বিচক্ষণ মাছ শিকারীরা তাঁর ওপর যেসব রাজনৈতিক কুটচাল সাময়িক স্বার্থ চরিতার্থ করেছিল, তাদের কৃতকর্ম আজ অপ উপসর্গযোগে কলঙ্কিত। মুলজিমের পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম হযরত আলী (আ.)কে শাহাদাতের সুরা পান করিয়েছে। কিন্তু তাঁর শাহাদাত যে তাঁকে মৃত নয় বরং চিরঞ্জীব করে তুলেছে তাতে কী আজ আর কোন সন্দেহ আছে। পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠতম মৃত্যু হলো শাহাদাতের মৃত্যু। যাঁরা শহীদ হন তাঁরা মৃত্যুকে ভয় করেন না, বরং এটাই যে তাঁদের উপযুক্ত প্রাপ্তি তা জেনে স্বাভাবিক থাকেন। কারণ তাঁরা জানেন এই শাহাদাতের পথ বেয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ ত্বরান্বিত হবে। হযরত আলী (আ.) তাই তাঁর শাহাদাতের মুখেও জনমানুষের সৌভাগ্য ও কল্যাণ চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। ফজরের নামায আদায়রত হযরত আলী (আ.)’র মাথায় ইবনে মুলযাম যখন তার তরবারী বসিয়ে দিয়েছিল, তখন হযরত আলী (আ.) মুখ থেকে যে শব্দটি বেরিয়েছিল তা ছিল কাবার রবের শপথ, আমি সফলকাম হলাম।
আলোচনা শেষে একটি শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবারগাহতে এসে শেষ হয়। এ শোক মিছিলে খুলনা এলাকা থেকে শিয়া মুসলমান নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

