প্রথম এবং দ্বিতীয় দফার কিছু অংশ মাসিক মেয়াদের মধ্যে যদি ঘটে এবং প্রথম দফার যে রক্ত মাসিক মেয়াদের মধ্যে ঘটেছ তা তিন দিনের কম না হয় আর মাঝখানের পাক হওয়া ও দ্বিতীয় দফার কিছু অংশ রক্তস্রাব যা মাসিক মেয়াদের মধ্যে ঘটেএছ তা দশদিনের বেশি না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সবটাই হায়েয ধার্য হবে। তবে প্রথম দফার যে অংশটুকু মাসিকের মেয়াদকালের আগে ঘটেছে এবং দ্বিতীয় দফায় যে অংশটুকু মাসিক মেয়াদকালের পরে ঘটেছে সেটা ইস্তিহাযা। যেমন তার মাসিক মেয়াদকাল মাসের ৩ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত আর সে যদি এক মাসে প্রথম থেকে ৬ষ্ঠ দিন পর্যন্ত রক্ত দেখে অতঃপর দুি দিন পাক হয়ে পরে ১৫ তারিখ পর্যন্ত রক্ত দেখে তাহলে ৩য় থেকে ১০ম তারিখ পর্যন্ত হায়েয আর প্রথম থেকে তৃতীয় এবং তদ্রুপভাবে দশম থেকে ১৫তম দিন পর্যন্ত ইস্তিহাযা ধার্য্য হবে।
৪। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা রক্তস্রাবের কিছু অংশ যদি মাসিকের মেয়াদকালের মধ্যে হয় কিন্তু প্রথম দফার যে রক্তস্রাব মাসিকের মেয়াদকালের মধ্যে ঘটেছে সেটা যদি তিন দিনের কম হয় তাহলে সেক্ষেত্রে উভয় দফার সকল রক্তস্রাব এবং মাঝখানে পাক হওয়ার দিনগুলোতে যেসব কাজ হায়েয ব্যক্তির জন্য হারাম (পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) সেগুলোকে বর্জন করবে এবং ইস্তিহাযা ব্যক্তির করণীয়গুলো পালন করবে। অর্থাৎ মুস্তাহাযা মহিলার জন্য যে নিয়ম বলা হয় যে নিয়মে ইবাদতসমূহ পালন করবে। (তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৮৩)
যে মহিলা ওয়াক্তীযা এবং আদাদীয়া মাসিকের অধিকারিনী সে যদি ১০ দিনের বেশি রক্ত দেখবে এমনকি তার মধ্যে যদি হায়েযের লক্ষণও বিদ্যমান না থাকে তবুও সেটা হায়েয ধার্য হবে। আর মেয়াদকালের পরে যে রক্ত দেখবে সেটা এমনকি যদি হায়েযের লক্ষণসম্পন্ন হয়েও থাকে তবুও তা ইস্তিহাযা ধার্য্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, যে স্ত্রীলোকের মেয়দকাল মাসের প্রথম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত সে যদি প্রথম থেকে ১২তম দিন পর্যন্ত রক্ত দেখে তাহলে তার প্রথম সাত দিন হায়েয এবং পরবর্তী ৫ দিন ইস্তিহাযা ধার্য্য হবে। (তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৮৬)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
