ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পবিত্র রজব মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত

by Syed Yesin Mehedi

রজব মাস চন্দ্র মাসের সপ্তম মাস। আমাদের জানা উচিত যে, রজব, শাবান ও রমজান মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাস এবং এ মাসগুলির ফজিলত সম্পর্কে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। স্বয়ং রাসুল (সাঃ) থেকে রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যে, “রজব মাস হলো আল্লাহর বড় মাহত্বপূর্ণ মাস এবং অপরাপর কোন মাসই এ মাসের ফজিলত স্পর্শ করতে পারে না। কাফেরদের সাথে যুদ্ধ এ মাসে হারাম।” তিনি আরো বলেন, “রজব মাস আল্লাহর, শাবান মাস আমার এবং রমজান মাস হলো আমার উম্মতের মাস।
যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে সে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করবে এবং আল্লাহর আজাব থেকে দূরে থাকবে এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা তার প্রতি বন্ধ করে দেওয়া হবে।” হযরত ইমাম মুসা কাজিম (আ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, “যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা পালন করবে জাহান্নামের আগুন তার কাছ থেকে এক বছরের পথের সমান দূরে সরে যাবে আর যে ব্যক্তি তিন দিন রোজা রাখবে তার উপর বেহেশত ওয়াজিব হয়ে যাবে। পুন: তিনি এরশাদ করেন, রজব হলো বেহেশতের একটি স্রোতস্বিনী জলধারার নাম যা দুধের চেয়ে অধিক শুভ্র এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি। যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে অবশ্যই সে সেই স্রোতস্বিনীর পানি পান করবে।”
ইমাম জাফর সাদেক (আ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, “রজব মাস উম্মতের জন্য ক্ষমার মাস। সুতরাং এ মাসে বেশী বেশী গুনাহ থেকে ক্ষমা চাও কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অধিক ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।”
রজব মাসকে বরকতের মাসও বলা হয়। কেননা, আমার উম্মতের উপর রহমত এ মাসেই অধিক বর্ষিত হয়। রাসুল (সা.)-এর রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, “যে ব্যক্তি রজব মাসে ১০০ বার ‘আসতাগফেরুল্লাহি লা ইলাহা ইল্লা ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু ওয়া আতুবো ইলাইহী‘ অতঃপর সদ্বকা দান করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ক্ষমা প্রদর্শন করেন। আর যে ব্যক্তি উক্ত দোয়াটি ৪০০ বার পাঠ করবে আল্লাহ তাকে একশত শহীদের পুরস্কার দান করবেন। রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি রজব মাসে এক হাজার বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার নামের পাশে হাজারটি নেকী লিখবেন এবং বেহেশতে তার জন্য একশত শহর নির্মাণ করবেন। সৈয়দ ইবনে তাউস রেওয়ায়েত করেন, “যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখে এবং চার রাকাআত নামাজ আদায় করে যার প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার আয়াতুল কুরসী এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতেহার পর ২০০ বার সূরা তাওহীদ পাঠ করে সে ব্যক্তি ততক্ষণ মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেহেশতে তার ঘর নিজের চোখে অবলোকন না করে।” এ হাদীসটিও সৈয়দ তাউস মহানবী (সা.) থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন জোহর ও আসরের নামাজের মধ্যবর্তী সময় ৪ রাকআত নামাজ পড়ে, যার নিয়ম হলো প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতেহার পর আয়াতুল কুরসী সাতবার এবং সূরা তাওহীদ পাঁচবার পাঠ করে অতঃপর বলে ‘আসতাগফেরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া ওয়া আসআলুহুত তাওবাহ’ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেদিন থেকে সে নামাজ পড়ছে সেদিন থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত প্রতিদিন তার জন্য হাজার নেকী লিখবেন এবং প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে যা সে পাঠ করেছে বেহেশতে লাল ইয়াকুতের শহর তাকে দান করবেন এবং প্রত্যেক হরফের পরিবর্তে শ্বেত-শুভ্র দরজা বিশিষ্ট প্রাসাদ দান করবেন এবং তার বিবাহ হুরের সাথে সম্পাদন করাবেন। তার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন এবং তার নাম ইবাদতকারীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করবেন এবং তার সমাপ্তি সৌভাগ্য ও ক্ষমার দ্বারা হবে। এই মাসের বৃহস্পতিবার, জুমআ এবং শনিবার এই তিনদিন রোজা রাখা উচিত কেননা, রেওয়ায়েতে পাওয়া যায় যে, যে ব্যক্তি তিনটি মাস হতে যা হারাম মাস হিসেবে গণ্য, ঐ দিনগুলিতে রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তাকে ৯০০ বছরের ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। যে ব্যক্তি রজব মাসে জুমআর দিন ১০০ বার সূরা তাওহীদ পাঠ করবে তার জন্য কেয়ামতের দিন একটি বিশেষ নূর সৃষ্টি করা হবে যে নূর তাকে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাবে।
পবিত্র রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে সিয়াম পালন করার জন্য অধিক তাগিদ করা হয়েছে এবং এই রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সর্বমোট ১২ রাকাত নামায আদায় করার জন্য বলা হয়েছে।
নামাযের নিয়ম: দুই দুই রাকাত করে সর্বমোট ১২ রাকাত নামায আদায় করতে হবে যার প্রত্যেক রাকাতে একবার সুরা ফাতেহার পর ৩ বার সুরা ক্বদর এবং ১২ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔