১। যেসকল ইবাদত ওজু গোসল কিম্বা তায়াম্মুমের সাথে সম্পাদন করতে হয় সে সকল ইবাদত মাসিককালীন অবস্থায় মহিলাদের জন্যে হারাম। যেমনঃ নামাজ, রোজা, তাওয়াফ, এতেকাফ। কিন্তু নামাযের মাইয়্যেত (জানাজার নামাজ) এর ব্যতিক্রম। তবে যে সকল নামায ও রোজা তরক হয়, মাসিককালীন অবস্থা অতিক্রম করলে সেগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র রোজাসমূহের ক্বাজা আদায় করতে হয়। আর দৈনিক নামাযসমূহের ক্বাজা আদায় করার প্রয়োজন নেই। (তৌযিহুল মাসায়েল, মাঃ ৪৫১, তাহরীরুল উসিলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৯, মাঃ ১১)
স্মর্তব্য :
যখনই নামাযের ওয়াক্ত উপস্থিত হয় এবং কোন মহিলা জানে যে যদি নামায পড়তে বিলম্ব করে তবে মাসিক শুরু হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে তাকে দ্রুত নামায আদায় করতে হবে।
যদি নামাজের ওয়াক্তের (ওয়াক্তের শুরু) থেকে মাসিক শুরু হয় তাহলে দৈনিক নামাজসমূহের ক্বাজা আদায় করা জরুরী (ওয়াজিব) নয়। কিন্তু নামাজের ওয়াক্তের এমন কিছু সময় পরে যদি মাসিক শুরু হয় যে সে ঐ সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করতে পারত কিন্তু সে আদায় করেনি তাহলে অবশ্যই তাকে ক্বাজা আদায় করতে হবে। যেমন : আট রাকাআত পরিমাণ নামায আদায়ের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি দুপুরের দিকে তার মাসিক শুরু হয় তাহলে দুটি নামাযের (যোহর ও আসর) প্রত্যেকটি তাকে ক্বাজা আদায় করতে হবে। আর যদি চার বাকআত পরিমাণ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মাসিক শুরু হয় তাহলে কেবলমাত্র যোহর নামাজের ক্বাজাই আদায় করতে হবে। (মুসাফিরের জন্য তার ওজীফা মোতাবেক যোহরের প্রথম থেকে দু’রাকআত পরিমাণ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার সময়টুকু হিসাব হবে) (তাহরীরুল উসিলা, খঃ ১, পৃঃ ৫২, মাঃ ১১, আহকামে হায়েয)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
