ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর বিভিন্ন বক্তব্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার গুরুত্ব এবং জাতীয় উন্নয়নে তার ভ‚মিকা সম্পর্কে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের সংকলন করা হয়েছে। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানকে জাতীয় অগ্রগতি ও ক্ষমতার মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান নৈতিকতা, বিশ্বাস এবং দেশের প্রকৃত চাহিদার সাথে সংযুক্ত হয়, তখন তা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। তিনি বিজ্ঞানকে জিহাদ, মর্যাদা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের পথে একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর (হাফি.) জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার উপর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ উপস্থাপন করা হলো:
১. “নিঃসন্দেহে জ্ঞানই সভ্যতার ভিত্তি।” (২২ এপ্রিল ২০০৩)
২. “জ্ঞান-বিজ্ঞান একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।” (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২)
৩. “একটি জাতির জন্য জ্ঞানই সম্মান, অগ্রগতি ও শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।” (১১ নভেম্বর ২০১৫)
৪. “বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্বই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও আত্মবিশ্বাসে অগ্রগতির রহস্য।” (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)
৫. “জ্ঞানকে নৈতিকতা ও বিশ্বাসের সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে আমরা পশ্চিমা বিশ্বের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি না করি।” (১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬)
৬. “ধর্ম ও নৈতিকতার সাথে যুক্ত হলে জ্ঞানই মানবতার জন্য কল্যাণকর। নৈতিকতা বিচ্ছিন্ন জ্ঞান মানবতার কোনো উপকারে আসবে না।” (১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬)
৭. “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য জ্ঞানার্জন ও এর জাতীয় প্রভাব একটি মৌলিক বিষয়।” (১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬)
৮. “আমাদের পূর্ণমাত্রায় জ্ঞানার্জনকে জিহাদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।” (২১ মার্চ ২০০৬)
৯. “নতুনত্ব, বৈজ্ঞানিক সাহস, ব্যক্তিগত ও জাতীয় আত্মবিশ্বাস এবং নিবিড় প্রচেষ্টাই আমাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চাবিকাঠি।” (৫ অক্টোবর ২০০৬)
১০. “বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির তিন শর্ত: আত্মবিশ্বাস, সাফল্যের আশা ও জিহাদী মনোভাব।” (২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮)
১১. “জ্ঞান ভোক্তার মানসিকতা থেকে জ্ঞান উৎপাদকের মানসিকতায় রূপান্তরিত হতে হবে।” (১০ জুন ২০১৮)
১২. “গবেষণা দুটি উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত: বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং জাতীয় সমস্যার সমাধান।” (১০ জুন ২০১৮)
১৩. “যে বৈজ্ঞানিক সীমানা মানবজাতি এখনো অতিক্রম করতে পারেনি, সেদিকেই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।” (৫ অক্টোবর ২০০৬)
১৪. “আমাদের এমন অবস্থানে পৌঁছতে হবে যেখানে বৈজ্ঞানিক তত্ত অনুসন্ধানকারীদের ফার্সি ভাষা শিখতে হবে।” (৩ মে ২০০৫)
১৫. “শুধু তাত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; জ্ঞানকে প্রযুক্তিতে, প্রযুক্তিকে শিল্পে এবং শিল্পকে জাতীয় উন্নয়নে রূপান্তর করতে হবে।” (২১ মার্চ ২০০৬)
১৬. “গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং জাতীয় প্রয়োজন মেটানোর দিকে পরিচালিত করতে হবে।” (২৯ আগস্ট ২০০৯)
১৭. “গবেষণার লক্ষ্য: বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব অর্জন এবং জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা।” (১০ জুন ২০১৮)
১৮. “জ্ঞান ছাড়া কিছুই নেই; আর বিদেশী প্রযুক্তি নির্ভরতা মিথ্যা অর্জন।” (১ ডিসেম্বর ২০০৪)
১৯. “জ্ঞানীদের সম্মান প্রদর্শনই জ্ঞান বিস্তারের সর্বোত্তম পদ্ধতি।” (২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮)
২০. “যারা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে রাখতে চায়, তারা শত্রুর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।” (৪ জুন ২০০৬)
এই পরামর্শগুলো আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় অগ্রগতি অর্জনের জন্য একটি পথনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।
299
