ইমাম নিযুক্ত করা শুধুমাত্র আল্লাহর অধিকার

by Syed Yesin Mehedi

সমগ্র সৃষ্টিজগতের একচ্ছত্র অধিপতি হলেন আল্লাহ্, সকলেই শুধুমাত্র তাঁরই আনুগত্য করবে, সুতরাং এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, এই কর্তৃত্ব আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞানুযায়ী যে কাউকে দান করতে পারেন। ঠিক যেমন নবীগণ আল্লাহ্ কর্তৃক নির্বাচিত হন, তেমনি ইমামও ঐশী নির্দেশে জনগণের নেতৃত্ব লাভ করেন।
শিয়া মতাদর্শ অনুযায়ী, ইমাম ও নবী-পরবর্তী নেতৃত্ব শুধুমাত্র আল্লাহ্র নির্দেশ ও নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, নবী কর্তৃকই তাঁর পরবর্তী ইমাম পরিচিতি করিয়ে দেওয়া হয়। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
ইমাম নিযুক্তির ঐশী নির্দেশনার যৌক্তিকতা
ক) কুরআনের বাণী অনুসারে, সার্বভৌম কর্তৃত্ব শুধুমাত্র আল্লাহ্র জন্য। সুতরাং এ কর্তৃত্ব তিনি যাকে ইচ্ছা দান করতে পারেন। যেমনিভাবে নবী আল্লাহ্ কর্তৃক নির্বাচিত, ইমামও তাঁরই নির্দেশে নেতৃত্বপ্রাপ্ত হন।
খ) ইমামের জন্য অপরিহার্য গুণাবলী যেমন, ইসমাত (নিষ্পাপতা), অগাধ জ্ঞান ইত্যাদি শুধুমাত্র আল্লাহ্ই পূর্ণভাবে জানেন। মানুষের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য বিষয়ে পূর্ণজ্ঞান রাখেন একমাত্র তিনি।
কুরআনের দৃষ্টান্ত
– ইব্রাহিম (আ.)-কে আল্লাহ্ বলেন,
“নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের ইমাম (নেতা) নিযুক্ত করলাম।” (সূরা বাকারা, ১২৪)
– আদম (আ.) সম্পর্কে,
“আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করতে যাচ্ছি।” (সূরা বাকারা, ৩০)
– দাউদ (আ.)-কে বলা হয়,
“হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা নিযুক্ত করেছি, সুতরাং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার কর।” (সূরা সাদ, ২৬)
– মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি,
“হে নবী! আমি তোমাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।” (সূরা আহযাব, ৪৫)
– অন্য আয়াতে,
“আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম নিযুক্ত করেছি, যারা আমার নির্দেশে হিদায়াত দান করে, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল এবং আমার নিদর্শনসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।” (সূরা সাজদা, ২৪)
সুতরাং, এটা নির্দ্বিধায় ঐশী নেতা বা ইমাম নির্বাচন আল্লাহ্র একান্ত অধিকার।
ইমাম রেজা (আ.)-এর জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য
ইমাম রেজা (আ.) ইমামতের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
“… মানুষ কি ইমামতের মর্যাদা ও সমাজে তার অবস্থান বোঝে যে, তারা নিজেরা ইমাম নির্বাচনের অধিকার রাখে? নিশ্চয়ই ইমামত এত উচ্চ মর্যাদার যে, মানুষের বুদ্ধি বা মতামত দিয়ে তা অর্জন সম্ভব নয়।
ইমামত হলো ইসলামের প্রবৃদ্ধিশীল মূল ও তার সুউচ্চ শাখা। ইমামের মাধ্যমেই নামায, রোযা, হজ্জ, জিহাদ, যাকাত, সীমারক্ষা ও আল্লাহ্র বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমামই আল্লাহ্র হালাল-হারাম নির্ধারণ করেন, তাঁর ধর্ম রক্ষা করেন এবং হিকমত ও যুক্তির মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথে ডাকেন।
ইমাম তাঁর যুগের একক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়। তিনি আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত, কোনো মানুষের পক্ষে তাঁকে চেনা বা নির্বাচন করা সম্ভব নয়…” (উসুলে কাফি, খন্ড ১, পৃ. ১৯৮)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔