১। যদি কোনো পাগল ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠেন তাহলে তার জন্যে রমযান মাসের সেসব রোযার কাযা করা ওয়াজিব নয় যেসব দিনে তিনি পাগল বা অসুস্থ ছিলেন।
২। যদি কোনো কাফের [অমুসলিম] ব্যক্তি মুসলমান হন তাহলে তার জন্যে সেসব রোযার কাযা করা ওয়াজিব নয় যেসব দিনে তিনি কাফের ছিলেন। তবে কোনো মুসলমান যদি কাফের হয়ে যান এবং পুনরায় মুসলমান হন তাহলে তার জন্যে সেসব রোযার কাযা করা ওয়াজিব যেসব দিনে তিনি কাফের ছিলেন।
৩। নেশার কারণে যেসব রোযা নষ্ট হয়েছে তার কাযা করা ওয়াজিব-যদিও নেশাগ্রস্থ করার দ্রব্যটি চিকিৎসার জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কেউ যদি রোযার নিয়ত করে রোযা রাখা অবস্থায় মাতাল হয়ে যান এবং রোযা অবস্থাতেই তার মাতলামি কেটে যায় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে তাকে সেই রোযা সমাপ্ত করতে হবে এবং এর কাযাও করতে হবে। আর যদি মাতাল অবস্থাতেই রোযাসহ দিনটি শেষ হয়ে থাকে তাহলে তাকে কাযা করতে হবে।
৪। কেউ যদি কোনো কারণবশতঃ কিছুদিন রোযা না রেখে থাকেন এবং পরে সেই কারণটি কবে শেষ হয়েছিল তা নিয়ে সন্দেহ হয়, এমতাবস্থায় তার ধারণা অনুযায়ী যে কয়দিন তিনি রোযা রাখেননি সে কয়দিনেরই কাযা করতে হবে। যেমন- তিনি রমযানের পূর্বে সফরে বেরিয়েছিলেন অথচ তার মনে নেই যে, তিনি রমযানের পাঁচ তারিখে ফিরে এসেছিলেন, নাকি ছয় তারিখে, সেক্ষেত্রে তাকে কেবলমাত্র ৫ দিনের রোযার কাযা করতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি স্মরণ করতে না পারেন যে, কারণটি কোন্ দিন সৃষ্টি হয়েছিল তাহলে তিনি কম পরিমাণ রোযার কাযা করবেন। যেমন- কেউ যদি রমযানের শেষ দিনগুলিতে সফর করে রমযানের শেষে ফিরে আসেন অথচ তার স্মরণে নেই যে, তিনি রমযানের ২৫ তারিখে সফর করেছিলেন নাকি ২৬ তারিখে, সেক্ষেত্রে তাকে কম পরিমাণ অর্থাৎ ৫ দিনের রোযার কাযা করতে হবে।
৫। যদি কারও কাঁধে কয়েক রমযানের রোযার কাযা থেকে থাকে তাহলে তিনি প্রথমে যে কোনো রমযানের রোযার কাযা করতে পারেন এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে শেষ রমযানের রোযার কাযা করার সময় যদি সংকীর্ণ হয়, যেমন- শেষ রমযানের ৫দিনের রোযার কাযা তার কাঁধে ছিল এবং সামনের রমযান আসতে আর মাত্র ৫ দিন বাকী, তাহলে তাকে শেষ রমযানের রোযার কাযা করতে হবে।
৬। যদি কারও কাঁধে কয়েক রমযানের রোযার কাযা থেকে থাকে এবং তিনি নিয়তে নির্দিষ্ট করে না থাকেন যে, কোন্ রমযানের কাযা করছেন, তাহলে তা প্রথম রমযানের রোযার কাযা হিসেবে গণ্য হবে।
৭। কাউকে যদি ফওত হওয়া [ছুটে যাওয়া] রোযার কাযা করতে হয় এবং তা কাযা করার সময় যদি সংকীর্ণ না হয়, তাহলে তিনি যোহরের পূর্বে রোযা ভেঙ্গে দিতে পারেন।
৮। কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট রোযার কাযা করেন তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে যোহরের পর সেই রোযা না ভাঙ্গা।
৯। যদি কোনো রুগ্ন ব্যক্তি [নারী-পুরুষ উভয়ই] অথবা হায়েয বা নেফাসে আক্রান্ত ব্যক্তি [নিছক নারী] এসব কারণে রোযা না রেখে থাকেন এবং রমযান শেষ হওয়ার পূর্বেই মারা যান, তাহলে সেই রোযার কাযা করা ওয়াজিব নয়।
১০। কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রমযানের রোযা রাখতে না পারেন এবং আগামী রমযান পর্যন্ত তার অসুস্থ্যতা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা কাযা করা ওয়াজিব নয়। তবে তার উচিৎ হচ্ছে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ করে খাদ্যদ্রব্য ফকিরকে দেয়া। আর যদি অন্য কোনো কারণে [যেমন- সফর] রোযা না রেখে থাকেন এবং তা পরবর্তী রমযান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে এ রোযার কাযা করা জরুরী এবং এহতিয়াতে মুস্তাহাব হচ্ছে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ করে খাদ্যদ্রব্য ফকিরকে দেয়া।
১১। যদি কেউ রোগের কারণে রমযানের রোযা না রেখে থাকেন এবং রমযানের পর সুস্থ্যতা লাভ করেন, কিন্তু অপর কোনো সমস্যার কারণে পরবর্তী রমযান পর্যন্ত তার কাযা করতে না পারেন, তাহলে এ রোযার কাযা করা তার জন্যে উচিৎ। অনুরূপভাবে রমযান মাসে যদি কেউ রোগ ব্যতীত অপর কোনো কারণে রোযা রাখতে না পারেন এবং রমযানের পর সেটি দূরীভূত হয়ে যায়; কিন্তু রুগ্নতার কারণে পরবর্তী রমযান পর্যন্ত তার কাযা করতে না পারেন, তাহলে ফওত হওয়া রোযার কাযা করা তার জন্যে জরুরী।
১২। যদি কেউ কোনো কারণবশতঃ রমযান মাসে রোযা রাখতে না পারেন এবং রমযানের পর সেটি দূরীভূত হয়ে যায়; কিন্তু তিনি পরবর্তী রমযান পর্যন্ত সেই রোযার কাযা করতে না পারেন, তাহলে তাকে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ করে খাদ্যদ্রব্য ফকিরকে দিতে হবে।
১৩। কেউ যদি রোযার কাযা করতে গড়িমসি করার কারণে সময় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং এই সংকীর্ণ সময়ে যদি কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় তাহলে তাকে তা কাযা করার পাশাপাশি প্রতিটি রোযার জন্যে এক মুদ্দ করে খাদ্যদ্রব্য ফকিরকে দিতে হবে।
১৪। যদি কোনো ব্যক্তি কয়েক বছর পর্যন্ত অসুস্থ থাকার পর আরোগ্য লাভ করেন এবং পরবর্তী রমযান পর্যন্ত যদি সে রোযাগুলোর কাযা করার সময় অবশিষ্ট থেকে থাকে; তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে শেষ রমযানের রোযার কাযা করতে হবে এবং অপর বছরগুলোর প্রতিটি রোযার জন্যে তাকে এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ফকিরকে দিতে হবে।
১৫। যদি কাউকে রোযার পরিবর্তে কয়েক মুদ্দ পরিমাণ আহার ফকিরকে দিতে হয়ে তাহলে তিনি কয়েক দিনের কাফফারা একজন ফকিরকে দিতে পারেন।
১৬। যদি কোনো ব্যক্তি রমযানের রোযার কাযা করাকে একাধিক বছর বিলম্বিত করেন তাহলে তাকে তার কাযাও করতে হবে এবং প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্যও দিতে হবে।
১৭। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে যদি রমযানের রোযা না রাখেন তাহলে তাকে এর কাযা করতে হবে। এতদ্ব্যতীত প্রতিটি রোযার পরিবর্তে তাকে দুই মাস করে ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতে হবে অথবা ৬০ জন মিসকিন খাওয়াতে হবে কিংবা একজন কৃতদাস মুক্ত করতে হবে। আর যদি তিনি পরবর্তী রমযান পর্যন্ত এর কাযা না করেন তাহলে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে তাকে এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য দেওয়াও জরুরী।
১৮। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রমযানের কোনো রোযা না রাখেন এবং সে দিন এমন কাজও করেন যা রোযা বাতিল করে দেয়, [যেমন- একাধিকবার সহবাস করা] তাহলে তার জন্যে একটি কাফফারাই যথেষ্ট।
১৯। পিতার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলের উপর পিতার ফওত হওয়া নামায-রোযা কাযা করা ওয়াজিব; কিন্তু মাতার নামায-রোযা কাযা করা তার উপর ওয়াজিব নয়।
২০। কোনো মৃত পিতার উপর রমযান ব্যতীত অপর কোনো ওয়াজিব রোযা [যেমন- মান্নতের রোযা] থাকলে সেটিও বড় ছেলেকে কাযা করতে হবে। (সূত্র : রোযার আহকাম ও শবে কদরের আমল সংকলন: সৈয়দ মোঃ রেজা রাজাভী )
